Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label জালিয়াত. Show all posts
Showing posts with label জালিয়াত. Show all posts

Sunday, July 24, 2011

 চিনি নেই, গুড়ের দাম বাড়ালেন ব্যবসায়ীরা

সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পর খোলাবাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পর খোলাবাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতাদের প্রশ্নের জবাব এড়াতে দোকানি ‘চিনি নাই’ লিখে রেখেন। গতকাল ছবিটি রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকা থেকে তোলা
ছবি: প্রথম আলো
বাজার থেকে চিনি এখনো উধাও। চিনির বিকল্প হিসেবে আছে গুড়। কিন্তু এখানেও ব্যবসায়ীদের কারসাজি। রাতারাতি গুড়ের দাম কেজিপ্রতি বাড়ানো হয়েছে ১৫ টাকা। আর চিনি ও গুড়ের এই বাজারে সংকটে পড়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।
তিন দিন হয়ে গেলেও চিনির সংকট মেটেনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল শনিবার বাজারে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ভরসা এখন আজ রোববারের একটি বৈঠক। চিনিসহ নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের বিকেলে বৈঠকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, চিনির মতোই অবস্থা খোলা সয়াবিন তেলের। বাজারে এটিও খুব একটা মিলছে না। তবে যেসব দোকানে খোলা সয়াবিন পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে চার থেকে পাঁচ টাকা বেশিতে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
সরকারের বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী, খুচরা দোকানগুলোতে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১০৯, পাম তেল ৯৯ ও চিনি ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার কথা। গত বুধবার সরকারি পর্যায়ে এই দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকেই চরম অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার।
গুড়ের দামও চড়া: বাজারে চিনির সংকট চলায় অনেক ক্রেতারই নজর ছিল গুড়ের দিকে। এই সুযোগে গুড়ের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারে গতকাল আখের গুড় ৭০ থেকে ৮০ ও খেজুরের গুড় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাঁচ-ছয় দিন আগেও তাঁরা আখের গুড় ৬০ আর খেজুরের গুড় ৬৫ টাকায় বিক্রি করতেন।
হঠাৎ গুড়ের দাম কেন বাড়ল—জানতে চাইলে বিক্রেতা মো. ছালেহ বলেন, ‘রাজশাহী ও নাটোরের পাইকারি বাজার থেকেই আমাদের গুড় কিনতে হচ্ছে ৬৮ থেকে ৬৯ টাকায়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে আমাদের কী করার আছে।’ তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ, চিনির দাম বাড়ার কারণে সুযোগ বুঝে পাইকারি ব্যবসায়ীরা গুড়ের দাম বাড়িয়েছেন।
চিনির দেখা মেলা ভার: রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজারের চারটি দোকান ঘুরে গতকাল একটিতে চিনির দেখা মেলে। ক্রেতা সেজে দাম জানতে চাইলে দোকানি বললেন, কেজি ৭৫ টাকা। এত বেশি কেন? জবাবে তাঁর উত্তর, ‘যান, দেখেন এর কম দামে চিনি পান কি না।’
গতকালও কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে চিনি দেখা যায়নি। দোকানিরা জানান, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে নতুন করে চিনি আনেননি তাঁরা।
তবে কারওয়ান বাজার ঘুরে দুটি দোকানে দেশি চিনি দেখা গেছে। দেশি হলেও এই চিনির দাম কিন্তু কম নয়, পাক্কা ৭৫ টাকা কেজি।
