Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label বাংলাদেশ-বহির্বিশ্ব. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ-বহির্বিশ্ব. Show all posts

Thursday, August 11, 2011

ঘুরে দাঁড়াল বিশ্ব শেয়ারবাজার


বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সিউল স্টক এক্সচেঞ্জে একজন ব্রোকারের প্রতিক্রিয়া
বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সিউল স্টক এক্সচেঞ্জে একজন ব্রোকারের প্রতিক্রিয়া
এপি
প্রথম ইতিবাচক সংবাদটা এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সুদের হার (ফেডারেল ফান্ড রেট) অন্তত ২০১৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত নিচু পর্যায়ে ধরে রাখবে।
সুদের হার নিচু পর্যায়ে রাখার মানে হলো, ফেডারেল রিজার্ভ খুব স্বল্প সুদে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া। বর্তমানে এই হার শূন্য থেকে দশমিক ২৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। 
মঙ্গলবারের ঘোষণায় নিচু পর্যায়ে ধরে রাখা বলতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার উল্লিখিত সীমার বাইরে নিয়ে যাবে বলে বোঝাতে চেয়েছে। 
মঙ্গলবার যখন এই ঘোষণাটি আসে, তখন আটলান্টিকের এপারে ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরের ওপারে এশিয়া ঘুমিয়ে পড়েছে। 
আর তাই ফেডারেল রিজার্ভের এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রভাবটা পড়েছে তাদেরই আর্থিক বাজারে বিশেষত ওয়ালস্ট্রিটে। মঙ্গলবার ওয়ালস্ট্রিটে ডাও জোনস সূচক প্রায় চার শতাংশ বা ৪২৯ পয়েন্ট বেড়ে দিন শেষ করেছে। ফলে ডাও জোনস আবার ১১ হাজার পয়েন্টের ওপরে উঠে যায়।
এর জের ধরে গতকাল বুধবার প্রথমে এশিয়া, তারপর ইউরোপের শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ায়। সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিক্কি এক দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার পয়েন্টের ওপরে গিয়ে শেষ হয়েছে। 
হংকং ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বাজারগুলো গড়ে সোয়া দুই শতাংশের বেশি হারে বেড়েছে। এ ছাড়া সাংহাই, সিউল, জাকার্তা ও মুম্বাই ঊর্ধ্বমুখী ধারা নিয়ে দিন শেষ করেছে। 
এশিয়ায় যখন মধ্য দুপুর, তখন ইউরোপের বাজার দিনের যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে একটা ইতিবাচক সংবাদ সঙ্গী করে। আর তাই ফ্রাঙ্কফুর্ট স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক বাজারদর বেড়েছে প্রায় আড়াই শতাংশ। পাশাপাশি লন্ডনের এফটিএসই-১০০ সূচক প্রায় দেড় শতাংশ আর প্যারিসের ক্যাক সূচক সোয়া এক শতাংশ বেড়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, সুদের হারে কোনো পরিবর্তন না আনার ঘোষণার মধ্য দিযে পুঁজিবাজারে এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে যে এখান থেকে তহবিল অন্যত্র স্থানান্তর করে খুব একটা লাভ হবে না। তবে বেশির ভাগ বিশ্লেষকই বলছেন যে এটা নেহাতই খণ্ডিত ধারণা। কেননা, সুদের হার নিম্নতম পর্যায়ে অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমেরিকা স্বীকার করে নিল যে তাদের অর্থনীতির মন্দাদশা কার্যত অব্যাহত রয়েছে। দেশটির আবাসন খাতে স্থবিরতা চলছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারও খুব শ্লথ আর মানুষের খরচও কমেছে।
বরং গত কয়েক দিনে অব্যাহত দরপতনের পর বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর একটা প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। ফেডারেল রিজার্ভের ঘোষণা সেই প্রয়োজনীয়তাকে সমর্থন দিয়ে সাময়িক স্বস্তি এনেছে। 
অবশ্য গতকালই খবর আসে যে জুলাই মাসে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে তিন হাজার ১৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। জুন মাসে এই উদ্বৃত্ত ছিল দুই হাজার ২৩০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক মাসে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে ৪১ শতাংশেরও বেশি।
এর মধ্য দিয়ে এ রকম একটা আভাসও মিলল যে বিশ্ব অর্থনীতি যতটা নাজুক হয়ে গেছে বলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, বাস্তবে ততটা নাজুক হয়নি। 
তবে উচ্চ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত চীনা মুদ্রা ইউয়ানের দর ঊর্ধ্বমুখী পুনর্মূল্যায়নের চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। [সূত্র: বিবিসি ও এফটি]

