Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label মূল্যবৃদ্ধি. Show all posts
Showing posts with label মূল্যবৃদ্ধি. Show all posts

Friday, July 29, 2011

ছোলার বাজার এখনো চড়া

পবিত্র রমজানে অপরিহার্য পণ্য ছোলার দাম এখনো চড়া। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে চিনি ও ভোজ্যতেলের অস্থিরতা কাটলেও ছোলার বাজারে তার ছাপ নেই।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে ছোলার দাম কমেছে, কিন্তু তার কোনো লক্ষণ খুচরা বাজারে দেখা যাচ্ছে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ছোলার চড়া দাম দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা সাধারণ মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর মিয়ানমারের অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের ছোলার দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশই (টিসিবি) বলছে, গত এক মাসেই ছোলার দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে সাড়ে তিন মাস আগেও ছোলার দাম ছিল মাত্র ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এখন অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা সাধারণ মানের ছোলার আমদানি ব্যয় পড়ে কেজিতে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা। মিয়ানমার থেকে আনা ছোলা সাড়ে ৫৮ থেকে সাড়ে ৫৯ এবং ইথিওপিয়া থেকে আমদানি করা ছোলার খরচ পড়ছে ৪৯ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫৩ টাকা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ছোলা চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। মিয়ানমারের ছোলা ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। আর ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার ছোলা ৬৫ থেকে ৭০ এবং মিয়ানমারের ছোলা ৮৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কেন ছোলার বাজারের এই অবস্থা, সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে আমদানিকারকেরা বললেন সরবরাহের ঘাটতির কথা। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকেরা বলেন, শুধু রমজানেই দেশে ছোলার চাহিদা ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টন। কিন্তু গত পাঁচ মাসে ছোলা আমদানি হয়েছে মাত্র ৬৭ হাজার টন। এর বেশির ভাগই আবার বিক্রি হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, গত বছরের জুনে ছোলা আমদানি করা হয়েছিল ৪৫ হাজার টন। এ বছরের জুনে আমদানি হয়েছে মাত্র নয় হাজার টন। এর কারণ হিসেবে ওই সূত্র বলছে, বাংলাদেশে ছোলা আমদানির প্রধান উৎস (৯৫ শতাংশ) অস্ট্রেলিয়ায় বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো মানের ছোলার অভাব দেখা দিয়েছে। দামও বেড়েছে। এ কারণে দেশেও ছোলার দাম বেশ চড়া।
চলতি মাসে নয় হাজার ১৬৯ টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। তবে আগামী দুই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া, ইথিওপিয়া ও মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ ছোলা আমদানি হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকারিতে কমেছে: গতকাল রাজধানীর রহমতগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ডালপট্টিতে সাধারণ ছোলা পাইকারি ৫৮ থেকে ৬০ এবং উন্নতমানেরটি সর্বোচ্চ ৭১ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই ধরনের ছোলাতেই কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা দাম কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দাম আরও কম। সেখানে সাধারণ ছোলা ৫৩ ও উন্নতমানের ছোলা ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল বশর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাধারণ মানের ছোলা ৫৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী এর চেয়েও কম দামে বিক্রি করছেন।
‘নারায়ণগঞ্জ জেলা ডাল ভুষা মাল ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপ’-এর নির্বাহী পরিচালক ও বেঙ্গল ট্রেডার্সের মালিক বিকাশ চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামে ডাল আমদানিকারকদের ওপর সরকারি নজরদারি বাড়ানোর কারণে ছোলার দাম কমে এসেছে।
বন্দরনগরে দাম কম হলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন নেই কেন জানতে চাইলে একজন আমদানিকারক বলেন, তাঁরা খুব বেশি লাভে ছোলা বিক্রি করছেন না। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারাই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। পাইকারেরা বলছেন, ছোলার দাম কমেছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা দিচ্ছেন পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কেনার অজুহাত।
তবে সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই একটি বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন। তা হলো রোজার বাড়তি চাহিদা বুঝে অতিরিক্ত মুনাফা করার মানসিকতা থেকেই দাম বাড়ানো হচ্ছে পণ্যটির।

ব্যবসায়ীরা তো দেখি বেশ বোকা!

