Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label রহস্যময়. Show all posts
Showing posts with label রহস্যময়. Show all posts

Tuesday, September 20, 2011

 অর্থনীতি সামাল দিতে পারছে না সরকার

শওকত হোসেন ও মনজুর আহমেদ

মহা দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যস্ফীতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না সরকার। বরং দাতাদের শর্ত মেনে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির হার নিয়ে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এতে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৈরি চাপ কিছু কমলেও সংকট বাড়বে সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের। কারণ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতির চাপ আরেক দফা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতির একটি দুষ্টচক্রে ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ। শিগগির এখান থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। এ পরিস্থিতিতে আগামী দিনে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় সমস্যা থেকেই যাবে।
সম্পদ কোথা থেকে আসবে, তা বিবেচনা না করেই বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, কম দামে সেচসুবিধা ও সার প্রদান, মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে বাঁচাতে কম মূল্যে চাল বিতরণ এবং বর্তমান মেয়াদেই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। এতে ব্যয় বেড়েছে অনেক। কিন্তু এখন ব্যয় ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না সরকার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করতেই মূলত সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দিয়েই ওই রাতেই অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ১৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোসহ কয়েক দফা সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন সরকারকে দিয়েছে। আর সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর।
এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ আবারও মুদ্রা সরবরাহ কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে। আইএমএফ মনে করে, এতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে। তবে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি এখন যে পর্যায়ে চলে গেছে তাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে না চাহিদা বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, তা আর এভাবে পৃথক করা যাবে না। কেননা, একটা পর্যায়ে উঠে গেলে এটা আর আলাদা করা যায় না। ফলে আমরা একটা দুষ্টচক্রের মধ্যে ঢুকে পড়েছি বলা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে বাজেট পর্যালোচনার কথা বলেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় পর্যালোচনার সময়টা আরও একটু এগিয়ে এনে ব্যয় সাশ্রয়ের সময় এসেছে।’
অর্থবছরের শুরুতেই সংকট: নতুন অর্থবছরের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন খাতে দেওয়া ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আয়-ব্যয়ে তৈরি হচ্ছিল ভারসাম্যহীনতা। রাজস্ব আদায় এবং রপ্তানি আয় বাড়লেও সে তুলনায় সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ বেশি। এতে এক দিকে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমছে, ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়াও বেড়েছে। সব মিলিয়ে চাপের মধ্যে আছে সরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এ তসলিম বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলাম যে, সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ঝামেলা আছে। কিন্তু সরকার এটা আমলে নেয়নি। উপরন্তু অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে নিয়েছে। এতে একটা লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে।’
রাজস্ব আয়ের চেষ্টায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনেকখানি অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু ঘাটতি মেটাতে তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে সম্পদের জোগান পেতে ঋণ করার বিকল্প নেই। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ আগের অর্থবছরেই ৩০ শতাংশ কম হয়েছে। পদ্মা সেতুর কাজ করার আগেই দুর্নীতির অভিযোগসহ টানাপোড়েনের কারণে এবারও পর্যাপ্ত বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। ফলে ভরসা এখন অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের ঋণ ততটা সফল হয়নি। ফলে সরকার ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। সরকার বেশি ঋণ করায় বেসরকারি খাতের ঋণের জোগান কমে সুদের হার বেড়ে যাচ্ছে।
অধ্যাপক এম এ তসলিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা উঠলেই সরকার খালি বলে প্রবৃদ্ধি তো ভালো হচ্ছে। কিন্তু জিডিপির প্রবৃদ্ধি একটা উপাদান মাত্র। আর এই প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হবে। এ জন্য পরিকল্পনা করে বছর ভিত্তিতে অর্জন ধরে রাখতে হবে। ঋণের টাকায় এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কতটা সম্ভব, তা সামনের দিনগুলোতে বোঝা যাবে।’
শুরুতেই ব্যাংকঋণ: বড় অঙ্কের ধার দিয়েই বছরটি শুরু হয়েছে সরকারের। সূত্র জানায়, গত ২১ আগস্ট পর্যন্ত সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ করেছে পাঁচ হাজার ২২৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার নিয়েছে দুই হাজার ৮৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রি করে তুলে দিয়েছে দুই হাজার ৩৫৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
বলা হয়, তফসিলি ব্যাংক থেকে সরকার বেশি ঋণ করলে বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে আসে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ করলে, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী সময়ে তফসিলি ব্যাংকের কাছ থেকে তা তুলে নিতে না পারে তবে বাজারে নতুন টাকার সরবরাহ বেড়ে যায়। আর এতে বাড়ে দ্রব্যমূল্য, চাপ বাড়ে মূল্যস্ফীতিতে।
২০১০-১১ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ করেছিল প্রায় ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা একটি নতুন রেকর্ড। এই ঋণের প্রায় অর্ধেকটা নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন টাকা ছেপে সরকারের এই চাহিদা মিটিয়েছে।
সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি: নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবমতে, গত আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত ৪৩ মাসের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের সময়ে এটাই সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি।
দুই বছর ধরেই মূল্যস্ফীতির চাপ রয়ে গেছে। সরকারও মূল্যস্ফীতির হার কমাতে ব্যর্থ হয়ে মূল্যস্ফীতিকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক এম এ তসলিম বলেন, এর ক্ষতিকারক দিকও আছে। ব্যবসায়ীরা যখন বুঝে নেবেন যে বছর বছর এটা চলবে, তখন তাঁরা তাঁদের পণ্যমূল্যের মধ্যে আগেভাগেই নতুন মূল্যস্ফীতিকে হিসাব করে নেবেন। এতে মূল্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
এদিকে, ভর্তুকি সমন্বয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাবে আরেক দফা বাড়বে মূল্যস্ফীতি। মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যেই ভোক্তা মূল্যসূচকে গিয়ে যুক্ত হচ্ছে। আবার এর প্রভাব পড়বে উৎপাদনে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে চাপ আরও বাড়াবে।
এম এ তসলিম বলেন, ‘এই অবস্থা কারও জন্যই ভালো হবে না। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের যে অবস্থা তাতে রাজনৈতিক বিবেচনা উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্ত হাতে মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করে মূল্যস্তরকে সামাল দিতে পারবে, আমি তা মনে করি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার কোনো পথ আমি দেখছি না। ফলে আগামী দিনে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় সমস্যা থেকেই যাবে।’
লেনদেনের ভারসাম্যেও চাপ: চলতি অর্থবছরে এরই মধ্যে ৯০ কোটি ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এটা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমা শুরু হয়েছে। বর্তমান মজুদ দিয়ে মাত্র দুই মাসের কিছুদিন বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এবার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ এবং আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশের কাছাকাছি হলে বাণিজ্য ঘাটতি থাকবেই। এর মধ্যে বৈদেশিক সাহায্য ও প্রবাসী-আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হবে বলে অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন না। এ রকম বাস্তবতায় বিনিময় হারও বাড়বে। এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০১০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর টাকা-ডলারের গড় বিনিময়মূল্য ছিল ৬৯ টাকা ৫৮ পয়সা। আর এখন তা ৭৪ টাকা ৫৫ পয়সা। অর্থাৎ এবারও বেশি দাম দিয়েই পণ্য আমদানি করতে হবে। আর এর চাপ পড়বে আবারও মূল্যস্ফীতিতে।