ব্যবসায়ীদের আশ্বাস: যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও এর আশপাশে ৮০ হাজার টন চিনি রয়েছে। আরও সাড়ে তিন লাখ টন চিনি আসছে। শিগগিরই চিনির সংকট কেটে যাবে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের ২৯০ জন পরিবেশককে ৬০ টাকা করে চিনি দিচ্ছি, যেন তারা সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করতে পারে। কাল থেকে সবাই হাতের নাগালে চিনি পাবেন।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশবন্ধু গতকাল মন্ত্রণালয়কে বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি গতকাল রাজধানীতে তাদের নয়জন পরিবেশককে ১৬০ মেট্রিক টন চিনি সরবরাহ করেছে। চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ মন্ত্রণালয়কে বলেছে, তাদের ৭৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি দেশে আসার অপেক্ষায় আছে। আরেক পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম বলেছে, চট্টগ্রামে তারা লালসালু টাঙিয়ে সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করবে।
চিনির অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকেই মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এর জন্য পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে আসছেন। তবে গোলাম মোস্তফা বলেন, মিলগেট থেকে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় চিনি বিক্রি করা হচ্ছে। তাহলে কেন ওই চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি করা হবে? পরিবেশক-প্রথা যেন কার্যকর হতে না পারে সে জন্যই পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ কাজ করছেন।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকটি দল গতকালও মৌলভীবাজারে অভিযান চালান। অভিযান শেষে আদালত পরিচালনাকারীরা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম মুর্তজা রেজা চৌধুরীর কাছে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীরা আদালতকে বলেছেন, তাঁরা এখন থেকে সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করবেন। আর যেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা না হয়।
খোলা সয়াবিনও মিলছে না: রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা ঘুরে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা যায়নি। হাতিরপুল বাজারের দু-তিনটি দোকানে খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১১২ টাকা লিটারে। তবে কারওয়ান বাজারের অনেক দোকানেই খোলা সয়াবিন বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১২ টাকায়।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৫ টাকায় খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা: রাজধানীর মিরপুর, বারিধারা ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জন খুচরা ব্যবসায়ীকে এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দুটি দল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তাঁরা ক্রেতাদের কাছে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি করছিলেন। পাশাপাশি কয়েকটি রেস্টুরেন্ট নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও বিতরণ করছিল।
অধিদপ্তরের দুই উপপরিচালক মো. রেজাউল করিম শেখ ও মো. মনিরুজ্জামান অভিযান পরিচালনাকারী দল দুটির নেতৃত্ব দেন।