প্রতিবছর রমজান মাস আসার আগে যখন জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে, তখন সবাই বলাবলি করতে থাকেন, ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। এর মানে হলো, ব্যবসায়ীরা চাইলেই জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারেন এবং তাঁরা আর কোনো মাস নয়, শুধু রমজান মাসটাকেই বেছে নেন দাম বাড়ানোর জন্য। যদিও তাঁরা জানেন, এ মাসের অনেক আগে থেকেই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকার অনেক সতর্কতামূলক কথা বলতে থাকে, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এ সময় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে শোরগোল তোলে এবং এর পরও তাঁরা এই সংবেদনশীল সময়টাকেই বেছে নেন দাম বাড়ানোর জন্য।
ব্যবসায়ীরা যদি ইচ্ছা করেন কোনো দ্রব্যের দাম ভবিষ্যতে বাড়বে, তাহলে দেখা যায়, সেটি এখন থেকেই বাড়া শুরু করে। কারণ, ব্যবসায়ী ওই মুহূর্ত থেকে দ্রব্যটির সরবরাহ কমিয়ে দেবে ভবিষ্যতে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য। তাই রমজান মাসে যদি আশা করা হয় কোনো জিনিসের দাম বাড়বে, তাহলে এর দাম আগে থেকেই বাড়বে। তাহলে ব্যবসায়ীরা কেন প্রত্যাশা করেন, রমজান মাসে পণ্যের দাম বাড়বে? যদি আমরা ধরে নিই, ওই দ্রব্যের সরবরাহজনিত কোনো সমস্যা নেই, তাহলে দামটা বেড়েছে চাহিদা বাড়ায়। চাহিদা আর সরবরাহের বিশ্লেষণ একটু জটিল হওয়ায় অনেক বিশ্লেষক সেদিকে না গিয়ে সোজাসুজি ‘সিন্ডিকেট থিওরি’ প্রয়োগ করেন। তাঁরা বলতে চান, ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছেন।
সিন্ডিকেটকে অর্থনীতির পরিভাষায় বলা হয় কার্টেল। এ ধরনের কার্যকলাপ প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থার পরিপন্থী হওয়ায় অনেক দেশে এটা আইনের চোখে নিষিদ্ধ। কিন্তু এই সিন্ডিকেট-তত্ত্ব বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। কিছু হলেই টিভি, মিডিয়া ও টকশোগুলোতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সিন্ডিকেট-তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়। বাস্তবে এই সিন্ডিকেট প্রমাণ করাটা বেশ কঠিন কাজ। সাধারণত সরবরাহ ও চাহিদার অনেক নিয়ামকের যেকোনো একটির পরিবর্তন দ্বারাই দ্রব্যের মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। সেগুলোর যথাযথ বিশ্লেষণে না গিয়ে এ প্রসঙ্গ আসামাত্র সিন্ডিকেট-ব্যাখ্যায় চলে যাওয়া একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সিন্ডিকেট যদি এতই শক্তিশালী হবে, তাহলে তো জিনিসপত্রের দাম কখনোই কমার কথা নয়। যখন দাম কমে যাবে, তাহলে তখন কি আমরা ধরে নেব যে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘যাক বাবা, অনেক তো লাভ হলো; চলুন, আমরা এবার সবাই মিলে দাম কমিয়ে কিছু লোকসান করি। নয়তো ব্যাপারটা একটু খারাপ দেখা যায়।’
অনেকে বলেন, রমজান মাসে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেন ভোক্তাদের চাহিদা বৃদ্ধির। ব্যবসায়ীরা অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলতে পারেন, রমজান মাসে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগটা তাঁদের দেওয়া হয় বলেই তাঁরা এ সুবিধা নেন। আমরা সব সময় আশা করি, ব্যবসায়ীর কাজ হচ্ছে সর্বদা ন্যায্য দামে বিক্রি করা। ন্যায্য দাম বলতে আমরা অবশ্যম্ভাবীভাবেই আমাদের মনের মতো কম দামকেই মনে করি।
অর্থনীতিতে ন্যায্যমূল্য ব্যাপারটা সংজ্ঞায়িত করা খুব কঠিন কাজ। চালের দাম কত হলে ন্যায্য হয়? বহুল আলোচিত আর বিতর্কিত ১০ টাকা কেজি? কেউ বলতে পারে, পাঁচ টাকা হলে ভালো হয়। কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে বলতে পারে, সবচেয়ে ন্যায্য দাম হবে বিনা পয়সায় চাল দেওয়া, বিশেষত গরিব মানুষকে। এদিকে, একজন চাষি বলতে পারেন, আমার তো এক কেজি চাল উৎপাদন করতে খরচই পড়ে যায় ২০ টাকার মতো। আমি তো কোনোমতেই এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে পারব না। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ন্যায্য দামের দাবি চটজলদি করা যায়, কিন্তু ন্যায্য দামটা কত হবে জিজ্ঞেস করলে অনেকেই বিপদে পড়ে যাবেন।
অর্থনীতির পরিভাষায়, একটি বাজার যদি যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিযোগিতামূলক হয়, তাহলে কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনে মিলে একটি জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করেন। কখনোই একজন বিক্রেতার হাতে অসীম ক্ষমতা থাকে না মূল্য নির্ধারণের। সত্যি কথা বলতে কি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতিতে বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীদের হাতে তেমন ক্ষমতাই নেই।
আপনি যদি গত পাঁচ বছরের পেঁয়াজের খুচরা মূল্য লেখচিত্রে দেখেন, তাহলে দেখা যাবে, বছরের মাঝামাঝি বা তার পর থেকে (যা রমজানের আগের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়) দাম বাড়ছে এবং বছরের শেষ ভাগ পর্যন্ত দাম কমছে না (যেটি ঈদুল আজহা পর্যন্ত বিস্তৃত)। শুধু পেঁয়াজ নয়, যেকোনো উৎসবে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যে এই একই ধারা দেখা যেতে পারে। এর কারণ আর কিছুই নয়, উৎসবের সময়গুলোতে এসব পণ্যের বর্ধিত চাহিদা।
আমি কিন্তু মনে করছি না যে ব্যবসায়ীরা ধোয়া তুলসীপাতার মতো পবিত্র—তাঁরা কখনো কোনো অন্যায় করেন না। ব্যবসায়ীরা অবশ্যই কারসাজি করে দাম বাড়াতে পারেন, তাঁরা অনেক সময় এটা করেনও। বিশেষ করে, যেসব পণ্যের বিক্রেতার সংখ্যা অনেক কম, সেখানে এই কারসাজি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কিন্তু যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁদের অভিযুক্ত করতে হবে। অনেক দেশেই এ-সংক্রান্ত আইনে পরিষ্কার বলা আছে, ব্যবসায়ীদের কী ধরনের কৌশল (অবশ্যই প্রমাণ সাপেক্ষে) প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিপন্থী এবং এ জন্য কী ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত।
সবচেয়ে বড় কথা, রমজান মাসের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, রমজান মাসে টিভি-রেডিওতে যতই বয়ান করে সংযমের কথা বলা হোক না কেন, এ মাসটিতেই আমরা চরম অসংযমের পরিচয় দিই। এটাকে অনেকের কাছে মনে হতে পারে, একটা খাদ্য-উৎসবের মাস। দিনের বেলায় অভুক্ত থেকে আমরা আমাদের যাবতীয় ক্ষুধা-পিপাসা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি ইফতারের টেবিলে। বাজারমূল্য আমাদের এই আচরণের জ্বলন্ত সাক্ষী। কিন্তু আমরা তা বুঝি না বা বুঝতেও চাই না। আমরা নির্দ্বিধায় ব্যবসায়ীদের ওপর আমাদের এই অসংযমের দায়ভার চাপিয়ে থাকি। রমজান মাসে জিনিসপত্র অন্যান্য সময়ের মতো দামেই যদি আমরা পেতে চাই এবং যদি সরবরাহের তেমন কোনো ঘাটতি না থাকে, তাহলে আমাদের নিজেদের একটু সংযত করতে হবে। তাহলে বাজারে চাহিদার বৃদ্ধি ঘটবে না, ব্যবসায়ীদের মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হবে না এবং জিনিসপত্রের দাম রমজান মাসে বাড়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যাবে। মুখে সংযমের কথা বলে ইফতারের সময় ভূরিভোজে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর যা-ই হোক, খাদ্যদ্রব্যের দাম কমিয়ে রাখা যাবে না।
ড. রুশাদ ফরিদী: সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
rushad@econdu.ac.bd প্রথম আলো