Friday, July 29, 2011

সেই কাবো থেকে আবার উড়োজাহাজ ভাড়ার চেষ্টা

বাংলাদেশ বিমানের হজ-ফ্লাইটের জন্য নাইজেরিয়ার বিতর্কিত সেই কাবো এয়ারলাইনস থেকে আবারও উড়োজাহাজ ভাড়ার তৎপরতা চলছে।
বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অন্যান্য দরদাতার চেয়ে কাবোর উড়োজাহাজের ভাড়া অনেক বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে। তার পরও কাবো থেকেই উড়োজাহাজ ভাড়া করতে চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। এই অবস্থায় বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিমান সূত্র জানায়, আগামী হজ-ফ্লাইটের জন্য দুটি বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজ ভাড়া করার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তিন দফা দরপত্র আহ্বান (আরএফপি—রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) করে।
প্রথম দফায় চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তাতে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল অস্ট্রেলিয়ার অজবান অ্যারোনটিক্যাল সার্ভিসেস। তারা হজ উপলক্ষে তিন মাসের জন্য উড়োজাহাজটির প্রতি উড্ডয়ন ঘণ্টা নয় হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছিল। আর এক বছরের জন্য অপরটির অবশ্য অনেক কম দর প্রস্তাব করেছিল। এ সময় কাবো এয়ারের প্রস্তাব ছিল তৃতীয় সর্বনিম্ন দর।
জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহম্মদ জাকিউল ইসলামও বলেন, অজবানের চেয়ে কাবোর দরপ্রস্তাব ছিল অনেক বেশি। অজবান সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও তারা শর্ত দেয় যে তাদের দুটি উড়োজাহাজই ভাড়া নিতে হবে। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার আটলান্টা আইসল্যান্ডিকের কাছ থেকে একটি বোয়িং এক বছরের জন্য ভাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই বিমান অজবান থেকে হজের জন্য একটি বোয়িং ভাড়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তাই আরও দুবার আরএফপি করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ ৩ জুলাই তৃতীয় দফা দরপত্র বা আরএফপি করা হয়। তাতে কাবোসহ মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিদেশি একটি উড়োজাহাজ লিজিং কোম্পানির ঢাকার একজন প্রতিনিধি প্রথম আলোকে বলেন, বিমানের কার্যক্রমে মনে হয়েছে, তারা কাবো থেকেই উড়োজাহাজ ভাড়া করতে নানা কারসাজি করছে, তাই তাদের মতো অনেকে দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী হয়নি।
বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, তারাও একই রকম অভিযোগ পেয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভায়ও এ নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে কাবো থেকে উড়োজাহাজ ভাড়ার বিপক্ষে মত দেন পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য। তাঁদের মতে, কাবোর মতো বিতর্কিত এয়ারলাইনস থেকে আবার হজের জন্য উড়োজাহাজ ভাড়া করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।
বিমানের এমডি স্বীকার করেন, কাবোর প্রস্তাব নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে সমালোচনা হয়েছে। তাই আরেক দফা প্রস্তাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সেটা দরপত্র বা আরএফপি নয়, সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিমানের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে প্রস্তাব চাওয়া।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভায়ও কাবো থেকে উড়োজাহাজ ভাড়া করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বিমান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে কমিটির সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল প্রথম আলোকে বলেন, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বিমান এখন এক বছরের জন্য একটি বোয়িং-৭৪৭-৪০০ ভাড়া নিতে চায়। এখন দুটি এয়ারলাইনসের প্রস্তাব আছে। এর একটি এয়ার আটলান্টা আইসল্যান্ডিক, আরেকটি কাবো। এর মধ্যে ভালো প্রস্তাবটিই গ্রহণ করতে বলেছে কমিটি।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, গত বছর ব্যর্থ হয়ে এবার আরও আটঘাট বেঁধে কাবোর পক্ষে একটি মহল চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে। এর আগে গত বছর হজ-ফ্লাইটের জন্য কাবো থেকে ২৬ বছরের পুরোনো ত্রুটিপূর্ণ একটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিল। এ নিয়ে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত বিমানমন্ত্রী জি এম কাদের রাজি না হওয়ায় সেটি ভাড়া করা হয়নি। তখন এ নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী কমিটি ও বিমানের চেয়ারম্যানের বেশ টানাপোড়েন, এমনকি মন্ত্রীর পদত্যাগের মতো পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিল।
এ বছর উড়োজাহাজ ভাড়া প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত, এমন একজন পদস্থ কর্মকতা এ প্রতিনিধিকে বলেন, তাঁরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছেন, তাতে কাবো থেকে একটি ৫৮২ আসনের বোয়িং তিন মাসের জন্য ভাড়া করা হলে হজফ্লাইট নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যাবে।
বিমানের হজযাত্রী পরিবহন শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর। এবার বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা এক লাখ আট হাজার। এর মধ্যে ৪৪ হাজার বিমান পরিবহন করবে বলে জানিয়েছেন এমডি জাকিউল ইসলাম। বাকি ৬৬ হাজার সৌদিয়াসহ অন্যান্য দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা পরিবহন করবে।

Tuesday, July 26, 2011

 চায়ের নিলাম বাজার প্রথমবার ক্রেতাশূন্য

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো ‘চায়ের নিলাম বাজার’ আজ মঙ্গলবার ছিল ক্রেতাশূন্য। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এ বাজারে প্রথমবারের মতো কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। সরকার নিলাম মূল্যের ওপর নতুন করে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আরোপ করার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা চা কেনা বন্ধ রাখেন। এতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নিলাম বাজার সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সারা দেশের চায়ের নিলাম হয় চট্টগ্রামে। প্রতি নিলামে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার চা বিক্রি হয়।
জানা গেছে, আগের নিয়মে ক্রেতাদের ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ২ শতাংশ পাইকারি মূল্য কর দিতে হতো। সে হিসেবে প্রতি নিলাম মূল্যে চা কেনার পর ক্রেতাদের ১৭ শতাংশ কর দিতে হয়। নতুন করে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আরোপের ফলে এ কর দাঁড়াবে ২২ শতাংশে। আগের নিয়মে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার চা বিক্রি হলে সরকার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার মতো রাজস্ব পেত। আজকে নিলাম বন্ধ থাকায় সরকার এ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলো।
বাংলাদেশে চা বাগান আছে ১৬৪টি। এসব বাগান থেকে প্রতি বছর প্রায় ছয় কোটি কেজি চা উত্পাদন হয়। বাগান মালিকেরা তাঁদের নির্ধারিত প্রতিনিধির (ব্রোকার হাউস) মাধ্যমে নিলাম বাজারে চা বিক্রি করে থাকেন।
নিলাম বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এভাবে নিলাম বাজারে ক্রেতা পাওয়া না গেলে প্রত্যক্ষভাবে চা বাগান মালিক এবং পরোক্ষভাবে দেশের চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশ চা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউছুফ নিলাম বাজারে কোনো চা বিক্রি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রামের নিলাম বাজারে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার চা বিক্রি হয়ে আসছে। সরকারের অতিরিক্ত কর আরোপের কারণে আজ নিলাম বাজারে চা কেনাবেচা হয়নি। প্রথম আলো