Tuesday, July 5, 2011

 কাজ না করেই ১৩ প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ



বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের এসব প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। তাঁরা কোথাও কোথাও নামে মাত্র এবং বেশ কয়েকটি স্থানে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-১ নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক গৌরনদী উপজেলার জন্য ২০১০-১১ অর্থবছরে কাবিটার ১৩টি প্রকল্পে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণ শুরু হয় মে মাসে। গত ৩০ জুন প্রকল্পের সভাপতিরা টাকা তুলে নেন।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে চলছে হরিলুট। প্রকল্পের সভাপতিরা সড়ক সংস্কারের নামে তাঁদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। রাস্তার মাটি রাস্তায় ফেলে পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছেন।
বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী রাস্তার ওপরের অংশে প্রস্থ ১২ ফুট, দুই পাশে ঢাল ২৪ ফুট, উচ্চতা চার ফুট থাকার কথা। সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ওই পরিমাপে কোনো রাস্তা পাওয়া যায়নি।
মাহিলাড়া ইউনিয়নের বেজহার কুব্বত সরদারের বাড়ির ব্রিজ থেকে গুয়াবাড়িয়া হয়ে কেবলারভিটা পর্যন্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্পে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় (প্রকল্প নম্বর ৩)। মাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম মৃধা এ প্রকল্পের সভাপতি। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। শ্রমিকেরা রাস্তার উঁচু স্থানের মাটি অপসারণ করে নিচু স্থানে দিচ্ছেন।
প্রকল্প এলাকার বেজহার গ্রামের আবদুর রহমান ও শরীফাবাদ গ্রামের গফুরসহ কয়েকজন জানান, প্রকল্পের প্রায় এক কিলোমিটারে কোনো কাজ করা হয়নি। রাস্তায় মাঝেমধ্যে উঁচু স্থানের মাটি কেটে নিচু স্থানে ফেলে সমান করা হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে সামান্য কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এ রাস্তায় এক লাখ টাকাও ব্যয় করা হয়নি।
প্রকল্পের সভাপতি মো. আবুল কালাম মৃধা বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আমি সঠিকভাবেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।’
বাটাজোর ইউনিয়নের জয়শুরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঘেয়াঘাট হয়ে শাহী মসজিদের পাশ দিয়ে সিঅ্যান্ডবি পর্যন্ত রাস্তা এবং বাটাজোর সিঅ্যান্ডবি থেকে আনন্দ সমাদ্দারের বাড়ি হয়ে মোল্লাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১ নম্বর প্রকল্পের আওতাধীন এ কাজ বাস্তবায়নে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রব হাওলাদার। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, রাস্তা চাঁচা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। নামে মাত্র কাজ করে পুরো প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আবদুর রব হাওলাদার বলেন, অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। প্রকল্পের ডিজাইন অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বার্থী ইউনিয়নের মহব্বত আলী মেম্বারের বাড়ি থেকে উত্তর মাদ্রা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার (প্রকল্প নম্বর ১০) প্রকল্পের সভাপতি ছাত্রলীগের নেতা সোহাগ হাওলাদার। রাজাপুর ব্রিজের গোড়া থেকে মৈস্তারকান্দি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার (প্রকল্প নম্বর ৮) করেন বার্থী ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নিতাই মণ্ডল। এ দুটি প্রকল্পে সাড়ে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, এ রাস্তায় তেমন কোনো কাজ হয়নি। রাস্তার মাটি এক স্থান থেকে কেটে অন্য স্থানে ফেলা হয়েছে। সোহাগ ও নিতাই মণ্ডল রাস্তায় সংস্কারের কাজে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন।
গৌরনদীর পিআইও মো. কবির উদ্দিন বলেন, প্রথম দিকে কাজের মান কিছুটা খারাপ ছিল, পরে তা সংশোধন করা হয়। বর্তমানে তেমন কোনো সমস্যা নেই।