Tuesday, July 26, 2011

বাজারে ফিরে এসেছে চিনি

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের পর বাজারে ফিরে এসেছে চিনি। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে কিছু দোকানে এখনো ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রমজানের নিত্যপণ্যের মধ্যে ছোলা, খেজুর, মুড়ি ও গুড়ের বাজার এখনো চড়া। তবে চাল, ডাল, মটরের (ডাবলি) দাম তেমন একটা বাড়েনি। কয়েক দিন ধরে এ পণ্যগুলোর দাম ব্যবসায়ীরা এতটাই বাড়িয়েছেন যে এখন নতুন করে আর বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। তার চেয়ে বর্তমান দামটিই ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছেন তাঁরা।
এ ছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে গুঁড়ো দুধের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। মুরগির দাম কিছু কমেছে। আর গরু ও খাসির মাংসের দর বেঁধে দিলেও এখনো তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
সরকার-নির্ধারিত দরে চিনি: গত বুধবার চিনির দর বেঁধে দেওয়ার পর বাজার থেকে উধাও ছিল চিনি। সেই চিনির দেখা মিলেছে গতকাল সোমবার। যেসব দোকানে চিনি ছিল, গতকাল সেগুলোয় বিক্রি হয়েছে সরকার-নির্ধারিত ৬৫ টাকা দরে।
সকালে পলাশী বাজারে গিয়ে বেশির ভাগ দোকানে চিনির দেখা মেলে। কয়েকজন দোকানি জানান, পাইকারি বাজার থেকে ঠিকমতো সরবরাহ করায় তাঁরা এখন চিনি আনতে পারছেন। এ কারণে ৬৫ টাকায় বিক্রিও করতে পারছেন।
তবে পলাশী বাজারেরই কয়েকটি দোকানে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। কারণ জানতে চাইলে দোকানিরা জানান, এ কয়দিন ৭০ টাকায় পাইকারি বাজার থেকে চিনি কিনেছেন। এ দামে বিক্রি করেই তাঁদের লোকসান হচ্ছে। ৬৫ টাকায় এ চিনি বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন বলে তাঁরা জানান।
হাতিরপুল বাজারের ভেতর ও বাইরে, পূর্ব তেজতুরী বাজার এবং পল্টনের বিভিন্ন দোকানেও ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গতকাল দুপুরে নয়াবাজারের অধিকাংশ দোকানে চিনি পাওয়া যায়নি। তিনটি দোকানে চিনি থাকলেও ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দাম চাওয়া হয়। এক দোকানি এইমাত্র চিনি এসেছে বলে জানান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, এখন থেকে ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন।
গত কয়েক দিনের চিনিশূন্য কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোতেও গতকাল দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রায় সব দোকানেই চিনি বিক্রি হচ্ছে। দোকানি মাসুদ রানা বলেন, ‘এত দিন বাজারে চিনি ছিল না। আমরা কিনতে গিয়েও পাইনি। গতকাল (রোববার) বাজারে দু-তিন হাজার বস্তা চিনি এসেছে। এ কারণে সব দোকানে এখন চিনি আছে।’
খোলা সয়াবিন এখনো কম: নয়াবাজারের বেশির ভাগ দোকান ঘুরে খোলা সয়াবিন তেলের দেখা মেলেনি। একই অবস্থা পলাশী ও হাতিরপুল বাজারেও। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১৩ টাকা পর্যন্ত। তবে কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং বিক্রিও হচ্ছে সরকার-নির্ধারিত দাম ১০৯ টাকায়।
খুচরা দোকানগুলোয় বেশি বিক্রি হচ্ছে বোতল ও প্যাকেটজাত তেল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়।
চালের দর খুচরায় বেশি: পাইকারি বাজারে গত কয়েক দিনে চালের দাম বাড়েনি। তবে খুচরা বিক্রেতারা চাল বিক্রি করছেন বেশি দামে। এক সপ্তাহে কোনো কোনো চালের দাম দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে মোটা চালের দাম গতকাল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা দেখানো হলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। নয়াবাজার কাঁচাবাজারে বিআর-২৮ চাল ৩৮ থেকে ৪০, নাজিরশাইল ৪৮ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজার ও পলাশী বাজারে দর ছিল নাজিরশাইল ৫২, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৬, পারিজা ৪০ ও পাইজাম ৩৮ থেকে ৪২ টাকা।
ছোলার দাম চড়ছেই: সাধারণ মানুষ যে ছোলাটা কেনে, রাজধানীর খুচরা দোকানগুলোয় তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর উন্নত মানের ছোলার দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, ছোলার দাম কমেছে। রাজধানীর রহমতগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জে সাধারণ ছোলা ৫৮ থেকে ৬০ এবং উন্নত মানের ছোলা সর্বোচ্চ ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই ধরনের ছোলাতেই দাম কমেছে দুই টাকা।
এ ছাড়া খুচরা দোকানে দেশি মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯৫, বিদেশি ডাল ৭৫ থেকে ৮০ এবং মুগ ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের বাজার গরম: রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানে চড়া দামে খেজুর বিক্রি হচ্ছে। বাংলা খেজুর ৬০, মরিচা ১০০ থেকে ১২০, নাগা ১১০ থেকে ১২০, বড়ই ১৭০ থেকে ১৮০ ও মরিয়ম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত খেজুরের দাম আরও চড়া।
বেড়েছে গুঁড়ো দুধের দাম: গত এক সপ্তাহে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। দোকানিরা জানান, এক কেজির প্যাকেটের মার্কস দুধের দাম ৪২০ থেকে বেড়ে ৪৪০, ফ্রেশ ৪১৫ থেকে ৪২৫, ডিপ্লোমা ৪৯০ থেকে ৫১০ টাকা হয়েছে।
মাংস ও মুরগি: ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংস ২৭০ এবং বিদেশি গরুর মাংস ২৫০, মহিষের মাংস ২৪০, খাসির মাংস ৪০০, বকরি ও ভেড়ার মাংস ৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।
কারওয়ান বাজারে গিয়ে গতকাল গরুর মাংস ২৭০ ও খাসির মাংস ৪২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার ধূপখোলা বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম ছিল ২৭০ ও ৪০০ টাকা।
তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। কারওয়ান বাজারে এর দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজিতে। আর দুই বাজারেই দেশি মুরগির দর ছিল যথাক্রমে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা।
ডিসিসিকে চিঠি: রাজধানীর সব দোকানে দৃশ্যমান স্থানে নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) গতকাল চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে খুচরা দোকানিরা ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করতে পারবেন না।
আমাদের চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে গতকাল চিনির সরবরাহ বেড়েছে। এস আলম গ্রুপ উৎ পাদন শুরুর পর ২৪০ জন পরিবেশকের মাধ্যমে চিনি সরবরাহ করছে। গতকাল থেকে ব্যবসায়ী গ্রুপটি পাঁচটি স্থানে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি শুরু করেছে। এ পাঁচ স্থানে ৬৫ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। তবে সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সরকারি দরের চেয়ে লিটারপ্রতি দুই টাকা কমে অর্থাৎ ১০৭ টাকায়।
এস আলম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মীর মইনুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ন্যায্যমূল্যের কেন্দ্রের সংখ্যা ২০-২৫টিতে উন্নীত করা হবে।
এ ছাড়া বিএসএম গ্রুপ ১৪ জন পরিবেশকের মাধ্যমে গতকাল থেকে ছয় টন করে চিনি সরবরাহ করছে। পরিবেশকদের কাছে এই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়। পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতাদের কেজিপ্রতি ৬৩ টাকায় চিনি সরবরাহ করবেন। পাশাপাশি আজ মঙ্গলবার থেকে ৫৫ টাকায় ছোলাও বিক্রি করবে প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাজারে এখন আগের চেয়ে চিনির সরবরাহ বেশি। এ কারণে চিনির দামে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।
খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজার থেকে ন্যায্যমূল্যে চিনি কিনতে পারায় চট্টগ্রামের কয়েকটি বাজারের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে চিনি বিক্রি হচ্ছে। কাজীর দেউড়ি বাজারের খান ডিপার্টমেন্ট স্টোর গতকাল ৬৪ টাকায় তিন বস্তা চিনি কিনে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে।
আবার বেশি দামে কেনা খুচরা ব্যবসায়ীরা এখনো ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন। কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারের রাকিন ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো সরকারি দামে চিনি কিনতে পারিনি। এ কারণে এই বাজারে ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি হচ্ছে।’