বাজারে ফিরে এসেছে চিনি

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের পর বাজারে ফিরে এসেছে চিনি। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে কিছু দোকানে এখনো ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রমজানের নিত্যপণ্যের মধ্যে ছোলা, খেজুর, মুড়ি ও গুড়ের বাজার এখনো চড়া। তবে চাল, ডাল, মটরের (ডাবলি) দাম তেমন একটা বাড়েনি। কয়েক দিন ধরে এ পণ্যগুলোর দাম ব্যবসায়ীরা এতটাই বাড়িয়েছেন যে এখন নতুন করে আর বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। তার চেয়ে বর্তমান দামটিই ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছেন তাঁরা।
এ ছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে গুঁড়ো দুধের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। মুরগির দাম কিছু কমেছে। আর গরু ও খাসির মাংসের দর বেঁধে দিলেও এখনো তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
সরকার-নির্ধারিত দরে চিনি: গত বুধবার চিনির দর বেঁধে দেওয়ার পর বাজার থেকে উধাও ছিল চিনি। সেই চিনির দেখা মিলেছে গতকাল সোমবার। যেসব দোকানে চিনি ছিল, গতকাল সেগুলোয় বিক্রি হয়েছে সরকার-নির্ধারিত ৬৫ টাকা দরে।
সকালে পলাশী বাজারে গিয়ে বেশির ভাগ দোকানে চিনির দেখা মেলে। কয়েকজন দোকানি জানান, পাইকারি বাজার থেকে ঠিকমতো সরবরাহ করায় তাঁরা এখন চিনি আনতে পারছেন। এ কারণে ৬৫ টাকায় বিক্রিও করতে পারছেন।
তবে পলাশী বাজারেরই কয়েকটি দোকানে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। কারণ জানতে চাইলে দোকানিরা জানান, এ কয়দিন ৭০ টাকায় পাইকারি বাজার থেকে চিনি কিনেছেন। এ দামে বিক্রি করেই তাঁদের লোকসান হচ্ছে। ৬৫ টাকায় এ চিনি বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন বলে তাঁরা জানান।
হাতিরপুল বাজারের ভেতর ও বাইরে, পূর্ব তেজতুরী বাজার এবং পল্টনের বিভিন্ন দোকানেও ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গতকাল দুপুরে নয়াবাজারের অধিকাংশ দোকানে চিনি পাওয়া যায়নি। তিনটি দোকানে চিনি থাকলেও ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দাম চাওয়া হয়। এক দোকানি এইমাত্র চিনি এসেছে বলে জানান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, এখন থেকে ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন।
গত কয়েক দিনের চিনিশূন্য কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোতেও গতকাল দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রায় সব দোকানেই চিনি বিক্রি হচ্ছে। দোকানি মাসুদ রানা বলেন, ‘এত দিন বাজারে চিনি ছিল না। আমরা কিনতে গিয়েও পাইনি। গতকাল (রোববার) বাজারে দু-তিন হাজার বস্তা চিনি এসেছে। এ কারণে সব দোকানে এখন চিনি আছে।’
খোলা সয়াবিন এখনো কম: নয়াবাজারের বেশির ভাগ দোকান ঘুরে খোলা সয়াবিন তেলের দেখা মেলেনি। একই অবস্থা পলাশী ও হাতিরপুল বাজারেও। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১৩ টাকা পর্যন্ত। তবে কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং বিক্রিও হচ্ছে সরকার-নির্ধারিত দাম ১০৯ টাকায়।
খুচরা দোকানগুলোয় বেশি বিক্রি হচ্ছে বোতল ও প্যাকেটজাত তেল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়।
চালের দর খুচরায় বেশি: পাইকারি বাজারে গত কয়েক দিনে চালের দাম বাড়েনি। তবে খুচরা বিক্রেতারা চাল বিক্রি করছেন বেশি দামে। এক সপ্তাহে কোনো কোনো চালের দাম দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে মোটা চালের দাম গতকাল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা দেখানো হলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। নয়াবাজার কাঁচাবাজারে বিআর-২৮ চাল ৩৮ থেকে ৪০, নাজিরশাইল ৪৮ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজার ও পলাশী বাজারে দর ছিল নাজিরশাইল ৫২, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৬, পারিজা ৪০ ও পাইজাম ৩৮ থেকে ৪২ টাকা।
ছোলার দাম চড়ছেই: সাধারণ মানুষ যে ছোলাটা কেনে, রাজধানীর খুচরা দোকানগুলোয় তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর উন্নত মানের ছোলার দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, ছোলার দাম কমেছে। রাজধানীর রহমতগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জে সাধারণ ছোলা ৫৮ থেকে ৬০ এবং উন্নত মানের ছোলা সর্বোচ্চ ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই ধরনের ছোলাতেই দাম কমেছে দুই টাকা।