Monday, July 4, 2011

 দলিল জালিয়াতি ও তথ্য লোপাটের চক্র


ঢাকার ১০টি ভূমি সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে আমমোক্তারনামার নিবন্ধন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়মিত ব্যাপার। জালিয়াতির কারণে মামলার সংখ্যাও অনেক। জালিয়াতির আরেক বড় ক্ষেত্র জেলার একমাত্র মহাফেজখানাটি।
নিবন্ধনের তথ্যপ্রমাণ থাকে মহাফেজখানায়। সুরক্ষা ও সংরক্ষণের অভাবে সেখান থেকে নিবন্ধনের তথ্য গায়েব হয়ে যাচ্ছে। দলিলের অবিকল নকল তোলা ও জমি কেনাবেচার সময় তথ্য যাচাই করতে মানুষ মহাফেজখানার দ্বারস্থ হয়। তখন ভোগান্তি ও খরচ লেগেই থাকে।
ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা বলেন, এ চিত্র পুরো দেশেই এক রকম।
আমমোক্তারনামা দলিল জালিয়াতি: মূল মালিক অন্য কোনো ব্যক্তিকে জমির তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা দেওয়ার জন্য আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দলিল তৈরি করে থাকেন। বিদ্যমান আইন অনুসারে আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি করতে কোনো ধরনের ছবি বা দালিলিক প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
সাব-রেজিস্ট্রাররা জানান, আইনগত এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসগুলোতে ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি হচ্ছে। ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এক উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসেই নয়টি ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল চিহ্নিত হয়েছে।
ভূমি নিবন্ধন অফিস ডিজিটালকরণ কমিটির পরামর্শক ও ভূমি নিবন্ধন অফিসের সাবেক পরিদর্শক নারায়ণচন্দ্র দাশ বলেন, আইনি দুর্বলতার সুযোগে সারা দেশে প্রচুর ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি হচ্ছে। জালিয়াতেরা দখল করে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের জমি। অন্যের জমি দখল করে বহুতল ভবন বানাচ্ছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে হাজার হাজার মামলাও রয়েছে। তিনি আরও জানান, একজন সাব-রেজিস্ট্রার একবার ভুলভাবে কোনো জমি নিবন্ধন করলে তা শুধরানোর সুযোগ তাঁর নেই। এ নিয়েও সারা দেশে প্রচুর মামলা হচ্ছে।
অরক্ষিত মহাফেজখানা: সাধারণত জমি নিবন্ধন হয়ে থাকে সাব-রেজিস্ট্রারের কক্ষে। এরপর নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় নিবন্ধন বইয়ে। যেকোনো নিবন্ধন বই এক বছর সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে থাকার পর তা সংরক্ষণের জন্য মহাফেজখানায় পাঠানো হয়। জমিজমাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের ভরসা এই মহাফেজখানা।
ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও ডিজিটালকরণ-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এই মহাফেজখানা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত নিবন্ধন বইগুলো বহু ব্যবহারে বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু, অপাঠ্য ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ জন্য তল্লাশিতে সময় ব্যয় হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
দলিলের তথ্য গায়েব: মহাফেজখানা সূত্র জানায়, তল্লাশি করতে গেলে মাঝেমধ্যেই সংরক্ষিত নিবন্ধন বইয়ের পাতা ছেঁড়া পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের ধারণা, জালিয়াত চক্র এসব করছে।
সম্প্রতি মহাফেজখানার ১৬৫ নম্বর নিবন্ধন বইয়ের ২৩১ থেকে ২৩৬ ও ১৩৯ থেকে ২৪৮ নম্বর পৃষ্ঠা এবং ১১৫ নম্বর বইয়ের ৫১ থেকে ৫৪ নম্বর পৃষ্ঠা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। এরপর সাব-রেজিস্ট্রার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কারওয়ান বাজারের ১২৮ নম্বর খতিয়ানের (সিএস দাগ ৯৪, ৯৫, ৯৬) ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ জমির মালিক একই এলাকার বাসিন্দা রাবিয়া খানম। খায়রুন্নেসা, ওয়াহিদা ইয়াসমীন, আবুল বাশার ও আবু তালেব মিয়া নামের চার ব্যক্তি নিজেদের এই জমির মালিক দাবি করে ভুয়া দলিল করেন। ভুয়া দলিলকে মূল দলিল হিসেবে প্রমাণ করার জন্য মহাফেজখানায় সংরক্ষিত মূল দলিলের তথ্য নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