Monday, July 25, 2011

 ডিএসইতে লেনদেন বেড়েই চলছে

আগের দিনগুলোর ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববারও দেশের শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্যাংকিং খাতের শেয়ার।
অন্যান্য খাতের বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমলেও ব্যাংকিং খাতের চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত এ খাতের ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ২৫টির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে লেনদেনের ওপরে। ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি সময়কালে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।
এ ব্যাপারে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ধসের পর বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে প্রবল তারল্য-সংকট বিরাজ করছিল। ইতিমধ্যে এই সংকট অনেকাংশে কমেছে। যার ফলে বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় লেনদেন বেড়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগও লেনদেন বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।
শাকিল রিজভী বলেন, বাজার বাড়তে থাকলে সবাই আসে। আবার কমতে থাকলে সবাই হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি উল্টো হওয়া উচিত ছিল। তাহলে বাজারও স্বাভাবিক আচরণ করত।
ডিএসইর সভাপতি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন শেয়ার সরবরাহ দরকার। আর এ জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গতকাল দিন শেষে ডিএসইর সূচক দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৭১০ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৮টির, কমেছে ১২৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ১৮৭ পয়েন্ট হয়েছে। সিএসইতে হাতবদল হয়েছে ২০৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। এর মধ্যে বেড়েছে ১০৩টির, কমেছে ৯৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ১৯৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে চার কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো, আফতাব অটোমোবাইলস, আরএন স্পিনিং, সাউথইস্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ার, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা ও এমজেএল বিডি। প্রথম আলো

Sunday, July 24, 2011

এত চিনি গেল কোথায়?

চট্টগ্রাম বন্দরে এক সপ্তাহ আগে এমভি পিলিয়ন জাহাজ থেকে খালাস হয়েছে সিটি গ্রুপের ৫২ হাজার ৪০০ টন অপরিশোধিত চিনি।
দেশবন্ধু ও আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের আমদানি করা ৫৩ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি খালাস করে নেওয়া হচ্ছে পরিশোধন কারখানায়।
রোজার আগ মুহূর্তে এই তিন কোম্পানিই এনেছে এক লাখ পাঁচ হাজার টন চিনি।
অন্যদিকে ক্ষমতা বাড়ানোর পর দুই দিন আগে থেকে উৎপাদন শুরু করেছে এস আলম রিফাইনারিও। এই কোম্পানির আগের ছয় থেকে সাত হাজার টনের অপরিশোধিত চিনির মজুদ দিয়ে উৎপাদন শুরু করেছে। চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের হাতে আছে ৫৩ হাজার টন।
অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এখন এক লাখ ৬৩ হাজার টন চিনির মজুদ আছে। আর তাই প্রশ্ন উঠেছে, এত চিনি কোথায় গেল?
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের রিফাইনারির ক্ষমতা বাড়ানোর কারণে এতদিন চিনি উৎপাদন বন্ধ ছিল। তবে দুই দিন আগে থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। পাইপলাইনে চিনি বন্দরে আসার পথে রয়েছে। ফলে রোজার সময় চিনির সংকট হবে না।’
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে চিনি আমদানি হয় সবচেয়ে কম। পরিশোধন কারখানার মালিকেরা এ সময় চিনি আমদানি করেননি।
এর আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বেশি চিনি আমদানি হওয়ায় সংকট প্রকট হয়নি। গত মার্চ মাস থেকে চিনি আমদানি শুরু হয়। গত চার মাসে (মার্চ থেকে জুন) চিনি আমদানি হয় চার লাখ ৪৫ হাজার ৪২৭ টন। এ মাসে এসেছে এক লাখ পাঁচ হাজার টন।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে সিটি গ্রুপের ৫২ হাজার ৪০০ টন চিনি খালাস করা হয়েছে। এসব চিনি এখন পরিশোধন করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
দেশবন্ধু সুগার রিফাইনারির আমদানি করা ২৭ হাজার টন চিনির মধ্যে খালাস হয়েছে ১৩ হাজার ৫৫০ টন।
এ ছাড়া আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডেরও ২৬ হাজার টন চিনির মধ্যে ৪৫০ টন খালাস হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে এই দুটি জাহাজ থেকে কয়েক দিন চিনি খালাস করা যায়নি। তবে গতকাল শনিবার থেকে দুটি জাহাজ থেকে আবার চিনি খালাস শুরু হয়েছে বলে জাহাজ কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
কাস্টম হাউসের নথিপত্রে দেখা গেছে, সর্বশেষ চালানের এসব অপরিশোধিত চিনির দাম পড়ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫১ টাকায়।
যেমন, ব্রাজিল থেকে আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড ২৬ হাজার টন চিনি আমদানি করেছে। এই চিনির কেজিপ্রতি দাম পড়েছে ৫০ টাকা ৮৬ পয়সা।
এই দামের সঙ্গে চিনি খালাসের নানা প্রক্রিয়ার খরচ এবং পরিশোধন খরচ মিলে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা ধরা হলে খরচসহ প্রতি কেজি চিনির মূল্য পড়ে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা। খুচরা বাজারে এই চিনিই বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭১ টাকায়।
চিনি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছয়টি চিনি পরিশোধন কারখানার মধ্যে চারটি বন্ধ থাকায় চিনির সরবরাহ কমে যায়। বাড়তি চাহিদার বিপরীতে কম সরবরাহকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বন্ধ কারখানাগুলো চালু হচ্ছে। এতে অন্তত রোজার সময় সংকট হবে না বলে ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করেছেন।
গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার চিনির দর ৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পর খুচরা ব্যবসায়ীরা চিনি বিক্রিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৮ টাকা। এই দরে চিনি এনে ৬৫ টাকায় বিক্রি না করলে আবার তদারকি দলের মুখে পড়তে হবে। এ কারণে অনেকে চিনি কিনলেও ভয়ে বিক্রি করছেন না।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের হাতে থাকা ৫৩ হাজার টন চিনি এখনই খোলা বাজারে বিক্রি করা উচিত। এতে চিনির বাজার স্থিতিশীল হবে।প্রথম আলো