এ ছাড়া খুচরা দোকানে দেশি মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯৫, বিদেশি ডাল ৭৫ থেকে ৮০ এবং মুগ ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের বাজার গরম: রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানে চড়া দামে খেজুর বিক্রি হচ্ছে। বাংলা খেজুর ৬০, মরিচা ১০০ থেকে ১২০, নাগা ১১০ থেকে ১২০, বড়ই ১৭০ থেকে ১৮০ ও মরিয়ম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত খেজুরের দাম আরও চড়া।
বেড়েছে গুঁড়ো দুধের দাম: গত এক সপ্তাহে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। দোকানিরা জানান, এক কেজির প্যাকেটের মার্কস দুধের দাম ৪২০ থেকে বেড়ে ৪৪০, ফ্রেশ ৪১৫ থেকে ৪২৫, ডিপ্লোমা ৪৯০ থেকে ৫১০ টাকা হয়েছে।
মাংস ও মুরগি: ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংস ২৭০ এবং বিদেশি গরুর মাংস ২৫০, মহিষের মাংস ২৪০, খাসির মাংস ৪০০, বকরি ও ভেড়ার মাংস ৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।
কারওয়ান বাজারে গিয়ে গতকাল গরুর মাংস ২৭০ ও খাসির মাংস ৪২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার ধূপখোলা বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম ছিল ২৭০ ও ৪০০ টাকা।
তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। কারওয়ান বাজারে এর দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজিতে। আর দুই বাজারেই দেশি মুরগির দর ছিল যথাক্রমে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা।
ডিসিসিকে চিঠি: রাজধানীর সব দোকানে দৃশ্যমান স্থানে নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) গতকাল চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে খুচরা দোকানিরা ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করতে পারবেন না।
আমাদের চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে গতকাল চিনির সরবরাহ বেড়েছে। এস আলম গ্রুপ উৎ পাদন শুরুর পর ২৪০ জন পরিবেশকের মাধ্যমে চিনি সরবরাহ করছে। গতকাল থেকে ব্যবসায়ী গ্রুপটি পাঁচটি স্থানে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি শুরু করেছে। এ পাঁচ স্থানে ৬৫ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। তবে সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সরকারি দরের চেয়ে লিটারপ্রতি দুই টাকা কমে অর্থাৎ ১০৭ টাকায়।
এস আলম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মীর মইনুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ন্যায্যমূল্যের কেন্দ্রের সংখ্যা ২০-২৫টিতে উন্নীত করা হবে।
এ ছাড়া বিএসএম গ্রুপ ১৪ জন পরিবেশকের মাধ্যমে গতকাল থেকে ছয় টন করে চিনি সরবরাহ করছে। পরিবেশকদের কাছে এই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়। পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতাদের কেজিপ্রতি ৬৩ টাকায় চিনি সরবরাহ করবেন। পাশাপাশি আজ মঙ্গলবার থেকে ৫৫ টাকায় ছোলাও বিক্রি করবে প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাজারে এখন আগের চেয়ে চিনির সরবরাহ বেশি। এ কারণে চিনির দামে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।
খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজার থেকে ন্যায্যমূল্যে চিনি কিনতে পারায় চট্টগ্রামের কয়েকটি বাজারের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে চিনি বিক্রি হচ্ছে। কাজীর দেউড়ি বাজারের খান ডিপার্টমেন্ট স্টোর গতকাল ৬৪ টাকায় তিন বস্তা চিনি কিনে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে।
আবার বেশি দামে কেনা খুচরা ব্যবসায়ীরা এখনো ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন। কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারের রাকিন ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো সরকারি দামে চিনি কিনতে পারিনি। এ কারণে এই বাজারে ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি হচ্ছে।’