গত ১৬ মে ভুয়া দলিলধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
সম্প্রতি ১৯৭৭ সালের ১০ নম্বর নিবন্ধন বইয়ের ৯১ থেকে ৯৪ নম্বর পৃষ্ঠাও ছেঁড়া পাওয়া গেছে। গত ১৫ মে সাভারের জ্যেষ্ঠ সহকারী হাকিমের (দেওয়ানি মামলা ৫৯৫৭/২০০৮) আদালত থেকে এ নিবন্ধন বইটি তলব করা হয়। কিন্তু যে জমি নিয়ে মামলা, সে তথ্যসম্পর্কিত পৃষ্ঠাগুলো ছিল না। এ-সম্পর্কিত সূচিবইও নষ্ট হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ১৯ জুন জমির মালিকানা নির্ধারণের জন্য মহাফেজখানা থেকে এ-সম্পর্কিত টিপবইটি আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা বড় লোভনীয়: গত ২১ জুন ঢাকার ভূমি নিবন্ধন অফিসের মহাফেজখানায় দলিলের নকল পাওয়ার নিশ্চয়তা না পেয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেন নুরুল ওহাব। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাঙ্গালগাঁও গ্রামে। তিনি জানান, তাঁর বাবা মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ থেকে ’৭৬ সালের কোনো একসময়ে প্রায় এক বিঘা জমি কিনেছিলেন। সে সময়ে নিবন্ধন হলেও জমির নামজারি হয়নি।
সম্প্রতি তাঁর ঘর থেকে সেই জমির মূল দলিল চুরি হয়ে গেছে। এর পর থেকেই কিছু ব্যক্তি নিজেদের ওই জমির মালিক দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মহাফেজখানার তল্লাশিকারক সচিন্দ্র চন্দ্র সাহা জানান, ১৯৭৪ থেকে ’৭৬ সালের নিবন্ধনের সূচিবই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর তথ্য খুঁজে বের করা দুরূহ কাজ।
গত ২৫ জানুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকারকে ঢাকার মহাফেজখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ঢাকা এবং এর আশপাশের জমির দাম লোভনীয় বলেই ঢাকার মহাফেজখানাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু জালিয়াত চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মূলত মহাফেজখানাটি দীর্ঘ সময় অরক্ষিত থাকায় এই চক্রটি জাল দলিল করে মহাফেজখানা থেকে মূল দলিল গায়েবের কাজটি করে যাচ্ছে।
মহাফেজখানাতেও মধ্যস্বত্বভোগী! মহাফেজখানাকে কেন্দ্র করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও রয়েছে। মহাফেজখানা থেকে দলিলের তথ্য খুঁজে বের করেন তল্লাশিকারকেরা। নকলনবিশেরা সেটার নকল তৈরি করেন। জেলা অফিসের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৩০ হাজার ২৫৭টি দলিলের নকল সরবরাহ হয়েছে। এ হিসাবে ১০টি অফিস থেকে প্রতিদিন ২০০টির বেশি দলিলের নকল সরবরাহ হয়ে থাকে।
কিন্তু সরকারি ফির বাইরে সাধারণত দুই হাজার টাকার নিচে ঢাকার মহাফেজখানার তল্লাশিকারকেরা নিবন্ধন বইয়ে হাত দেন না। কলম খোলেন না নকলনবিশও। অথচ জমি নিবন্ধনের তথ্য তল্লাশির জন্য সরকারি ফি প্রতিবছরের জন্য ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ৮০ টাকা। তল্লাশিকারকের প্রতিদিনের ফি তিন টাকা। দলিলের নকলের জন্য সরকারি ফি প্রতি ৩০০ শব্দে নয় টাকা এবং নকল লেখার জন্য নকলনবিশের সরকার-নির্ধারিত ফি প্রতি পাতা ১৫ টাকা।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা আসিফুর রহমান তমাল (২২) জানান, তিনি ১৯৯৬ সালের একটি দলিলের নকল তুলেছেন পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে। তল্লাশিকারক রুবেল মিয়া ১৯৬৩ সালের একটি দলিলের (নম্বর ৪৮৮৩) নকল সরবরাহের জন্য এই প্রতিবেদকের কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন।
যবে হবে, তবে ঘুচবে: ভূমি নিবন্ধন অফিসের দুর্ভোগ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, যুগোপযোগী আইনের অভাবে ভূমি নিবন্ধন অফিসে অব্যাহতভাবে জনদুর্ভোগ, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতি ঘটনা ঘটে থাকে। সবচেয়ে বেশি ত্রুটিপূর্ণ হলো আমমোক্তারনামা আইন। যে কারণে সরকার আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, ভূমি নিবন্ধনের জটিলতা দূর করতে নিবন্ধন-পদ্ধতি ডিজিটাল করার বিকল্প নেই। এ জন্য ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সূচি, মূল নিবন্ধন বই ও টিপবইয়ের প্রতিচ্ছবি (স্ক্যান করা কপি) ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। দলিলের ফরম অনলাইনে পাওয়া যাবে। ক্রেতা নিজেই সেই দলিল লিখতে পারবেন। এ জন্য কোনো দলিল লেখকের প্রয়োজন হবে না।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More