 ৪৫ টাকায় আমদানি করা ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়

অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা সাধারণ মানের প্রতি কেজি ছোলার দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা। এই ছোলা চার হাত ঘুরে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি ছোলায় আমদানি মূল্যের চেয়ে খুচরা মূল্য ২৩-২৫ টাকা বেশি। মিয়ানমার থেকে ৫৮-৫৯ টাকায় কেনা ছোলাও বিক্রি হচ্ছে ৭৮-৮০ টাকায়।
রোজার বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি স্তরেই বেশি মুনাফার কারণে ছোলার দামে এই অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নথিপত্রে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার ও ইথিওপিয়া—এই তিন দেশ থেকেই ছোলা আমদানি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা সাধারণ মানের ছোলার দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ছোলার দাম সাড়ে ৫৮ থেকে সাড়ে ৫৯ টাকা। ইথিওপিয়া থেকে আমদানি করা ছোলার দাম পড়ছে ৪৯ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫৩ টাকা।
১৭ জুলাই আমদানিকারক চিটাগাং স্টোর ৪৫ টাকা ১৬ পয়সা দরে ৪৬৯ দশমিক ৩ টন ছোলা আমদানি করে অস্ট্রেলিয়া থেকে। প্রতি কেজি ছোলা খালাসে সব ধরনের খরচ তিন টাকা ধরা হলে আমদানি মূল্য দাঁড়ায় ৪৮ টাকা ১৬ পয়সা।
চিটাগাং স্টোরের আইয়ুব আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই ছোলা মণপ্রতি দুই হাজার ১০ টাকায় বিক্রি করেছি ডিও ব্যবসায়ী ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে।’ এই হিসাবে কেজিপ্রতি দাম পড়ে ৫৩ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে আমদানিকারক লাভ করেছেন প্রায় সাড়ে পাঁচ টাকা।
এই ছোলা ডিও ব্যবসায়ী ও ছোট পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও কর্ণফুলী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা এই ছোলা বিক্রি করছেন ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়।
মিয়ানমার থেকে সাড়ে ৫৮ থেকে সাড়ে ৫৯ টাকায় ছোলা কিনছেন আমদানিকারকেরা। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতারা এই ছোলা কিনছেন কেজিপ্রতি ৭৪ টাকা ২২ পয়সায়।
কর্ণফুলী মার্কেটের খোকন স্টোরের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের ছোলা কেজিপ্রতি বিক্রি করছেন ৭৮ টাকায়। দাম এত বেশি কেন, জানতে চাইলে তিনি রসিদ দেখিয়ে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার থেকে গত বুধবার মণপ্রতি দুই হাজার ৭৭০ টাকায় (কেজিপ্রতি ৭৪ টাকা ২২ পয়সা) এই ছোলা কিনেছি। দোকানে আনার খরচসহ কেজিপ্রতি দাম পড়েছে প্রায় ৭৬ টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী মেসার্স তৈয়বীয়া স্টোরের মো. সোলায়মান জানান, গুদাম থেকে মালামাল পরিবহন ও খালাসের খরচ বেড়েছে। এসব খরচ যোগ করে প্রতি মণে ৫০ টাকা লাভে বিক্রি করছি। দাম বাড়লে সব সময় আমরাই বিপদে পড়ি। অথচ আমদানিকারক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে যাঁরা পণ্য কেনেন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি মুনাফা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানে ছোলার চাহিদা ধরা হয় ন্যূনতম ৬০ হাজার টন। এই মাসের প্রথম ২০ দিনে ছোলা আমদানি হয়েছে নয় হাজার ১৬৯ টন। এর আগের তিন মাসে ছোলা আমদানি হয় ৩৯ হাজার টন। আগামী দুই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া, ইথিওপিয়া ও মিয়ানমার থেকেও বিপুল পরিমাণ ছোলা আমদানি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

 চিনি নেই, গুড়ের দাম বাড়ালেন ব্যবসায়ীরা

সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পর খোলাবাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পর খোলাবাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতাদের প্রশ্নের জবাব এড়াতে দোকানি ‘চিনি নাই’ লিখে রেখেন। গতকাল ছবিটি রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকা থেকে তোলা
ছবি: প্রথম আলো
বাজার থেকে চিনি এখনো উধাও। চিনির বিকল্প হিসেবে আছে গুড়। কিন্তু এখানেও ব্যবসায়ীদের কারসাজি। রাতারাতি গুড়ের দাম কেজিপ্রতি বাড়ানো হয়েছে ১৫ টাকা। আর চিনি ও গুড়ের এই বাজারে সংকটে পড়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।
তিন দিন হয়ে গেলেও চিনির সংকট মেটেনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল শনিবার বাজারে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ভরসা এখন আজ রোববারের একটি বৈঠক। চিনিসহ নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের বিকেলে বৈঠকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, চিনির মতোই অবস্থা খোলা সয়াবিন তেলের। বাজারে এটিও খুব একটা মিলছে না। তবে যেসব দোকানে খোলা সয়াবিন পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে চার থেকে পাঁচ টাকা বেশিতে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
সরকারের বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী, খুচরা দোকানগুলোতে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১০৯, পাম তেল ৯৯ ও চিনি ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার কথা। গত বুধবার সরকারি পর্যায়ে এই দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকেই চরম অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার।
গুড়ের দামও চড়া: বাজারে চিনির সংকট চলায় অনেক ক্রেতারই নজর ছিল গুড়ের দিকে। এই সুযোগে গুড়ের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারে গতকাল আখের গুড় ৭০ থেকে ৮০ ও খেজুরের গুড় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাঁচ-ছয় দিন আগেও তাঁরা আখের গুড় ৬০ আর খেজুরের গুড় ৬৫ টাকায় বিক্রি করতেন।
হঠাৎ গুড়ের দাম কেন বাড়ল—জানতে চাইলে বিক্রেতা মো. ছালেহ বলেন, ‘রাজশাহী ও নাটোরের পাইকারি বাজার থেকেই আমাদের গুড় কিনতে হচ্ছে ৬৮ থেকে ৬৯ টাকায়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে আমাদের কী করার আছে।’ তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ, চিনির দাম বাড়ার কারণে সুযোগ বুঝে পাইকারি ব্যবসায়ীরা গুড়ের দাম বাড়িয়েছেন।
চিনির দেখা মেলা ভার: রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজারের চারটি দোকান ঘুরে গতকাল একটিতে চিনির দেখা মেলে। ক্রেতা সেজে দাম জানতে চাইলে দোকানি বললেন, কেজি ৭৫ টাকা। এত বেশি কেন? জবাবে তাঁর উত্তর, ‘যান, দেখেন এর কম দামে চিনি পান কি না।’
গতকালও কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে চিনি দেখা যায়নি। দোকানিরা জানান, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে নতুন করে চিনি আনেননি তাঁরা।
তবে কারওয়ান বাজার ঘুরে দুটি দোকানে দেশি চিনি দেখা গেছে। দেশি হলেও এই চিনির দাম কিন্তু কম নয়, পাক্কা ৭৫ টাকা কেজি।
ব্যবসায়ীদের আশ্বাস: যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও এর আশপাশে ৮০ হাজার টন চিনি রয়েছে। আরও সাড়ে তিন লাখ টন চিনি আসছে। শিগগিরই চিনির সংকট কেটে যাবে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের ২৯০ জন পরিবেশককে ৬০ টাকা করে চিনি দিচ্ছি, যেন তারা সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করতে পারে। কাল থেকে সবাই হাতের নাগালে চিনি পাবেন।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশবন্ধু গতকাল মন্ত্রণালয়কে বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি গতকাল রাজধানীতে তাদের নয়জন পরিবেশককে ১৬০ মেট্রিক টন চিনি সরবরাহ করেছে। চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ মন্ত্রণালয়কে বলেছে, তাদের ৭৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি দেশে আসার অপেক্ষায় আছে। আরেক পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম বলেছে, চট্টগ্রামে তারা লালসালু টাঙিয়ে সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করবে।
চিনির অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকেই মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এর জন্য পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে আসছেন। তবে গোলাম মোস্তফা বলেন, মিলগেট থেকে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় চিনি বিক্রি করা হচ্ছে। তাহলে কেন ওই চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি করা হবে? পরিবেশক-প্রথা যেন কার্যকর হতে না পারে সে জন্যই পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ কাজ করছেন।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকটি দল গতকালও মৌলভীবাজারে অভিযান চালান। অভিযান শেষে আদালত পরিচালনাকারীরা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম মুর্তজা রেজা চৌধুরীর কাছে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীরা আদালতকে বলেছেন, তাঁরা এখন থেকে সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করবেন। আর যেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা না হয়।
খোলা সয়াবিনও মিলছে না: রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা ঘুরে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা যায়নি। হাতিরপুল বাজারের দু-তিনটি দোকানে খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১১২ টাকা লিটারে। তবে কারওয়ান বাজারের অনেক দোকানেই খোলা সয়াবিন বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১২ টাকায়।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৫ টাকায় খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা: রাজধানীর মিরপুর, বারিধারা ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জন খুচরা ব্যবসায়ীকে এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দুটি দল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তাঁরা ক্রেতাদের কাছে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি করছিলেন। পাশাপাশি কয়েকটি রেস্টুরেন্ট নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও বিতরণ করছিল।
অধিদপ্তরের দুই উপপরিচালক মো. রেজাউল করিম শেখ ও মো. মনিরুজ্জামান অভিযান পরিচালনাকারী দল দুটির নেতৃত্ব দেন।