Sunday, July 10, 2011

ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী

Details
বাজারে ডলার সংকটে ডলারের দাম অস্থির হয়ে উঠছে। হঠাত্ করেই খোলা বাজারে চড়ে গেছে ডলারের দাম। বাজারে ডলারের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত সরবরাহ না করায় ডলার সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি দামও অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাস্ফীতি ও কার্যকারিতা হারাবে। তবে বাজারে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকিং সূত্র জানায়, গেল সপ্তাহে ৭৪ টাকা ৫৬ পয়সা পর্যন্ত ডলারের দাম উঠে। তবে ব্যাংক ও গ্রাহকভেদে এর কিছুটা হেরফের হয়েছে। ডলারের দাম বাড়তে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলিফোনে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করলেও কখনো কখনো নিষ্ক্রীয় ভূমিকা পালন করে।
সূত্র জানায়, ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ার ফলে কার্ব মার্কেটেও ডলারের দাম বেড়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৭৮ টাকা পর্যন্ত কার্ব মার্কেটে ডলারের লেনদেন হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ৭১ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ডলারের কেনাবেচা হয়। ডিসেম্বরেও ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ছিল কমবেশি ৭০ টাকা। এ সময়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭২ টাকা। ডলারের এ মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে তারল্য সংকটের মতই ডলার সংকট রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ডলার বাজারে সরবরাহ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হচ্ছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতেও ডলারের জমা রাখা জরুরী। ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনাও কিনেছে। ফলে, অফিসিয়াল চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ কিছুটা কম। এদিকে, রেমিটেন্স প্রবাহ আগামী দিনগুলোতে কমে আসার আশংকাও করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মসুযোগ নষ্ট হওয়ায় এ আশংকা করা হচ্ছে। আবার ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেও কেউ কেউ ডলারে বিনিয়োগ করেছে এমনটিও বলেছে কোন কোন সূত্র।
স্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদামত ডলার না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে তৃতীয় মুদ্রায় এলসি খুলতে হচ্ছে। থার্ড কারেন্সি (ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা পাউন্ড) কিনতেও বেশি দাম দিতে হয়। তাতে গড়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়।
বিশ্বব্যাপী ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে ডলারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে অনেকেই নেতিবাচক দিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেশি হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ভাসমান মুদ্রা বিনিময় হার চালু করলেও এখনো ডলারের মান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। রেমিটেন্স ও রফতানিতে উত্সাহ যোগাতে অনেকটা পরিকল্পিতভাবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমিয়ে রাখা হচ্ছে। যা আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন করতো। এখন সেটি অঘোষিতভাবেই করা হচ্ছে। প্রকৃত বিনিময় হার কার্যকর করা হলে টাকার মান বৃদ্ধি পেত। টাকার বিপরীতে ডলার দুর্বল হত। তাতে আমদানি পণ্যের দামও কম হতো।
ফিনান্সিয়াল ইকনোমিস্ট ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, এখন যেহেতু ডলার ছাড়াও অন্য মুদ্রায় আমদানি ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে, তাই ডলারের বাড়তি দাম ধরে রাখার কোন যুক্তি নেই। বরং টাকা ও ডলারের মূল্যমান প্রকৃত বাজারভিত্তিক করে দেয়াই উত্তম।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০৩ সালে মুদ্রার ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট বা ভাসমান বিনিময় হার বা বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে এটি করা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশংকা করছে, কার্যকর বিনিময় হার চালু থাকলে ডলারের দাম ৪/৫ টাকা কমে আসবে। কিন্তুু বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতির কারণে ডলারের বাড়তি দাম অব্যাহত থাকলে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়ে যাবে। তাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিও কার্যকারিতা হারাবে।