Sunday, July 10, 2011

ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী

Details
বাজারে ডলার সংকটে ডলারের দাম অস্থির হয়ে উঠছে। হঠাত্ করেই খোলা বাজারে চড়ে গেছে ডলারের দাম। বাজারে ডলারের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত সরবরাহ না করায় ডলার সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি দামও অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাস্ফীতি ও কার্যকারিতা হারাবে। তবে বাজারে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকিং সূত্র জানায়, গেল সপ্তাহে ৭৪ টাকা ৫৬ পয়সা পর্যন্ত ডলারের দাম উঠে। তবে ব্যাংক ও গ্রাহকভেদে এর কিছুটা হেরফের হয়েছে। ডলারের দাম বাড়তে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলিফোনে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করলেও কখনো কখনো নিষ্ক্রীয় ভূমিকা পালন করে।
সূত্র জানায়, ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ার ফলে কার্ব মার্কেটেও ডলারের দাম বেড়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৭৮ টাকা পর্যন্ত কার্ব মার্কেটে ডলারের লেনদেন হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ৭১ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ডলারের কেনাবেচা হয়। ডিসেম্বরেও ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ছিল কমবেশি ৭০ টাকা। এ সময়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭২ টাকা। ডলারের এ মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে তারল্য সংকটের মতই ডলার সংকট রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ডলার বাজারে সরবরাহ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হচ্ছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতেও ডলারের জমা রাখা জরুরী। ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনাও কিনেছে। ফলে, অফিসিয়াল চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ কিছুটা কম। এদিকে, রেমিটেন্স প্রবাহ আগামী দিনগুলোতে কমে আসার আশংকাও করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মসুযোগ নষ্ট হওয়ায় এ আশংকা করা হচ্ছে। আবার ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেও কেউ কেউ ডলারে বিনিয়োগ করেছে এমনটিও বলেছে কোন কোন সূত্র।
স্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদামত ডলার না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে তৃতীয় মুদ্রায় এলসি খুলতে হচ্ছে। থার্ড কারেন্সি (ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা পাউন্ড) কিনতেও বেশি দাম দিতে হয়। তাতে গড়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়।
বিশ্বব্যাপী ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে ডলারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে অনেকেই নেতিবাচক দিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেশি হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ভাসমান মুদ্রা বিনিময় হার চালু করলেও এখনো ডলারের মান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। রেমিটেন্স ও রফতানিতে উত্সাহ যোগাতে অনেকটা পরিকল্পিতভাবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমিয়ে রাখা হচ্ছে। যা আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন করতো। এখন সেটি অঘোষিতভাবেই করা হচ্ছে। প্রকৃত বিনিময় হার কার্যকর করা হলে টাকার মান বৃদ্ধি পেত। টাকার বিপরীতে ডলার দুর্বল হত। তাতে আমদানি পণ্যের দামও কম হতো।
ফিনান্সিয়াল ইকনোমিস্ট ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, এখন যেহেতু ডলার ছাড়াও অন্য মুদ্রায় আমদানি ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে, তাই ডলারের বাড়তি দাম ধরে রাখার কোন যুক্তি নেই। বরং টাকা ও ডলারের মূল্যমান প্রকৃত বাজারভিত্তিক করে দেয়াই উত্তম।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০৩ সালে মুদ্রার ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট বা ভাসমান বিনিময় হার বা বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে এটি করা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশংকা করছে, কার্যকর বিনিময় হার চালু থাকলে ডলারের দাম ৪/৫ টাকা কমে আসবে। কিন্তুু বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতির কারণে ডলারের বাড়তি দাম অব্যাহত থাকলে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়ে যাবে। তাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিও কার্যকারিতা হারাবে।