Monday, July 4, 2011

দুই দফা বেড়েছে বিভিন্ন মনিহারি পণ্যের দাম


চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, আটার দাম বাড়লে মানুষের যেমন নাভিশ্বাস ওঠে; তেমনি সরকারি-বেরসকারি পর্যায়ে আলোচনাও কম হয় না। তবে এর বাইরেও কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য আছে, যেগুলোর দাম বাড়লেও থেকে যায় আলোচনার বাইরে। মনিহারি পণ্যগুলোই আছে এই তালিকায়। উপায় না দেখে বেশি দামেই মানুষ মনিহারি পণ্য কিনছে।
গত মাসে বাজেট ঘোষণার আগে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বাজার ঘুরে বিভিন্ন মনিহারি পণ্যের দাম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। তখন এসব পণ্যের দাম ৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। দাম বেড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল: গায়ে মাখার সাবান, কাপড় ধোয়ার সাবান ও গুঁড়ো, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, শেভিং ক্রিম, মুখে মাখার ক্রিম, ফেসওয়াশ। এমনকি বেড়েছে মোমের দামও।
বাজেট ঘোষণার পরও কয়েকটি মনিহারি পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে কিছু পণ্যের দামে এখনো বাজেটের ছোঁয়া লাগেনি। তাই আগের দামেই এসব বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মনিহারি পণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়ে না। কিন্তু যখন বাড়ে, তখন একটু বেশিই বেড়ে যায়। বাজেটের আগে পরিবেশকেরা বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। একই অবস্থা হয় বাজেটের পরও।
গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে গায়ে মাখার সাবানের দাম ছয় টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ১০০ ও ১৫০ গ্রাম লাক্স সাবানের দাম ছয় টাকা করে বেড়ে হয় ২৬ ও ৩৬ টাকা। ১৩০ গ্রাম ওজনের ডেটল সাবানের দাম পাঁচ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ টাকায়। তিব্বত, মেরিল ও কেয়া সাবানের দাম বাড়ে দুই টাকা করে। আর বাজেটের পর ডেটল, মেরিল ও তিব্বত সাবানের দাম এক টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
বাজেটের আগে কাপড় ধোয়ার সাবানের দাম বাড়ে চার থেকে ১২ টাকা। এক কেজির ‘পঁচা’ সাবানের প্যাকেটের দাম ১২ টাকা বেড়ে হয় ৪০ টাকা। হুইলের দাম পাঁচ, চাকা ও তিব্বত বল সাবানের দাম চার টাকা করে বাড়ে। তবে ৪০ টাকার ‘পঁচা’ সাবানের প্যাকেটের দাম এখন ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। বাকিগুলোর দাম তেমন বাড়েনি।
বাজেটের আগেই কাপড় ধোয়ার পাউডারের (ডিটারজেন্ট) দাম বেড়েছিল দুই থেকে ১০ টাকা। তিব্বত, হুইল ও হুইল পাওয়ার হোয়াইট, চাকা, কেয়া, সার্ফ এক্সেল সবগুলো পাউডারের দামই মোটামুটি একরকম। তখন হুইল পাউডারের ২০০, ৫০০ গ্রাম ও এক কেজির দাম ছিল ১৩, ২৭ ও ৫২ টাকা। জানুয়ারিতে এই পাউডারগুলোর দাম ছিল ১০, ২৪ ও ৪৪ টাকা। আর বাজেটের পর এগুলোর দাম হয়েছে ১৪, ২৮ ও ৫৪ টাকা।
বাজেটের আগে বিভিন্ন কোম্পানির শ্যাম্পুর দাম বাড়ে ১০ থেকে ৫০ টাকা। তখন সানসিল্কের ৪০০ মিলিলিটার বড় কৌটার দাম ২৩৫ থেকে বেড়ে হয় ২৬০ টাকা। আর মাঝারি ও ছোট কৌটার দাম ১০ টাকা বেড়ে হয় ১৪০ ও ৭০ টাকা। অল ক্লিয়ার ৪০০ এমএল কৌটার দাম ২০ টাকা বেড়ে হয় ২৯০ টাকা। মাঝারি ও ছোট কৌটার দাম ১০ টাকা করে বেড়ে ১৭০ ও ৯০ টাকা হয়। ডাভ বড় কৌটার দাম ৪০ টাকা বেড়ে ৩৭০, মাঝারি কৌটা ৩০ টাকা বেড়ে ২১০ ও ছোট কৌটা ২৫ টাকা বেড়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। ২০০ এমএল গার্নিয়ার শ্যাম্পুর দাম ৭০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা হয়। গত দুদিনে দোকানিরা বলেছেন, এখনো এই দামেই শ্যাম্পু বিক্রি হচ্ছে।
টেলকম পাউডারের দামও বাড়ে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। ২০০ গ্রাম ওজনের তিব্বত পাউডারের দাম গত ছয় মাসে ৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। একই পরিমাণের জনসন পাউডারের দাম ৯৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৫ টাকা। তবে বাজেটের পর এই পাউডারের দাম আরও ১০ টাকা বেড়েছে।
তবে গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে নারকেল তেলের। গত তিন মাসে নারকেল তেলের দাম বাড়ে ৩০ টাকা। ২০০ গ্রাম জুঁই নারকেল তেলের দাম ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯০ টাকা। ৪০০ গ্রাম গন্ধরাজ তেলের দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৬৫ টাকা। ৫০০ গ্রাম প্যারাসুটের কৌটার দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৯০ টাকা। এখনো এই দামেই তেল বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে টয়লেট পরিষ্কারকের দামও। হারপিকের ছোট, মাঝারি ও বড় কৌটার দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১৩ টাকা। শক্তি ও ভ্যানিশ ব্র্যান্ডের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা করে।
দাম বাড়ানোর হাত থেকে রেহাই পায়নি মোমও। ছয় মাস আগে যেখানে ৩০ টাকায় এক ডজন মোম কেনা যেত, বাজেটের আগে ক্রেতাদের তা ৪২ টাকায় কিনতে হয়েছে। আর এখন এক ডজন মোম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
শনির আখড়ার মিয়া গিফট কর্নারের মালিক মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘কোম্পানি যে দাম নির্ধারণ করে, সেই দামেই আমাদের বিক্রি করতে হয়। আমরা চাইলেই কম দামে জিনিস বিক্রি করতে পারি না।’
গত ছয় মাসে ফেসওয়াশের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। পন্ডস ফেসওয়াশের বড় বোতলের দাম ৮৫ থেকে বেড়ে বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। ছোট বোতলের দাম ৫০ থেকে হয় ৫৫ টাকা। তবে পন্ডস স্ক্রাবের বোতলের দাম ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। ডাভ ফেসওয়াশের বড় ও ছোট বোতলের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে। মুখে মাখার ক্রিম ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির দাম বাড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা। তিব্বত ও পন্ডস স্নোর দাম পাঁচ টাকা করে বাড়ে।
শেভিং ফোমের দাম ছয় মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। ২০০ এমএল ফোমের কৌটার দাম ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮৫ টাকা। কোনো কোনো দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়। ১০০ এমএল কৌটার দাম ১১৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি কাজী ফারুক গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, নজরদারি না থাকায় এসব পণ্যের দাম সব সময়ই বাড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চাতুর্যপূর্ণ ব্যবসার কৌশল। এই কৌশলের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন পণ্যে একটু ওজন বাড়িয়ে এখন তা বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু যে পরিমাণ ওজন বাড়ানো হচ্ছে, দাম নেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