Monday, July 4, 2011

দুই দফা বেড়েছে বিভিন্ন মনিহারি পণ্যের দাম


চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, আটার দাম বাড়লে মানুষের যেমন নাভিশ্বাস ওঠে; তেমনি সরকারি-বেরসকারি পর্যায়ে আলোচনাও কম হয় না। তবে এর বাইরেও কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য আছে, যেগুলোর দাম বাড়লেও থেকে যায় আলোচনার বাইরে। মনিহারি পণ্যগুলোই আছে এই তালিকায়। উপায় না দেখে বেশি দামেই মানুষ মনিহারি পণ্য কিনছে।
গত মাসে বাজেট ঘোষণার আগে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বাজার ঘুরে বিভিন্ন মনিহারি পণ্যের দাম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। তখন এসব পণ্যের দাম ৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। দাম বেড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল: গায়ে মাখার সাবান, কাপড় ধোয়ার সাবান ও গুঁড়ো, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, শেভিং ক্রিম, মুখে মাখার ক্রিম, ফেসওয়াশ। এমনকি বেড়েছে মোমের দামও।
বাজেট ঘোষণার পরও কয়েকটি মনিহারি পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে কিছু পণ্যের দামে এখনো বাজেটের ছোঁয়া লাগেনি। তাই আগের দামেই এসব বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মনিহারি পণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়ে না। কিন্তু যখন বাড়ে, তখন একটু বেশিই বেড়ে যায়। বাজেটের আগে পরিবেশকেরা বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। একই অবস্থা হয় বাজেটের পরও।
গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে গায়ে মাখার সাবানের দাম ছয় টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ১০০ ও ১৫০ গ্রাম লাক্স সাবানের দাম ছয় টাকা করে বেড়ে হয় ২৬ ও ৩৬ টাকা। ১৩০ গ্রাম ওজনের ডেটল সাবানের দাম পাঁচ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ টাকায়। তিব্বত, মেরিল ও কেয়া সাবানের দাম বাড়ে দুই টাকা করে। আর বাজেটের পর ডেটল, মেরিল ও তিব্বত সাবানের দাম এক টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
বাজেটের আগে কাপড় ধোয়ার সাবানের দাম বাড়ে চার থেকে ১২ টাকা। এক কেজির ‘পঁচা’ সাবানের প্যাকেটের দাম ১২ টাকা বেড়ে হয় ৪০ টাকা। হুইলের দাম পাঁচ, চাকা ও তিব্বত বল সাবানের দাম চার টাকা করে বাড়ে। তবে ৪০ টাকার ‘পঁচা’ সাবানের প্যাকেটের দাম এখন ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। বাকিগুলোর দাম তেমন বাড়েনি।
বাজেটের আগেই কাপড় ধোয়ার পাউডারের (ডিটারজেন্ট) দাম বেড়েছিল দুই থেকে ১০ টাকা। তিব্বত, হুইল ও হুইল পাওয়ার হোয়াইট, চাকা, কেয়া, সার্ফ এক্সেল সবগুলো পাউডারের দামই মোটামুটি একরকম। তখন হুইল পাউডারের ২০০, ৫০০ গ্রাম ও এক কেজির দাম ছিল ১৩, ২৭ ও ৫২ টাকা। জানুয়ারিতে এই পাউডারগুলোর দাম ছিল ১০, ২৪ ও ৪৪ টাকা। আর বাজেটের পর এগুলোর দাম হয়েছে ১৪, ২৮ ও ৫৪ টাকা।
বাজেটের আগে বিভিন্ন কোম্পানির শ্যাম্পুর দাম বাড়ে ১০ থেকে ৫০ টাকা। তখন সানসিল্কের ৪০০ মিলিলিটার বড় কৌটার দাম ২৩৫ থেকে বেড়ে হয় ২৬০ টাকা। আর মাঝারি ও ছোট কৌটার দাম ১০ টাকা বেড়ে হয় ১৪০ ও ৭০ টাকা। অল ক্লিয়ার ৪০০ এমএল কৌটার দাম ২০ টাকা বেড়ে হয় ২৯০ টাকা। মাঝারি ও ছোট কৌটার দাম ১০ টাকা করে বেড়ে ১৭০ ও ৯০ টাকা হয়। ডাভ বড় কৌটার দাম ৪০ টাকা বেড়ে ৩৭০, মাঝারি কৌটা ৩০ টাকা বেড়ে ২১০ ও ছোট কৌটা ২৫ টাকা বেড়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। ২০০ এমএল গার্নিয়ার শ্যাম্পুর দাম ৭০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা হয়। গত দুদিনে দোকানিরা বলেছেন, এখনো এই দামেই শ্যাম্পু বিক্রি হচ্ছে।