Thursday, July 7, 2011

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস

এস এম কৃষ্ণা এস এম কৃষ্ণা
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে অংশীদার হতে চায় ভারত। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকে এ আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন। আর অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে ভারতের পাশাপাশি নেপাল, ভুটানসহ সংশ্লিষ্ট সব দেশকে ট্রানজিট দেওয়ার কথা বলেছেন। এদিকে সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়ও এস এম কৃষ্ণা জানিয়েছেন, তাঁর দেশ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের অংশীদার হতে চায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল দুপুরে ঢাকায় এসেছেন এস এম কৃষ্ণা। তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে বিদ্যুৎ, বিনিয়োগ ও শুল্কবিষয়ক তিনটি চুক্তি সই হতে পারে।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি অধিকতর সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। গতকাল বেলা একটায় ভারতীয় বিমান-বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে এস এম কৃষ্ণাকে অভ্যর্থনা জানান দীপু মনি। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। সন্ধ্যায় তিনি সোনারগাঁও হোটেলে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তাঁর পরিকল্পনা কমিশনের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতের ১০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত ২০টি প্রকল্প ভারতের কাছে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে ১২টি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে। আমরা কথা বলেছি ট্রানজিট নিয়ে। আলোচনায় আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়টিও এসেছে।’
এস এম কৃষ্ণা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁকে জানিয়েছি, ঋণচুক্তির আওতায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’
বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ট্রানজিটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিণত করার যে বিষয়টি তোলেন, তাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত পোষণ করেন। বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপের অনুরোধ জানানো হলে তাতেও ইতিবাচক সাড়া দেয় ভারত। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব খাতে বিনিয়োগ করলে অসম বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে সহায়ক হয়, সেই ক্ষেত্রগুলোতে যেন ভারত বিনিয়োগ করে। বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশ শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করতে ভারতকে অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি ভারতের বাজারে আরও বেশি পরিমাণে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুরোধে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিত্তার ও দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক এ করিম উপস্থিত ছিলেন।
আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: পররাষ্ট্র মন্ত্র্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ সকাল ১০টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করবেন। এক ঘণ্টার আলোচনায় ২০১০ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দিল্লি শীর্ষ বৈঠকের যৌথ ঘোষণা পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত চিহ্নিতকরণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, শিক্ষাসহ দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য বিষয়।
সেপ্টেম্বরে দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকে সইয়ের জন্য বেশ কিছু চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল চূড়ান্ত করতে দুই দেশের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এসব চুক্তির মধ্যে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন এবং ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি হস্তান্তর ও সীমানা চিহ্নিতকরণ। এ ছাড়া সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হচ্ছে ট্রানজিটের আওতায় চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার, সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার, যৌথ বিনিয়োগে খুলনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, ভারতে বাংলাদেশের ৬১ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সুন্দরবনের বাঘ সুরক্ষাসংক্রান্ত চুক্তি ও প্রটোকল।
জানা গেছে, আজকের বৈঠকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শুল্ক বন্দরসংক্রান্ত তিনটি চুক্তি ও প্রটোকল সই হতে পারে।
বিমানবন্দরে: ঢাকা নেমেই এস এম কৃষ্ণা বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এ সফরে আসতে পেরে তিনি বেশ সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও গভীর অংশীদারি চায়।
কৃষ্ণা বলেন, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের নেতৃত্ব বেশ কয়েকটি নতুন ও ভবিষ্যৎমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে উষ্ণতম সময় পার করছে।
দীপু মনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছি।’
সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় সম্পাদকদের বলেছেন, তাঁর এ সফর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতির অংশ। তিনি জানান, ঢাকায় আসার আগে গত মঙ্গলবার তিনি মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও সহমর্মিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। কারণ, অনেক বিষয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, মতপার্থক্য নেই। এস এম কৃষ্ণা গত বছরের জানুয়ারির পর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
সম্পাদকদের পক্ষ থেকে অভিমত দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের পর দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত যদি দ্রুত বাস্তবায়িত না হয়, তবে মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরির অবকাশ থাকে। এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে কেন? উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০টি প্রকল্প তৈরি করেছে। এর মধ্যে দুই দেশের সম্মতিতে ১২টি অনুমোদিত হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আমলাতন্ত্র বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে এস এম কৃষ্ণা বলেন, যেটাই হোক না কেন, ভারতের নেতৃত্ব বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে বদ্ধপরিকর। দিল্লি শীর্ষ বৈঠকের পর অনেক কাজ হয়েছে। কারিগরি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব কাজ হচ্ছে, তা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগে।
শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে এস এম কৃষ্ণা বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত শান্তিপূর্ণ রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। ইদানীং সীমান্তের পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি আমরা আরও উন্নত করতে চাই।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন মাহবুবুল আলম, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মাহফুজ আনাম, গোলাম সারওয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন, আবেদ খান, মতিউর রহমান চৌধুরী ও মতিউর রহমান।

Saturday, July 2, 2011

২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য মেলা

আগামী ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলিতে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য মেলা ‘বাংলাদেশ এক্সপো-২০১১’। যুক্তরাজ্যভিক্তিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এক্সপোজিশন লিমিটেড প্রথমবারের মতো এ মেলার আয়োজন করছে।
বাংলাদেশ এক্সপো-২০১১-এর ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ইকবাল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুই দিনব্যাপী এ মেলায় বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রতিষ্ঠানের ৮১টি স্টল ও ছয়টি প্যাভেলিয়ন থাকবে। এসব পণ্য ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফ্যাশন হাউস, আবাসন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, পর্যটন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া মেলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরে ফ্যাশন শো, নাচ-গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মেলায় প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে বাংলাদেশের সুন্দরবনের পক্ষে ভোট চাওয়া হবে এবং প্রচার চালানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ এক্সপো-২০১১-তে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।
এক্সপোতে চ্যারিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেবা সংগঠন পেইন্টেড চিলড্রেন এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে এটিএন বাংলা।
এক্সপোতে বাংলাদেশের যেকোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More