আড়াই মাস পর হাজার কোটি টাকা লেনদেন

ঢাকা, জুলাই ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আড়াই মাস পর হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। সেই সঙ্গে বেড়েছে অধিকাংশ শেয়ারের দাম।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এ অর্থবছরে রাখার সরকারি ঘোষণা আসার পরদিনই চাঙা হয়ে ওঠে ঢাকার পুঁজিবাজার। বুধবার লেনদেনের পরিমাণ ছিলো ৯৩৭ কোটি টাকা, বৃহস্পতিবার ছিলো ৯৫৪ কোটি টাকা।

সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন আগের দুই দিনের অঙ্ক ছাড়িয়ে যায়। এ দিন লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ১৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সা¤প্রতিক সময়ে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিলো গত ১১ এপ্রিল ১ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

হরতাল হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্রোকারেস হাউস লেনদেনে অংশ নিলেই সচল হয় ডিএসই। এ কারণেই রোববার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টায়ই লেনদেন শুরু হয়।

সাধারণ সূচক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৬১৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৪৯টির। ৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিলো।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমআই/১৫১৫ ঘ.

'রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ হবে বাণিজ্যমন্ত্রীর বড় চ্যালেঞ্জ'

ঢাকা, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রমজানে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না থাকলে তার দায়ভার বাণিজ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "সামনে রোজার মাস, এটি বাণিজ্যমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এর দায়ভার তাকেই নিতে হবে।"

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে 'ভরাডুবি' আওয়ামী লীগের জন্য একটি সতর্ক সংকেত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু পুনরুজ্জীবীত করার আর সুযোগ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে গণতন্ত্রকে আর সমুন্নত করা যাবে না।"

তত্ত্বাবধায়ক রাখার দাবি বাদ দিয়ে আাগামীতে কীভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়- সে বিষয়ে আলোচনায় আসতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, সংবিধান এখন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালও ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট।
এ প্রসঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বলেন, "৪৮ ঘণ্টা, ৭২ ঘণ্টা হরতালে কোনো লাভ নেই, এতে জনগণ বিরক্ত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে সবাইকেই জনগণের মুখোমুখি হতে হবে।"

'হরতাল ও অযৌক্তিক কর্মসূচি দিয়ে তারেক, কোকো ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টার' প্রতিবাদে ঠিকানা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আওয়মী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া আলোচনায় অংশ নেন।

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআইএম/আরএম/আরএ/জেকে/১৭১৩ ঘ.

Monday, June 20, 2011

পুঁজিবাজার শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী


দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে চলছে। আজ মঙ্গলবার প্রথম আধঘণ্টা শেষে ডিএসইতে সূচক বেড়েছে ১১৪ পয়েন্ট। সঙ্গে লেনদেন হওয়া প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ১১৪.৯১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৮১০.৬৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ সময়ে লেনদেন হওয়া ২০৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২০৪টির, কমেছে দুটির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের দাম এবং মোট ৯০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
লেনদেনের ১০ মিনিটের দিকে সূচক ১২১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সূচক বাড়ার হার কিছুটা কমে। ১৮ মিনিটের দিকে সূচক বাড়ে ১০১ পয়েন্ট। ২০ মিনিটের পর সূচক আবার বাড়তে থাকে। লেনদেনের প্রথম আধঘণ্টা শেষে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এ সময়ে লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—ইউসিবিএল, বেক্সিমকো, লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স, আফতাব অটো, পূবালী ব্যাংক, এম আই সিমেন্ট, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ইবিএল, এবি ব্যাংক ও পিএলএফএসএল।

Sunday, June 19, 2011

তিন টাকার শেয়ার তিন বছরে ১১৯ টাকা!