টেলকম পাউডারের দামও বাড়ে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। ২০০ গ্রাম ওজনের তিব্বত পাউডারের দাম গত ছয় মাসে ৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। একই পরিমাণের জনসন পাউডারের দাম ৯৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৫ টাকা। তবে বাজেটের পর এই পাউডারের দাম আরও ১০ টাকা বেড়েছে।
তবে গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে নারকেল তেলের। গত তিন মাসে নারকেল তেলের দাম বাড়ে ৩০ টাকা। ২০০ গ্রাম জুঁই নারকেল তেলের দাম ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯০ টাকা। ৪০০ গ্রাম গন্ধরাজ তেলের দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৬৫ টাকা। ৫০০ গ্রাম প্যারাসুটের কৌটার দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৯০ টাকা। এখনো এই দামেই তেল বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে টয়লেট পরিষ্কারকের দামও। হারপিকের ছোট, মাঝারি ও বড় কৌটার দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১৩ টাকা। শক্তি ও ভ্যানিশ ব্র্যান্ডের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা করে।
দাম বাড়ানোর হাত থেকে রেহাই পায়নি মোমও। ছয় মাস আগে যেখানে ৩০ টাকায় এক ডজন মোম কেনা যেত, বাজেটের আগে ক্রেতাদের তা ৪২ টাকায় কিনতে হয়েছে। আর এখন এক ডজন মোম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
শনির আখড়ার মিয়া গিফট কর্নারের মালিক মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘কোম্পানি যে দাম নির্ধারণ করে, সেই দামেই আমাদের বিক্রি করতে হয়। আমরা চাইলেই কম দামে জিনিস বিক্রি করতে পারি না।’
গত ছয় মাসে ফেসওয়াশের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। পন্ডস ফেসওয়াশের বড় বোতলের দাম ৮৫ থেকে বেড়ে বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। ছোট বোতলের দাম ৫০ থেকে হয় ৫৫ টাকা। তবে পন্ডস স্ক্রাবের বোতলের দাম ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। ডাভ ফেসওয়াশের বড় ও ছোট বোতলের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে। মুখে মাখার ক্রিম ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির দাম বাড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা। তিব্বত ও পন্ডস স্নোর দাম পাঁচ টাকা করে বাড়ে।
শেভিং ফোমের দাম ছয় মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। ২০০ এমএল ফোমের কৌটার দাম ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮৫ টাকা। কোনো কোনো দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়। ১০০ এমএল কৌটার দাম ১১৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি কাজী ফারুক গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, নজরদারি না থাকায় এসব পণ্যের দাম সব সময়ই বাড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চাতুর্যপূর্ণ ব্যবসার কৌশল। এই কৌশলের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন পণ্যে একটু ওজন বাড়িয়ে এখন তা বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু যে পরিমাণ ওজন বাড়ানো হচ্ছে, দাম নেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

Sunday, June 19, 2011

তিন টাকার শেয়ার তিন বছরে ১১৯ টাকা!