২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল তিন টাকা ৭০ পয়সা। ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই দাম বাড়তে বাড়তে পৌঁছায় সর্বোচ্চ ১১৯ টাকা ১০ পয়সায়।
অর্থাৎ তিন বছরে প্রতিটি শেয়ারের দাম বাড়ে প্রায় ৩২ গুণ। এ সময়ে কোম্পানিটির বাজার মূলধন মাত্র সাত কোটি পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
নানা কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ার এ চমক দেখায় ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মৎস্য খাতের কোম্পানি বিচ হ্যাচারি লিমিটেড।
কখনো কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে উদ্যোক্তারা নিজেই, কখনো ঋণসুবিধা-বহির্ভূত এ কোম্পানির শেয়ার কিনতে গ্রাহকদের মোটা অঙ্কের ঋণসুবিধা দিয়ে ঋণদাতা কিছু প্রতিষ্ঠান, আবার কখনো একদল বিনিয়োগকারী সংঘবদ্ধ হয়ে কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আর এ সুযোগে কোম্পানির সংরক্ষিত (সাসপেন্স) হিসাব থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২১ হাজার শেয়ার গোপনে বিক্রি করে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন কোম্পানির দুই কর্মকর্তা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশে কোম্পানির লেনদেনের তথ্যানুসন্ধান করে কারসাজির এসব ঘটনা উদ্ঘাটন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কিন্তু এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সদস্যের কারণে সে সময় এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে শেয়ারবাজার ধসের কারণ অনুসন্ধানে সরকারের উদ্যোগে কমিটি গঠনের পর নড়েচড়ে বসে এসইসি। এ সময় অভিযুক্ত কয়েকটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীকে শুনানিতে ডাকা হয়। তবে এসইসির পরিবর্তন ও পুনর্গঠন-জটিলতায় বিষয়টির তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটিও কোম্পানিটির শেয়ারের দর বাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি আমার কাছে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি এটি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়েছি।’
২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি কোম্পানি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, তারা এক কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার পৌর এলাকায় এক দশমিক ২৭ একর জমি কিনেছে। নিবন্ধনসহ যার ব্যয় দেখানো হয় এক কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর কিছু দিন আগে কোম্পানির একাধিক উদ্যোক্তা বিপুল পরিমাণ শেয়ার লেনদেন করেন। এ তথ্য উল্লেখ করে পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সুবিধাভোগী বা ইনসাইডার লেনদেনের সন্দেহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদন: ডিএসইর প্রতিবেদনে ঋণসুবিধাবহির্ভূত থাকা সত্ত্বেও বিচ হ্যাচারির শেয়ার কিনতে গ্রাহকদের ঋণ ও আর্থিক সমন্বয় (নেটিং) সুবিধা দিয়েছে এমন পাঁচটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, পিএফআই সিকিউরিটিজ, ব্যাংক এশিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক। সব প্রতিষ্ঠানই পরে ডিএসইর কাছে লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ ও এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করেছে। এসইসির শুনানিতেও তারা একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বিচ হ্যাচারির শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেনের সঙ্গে ১৯ জন বিনিয়োগকারীর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে কখনো এককভাবে, আবার কখনো সংঘবদ্ধভাবে এসব বিনিয়োগকারী কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটান। এর বাইরে আরও আটজন বিনিয়োগকারীর নিয়ম ভেঙে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে নেটিং ও ঋণসুবিধা নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এ তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন: শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইমরান, এস কে মনসুর আলী, হালিমা খাতুন, নোমান ইসলাম, আবু আহমেদ, এস এম জিল্লুর রহমান ও জিয়াউদ্দিন আদিল।
সংরক্ষিত হিসাবের শেয়ার আত্মসাৎ: ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানির সংরক্ষিত হিসাবে থাকা শেয়ারধারীদের প্রাপ্য ২১ হাজার বোনাস শেয়ার আত্মসাৎ করেছেন কোম্পানি সচিব (তৎকালীন) নূর ইসলাম ও শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল আলীম। এর মধ্যে সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেন কোম্পানি সচিব আর চার লাখ টাকা নেন শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা। দুজনই বিষয়টি লিখিতভাবে ডিএসইর তদন্ত দলের কাছে স্বীকার করেছেন।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাসপেন্স হিসেবে সাধারণত বিভিন্ন কারণে অবণ্টিত শেয়ার জমা থাকে। পরে দাবিদার খুঁজে পাওয়া গেলে ওই সব শেয়ার বণ্টন করা হয়। প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে কোম্পানির হিসাবে সংরক্ষিত থাকা এসব শেয়ার বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
যোগাযোগ করা হলে নূর ইসলাম বলেন, ‘কোম্পানির সাসপেন্স হিসাব থেকে ২১ হাজার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কোম্পানির শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল আলীমই এসব শেয়ার বিক্রি করেছেন।’
ডিএসইর তদন্ত দলের কাছে কেন লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, জানতে চাইলে ডিএসইর লোকজন জোর করে তাঁর কাছ থেকে এ স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। নূর ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে কোম্পানি সচিবের দায়িত্বে নেই। তবে কোম্পানির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
মূল্য সংবেদনশীল তথ্য-প্রতারণা: ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল কোম্পানির পক্ষ থেকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে জানানো হয়, পরিচালনা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানি সমুদ্রগামী চারটি ট্রলার কিনবে, যা মাছ ধরা, প্রক্রিয়াজাত করা ও রপ্তানির কাজে ব্যবহার করা হবে। এমন তথ্য প্রকাশের পরদিন ১৩ এপ্রিল ডিএসই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে দেয়। চারটি সমুদ্রগামী ট্রলার কেনার বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে কোম্পানিকে চিঠি দেয় ডিএসই। চিঠির জবাবে ২৭ এপ্রিল কোম্পানি জানায়, চারটি ট্রলার কিনতে ৬০ কোটি টাকা খরচ হবে। এ জন্য কৃষি ব্যাংকে ঋণ আবেদন করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ওই দিনই ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, কোম্পানির প্রায় ১০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যার কারণে কোম্পানিটিকে নতুন করে চারটি ট্রলার কেনার ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া কোম্পানি সচিব নূর ইসলাম এক চিঠি দিয়ে ডিএসইকে জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা সি ফুডস লিমিটেড ও তার দুটি কারখানা অধিগ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের প্রাথমিক প্রস্তুতিও কোম্পানি শুরু করেছে। যদিও এসব ব্যবসায়িক পরিকল্পনার বিষয়ে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় কোনো ধরনের আলোচনাই হয়নি। কোম্পানিটির এসব তথ্য ডিএসই কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে নূর ইসলাম জানান, তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। আর চেয়ারম্যানকে টেলিফোনে পাওয়া যায়নি।
এসব মূল্য সংবেদনশীল তথ্য শেয়ারের দর বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। শেয়ারটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল এসইসিও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দাম বাড়ানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউস আরাফাত সিকিউরিটিজ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি মজিবুর রহমানকে পৃথকভাবে মোট ৫১ লাখ টাকা জরিমানা করে এসইসি।
২০০৬ ও ২০০৭ সালে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। অথচ পরের তিন বছর যথাক্রমে ১০, ১২ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা হয়।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More