২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল তিন টাকা ৭০ পয়সা। ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই দাম বাড়তে বাড়তে পৌঁছায় সর্বোচ্চ ১১৯ টাকা ১০ পয়সায়।
অর্থাৎ তিন বছরে প্রতিটি শেয়ারের দাম বাড়ে প্রায় ৩২ গুণ। এ সময়ে কোম্পানিটির বাজার মূলধন মাত্র সাত কোটি পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
নানা কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ার এ চমক দেখায় ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মৎস্য খাতের কোম্পানি বিচ হ্যাচারি লিমিটেড।
কখনো কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে উদ্যোক্তারা নিজেই, কখনো ঋণসুবিধা-বহির্ভূত এ কোম্পানির শেয়ার কিনতে গ্রাহকদের মোটা অঙ্কের ঋণসুবিধা দিয়ে ঋণদাতা কিছু প্রতিষ্ঠান, আবার কখনো একদল বিনিয়োগকারী সংঘবদ্ধ হয়ে কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আর এ সুযোগে কোম্পানির সংরক্ষিত (সাসপেন্স) হিসাব থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২১ হাজার শেয়ার গোপনে বিক্রি করে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন কোম্পানির দুই কর্মকর্তা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশে কোম্পানির লেনদেনের তথ্যানুসন্ধান করে কারসাজির এসব ঘটনা উদ্ঘাটন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কিন্তু এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সদস্যের কারণে সে সময় এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে শেয়ারবাজার ধসের কারণ অনুসন্ধানে সরকারের উদ্যোগে কমিটি গঠনের পর নড়েচড়ে বসে এসইসি। এ সময় অভিযুক্ত কয়েকটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীকে শুনানিতে ডাকা হয়। তবে এসইসির পরিবর্তন ও পুনর্গঠন-জটিলতায় বিষয়টির তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটিও কোম্পানিটির শেয়ারের দর বাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি আমার কাছে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি এটি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়েছি।’
২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি কোম্পানি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, তারা এক কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার পৌর এলাকায় এক দশমিক ২৭ একর জমি কিনেছে। নিবন্ধনসহ যার ব্যয় দেখানো হয় এক কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর কিছু দিন আগে কোম্পানির একাধিক উদ্যোক্তা বিপুল পরিমাণ শেয়ার লেনদেন করেন। এ তথ্য উল্লেখ করে পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সুবিধাভোগী বা ইনসাইডার লেনদেনের সন্দেহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদন: ডিএসইর প্রতিবেদনে ঋণসুবিধাবহির্ভূত থাকা সত্ত্বেও বিচ হ্যাচারির শেয়ার কিনতে গ্রাহকদের ঋণ ও আর্থিক সমন্বয় (নেটিং) সুবিধা দিয়েছে এমন পাঁচটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, পিএফআই সিকিউরিটিজ, ব্যাংক এশিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক। সব প্রতিষ্ঠানই পরে ডিএসইর কাছে লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ ও এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করেছে। এসইসির শুনানিতেও তারা একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বিচ হ্যাচারির শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেনের সঙ্গে ১৯ জন বিনিয়োগকারীর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে কখনো এককভাবে, আবার কখনো সংঘবদ্ধভাবে এসব বিনিয়োগকারী কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটান। এর বাইরে আরও আটজন বিনিয়োগকারীর নিয়ম ভেঙে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে নেটিং ও ঋণসুবিধা নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এ তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন: শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইমরান, এস কে মনসুর আলী, হালিমা খাতুন, নোমান ইসলাম, আবু আহমেদ, এস এম জিল্লুর রহমান ও জিয়াউদ্দিন আদিল।
সংরক্ষিত হিসাবের শেয়ার আত্মসাৎ: ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানির সংরক্ষিত হিসাবে থাকা শেয়ারধারীদের প্রাপ্য ২১ হাজার বোনাস শেয়ার আত্মসাৎ করেছেন কোম্পানি সচিব (তৎকালীন) নূর ইসলাম ও শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল আলীম। এর মধ্যে সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেন কোম্পানি সচিব আর চার লাখ টাকা নেন শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা। দুজনই বিষয়টি লিখিতভাবে ডিএসইর তদন্ত দলের কাছে স্বীকার করেছেন।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাসপেন্স হিসেবে সাধারণত বিভিন্ন কারণে অবণ্টিত শেয়ার জমা থাকে। পরে দাবিদার খুঁজে পাওয়া গেলে ওই সব শেয়ার বণ্টন করা হয়। প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে কোম্পানির হিসাবে সংরক্ষিত থাকা এসব শেয়ার বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
যোগাযোগ করা হলে নূর ইসলাম বলেন, ‘কোম্পানির সাসপেন্স হিসাব থেকে ২১ হাজার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কোম্পানির শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল আলীমই এসব শেয়ার বিক্রি করেছেন।’
ডিএসইর তদন্ত দলের কাছে কেন লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, জানতে চাইলে ডিএসইর লোকজন জোর করে তাঁর কাছ থেকে এ স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। নূর ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে কোম্পানি সচিবের দায়িত্বে নেই। তবে কোম্পানির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
মূল্য সংবেদনশীল তথ্য-প্রতারণা: ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল কোম্পানির পক্ষ থেকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে জানানো হয়, পরিচালনা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানি সমুদ্রগামী চারটি ট্রলার কিনবে, যা মাছ ধরা, প্রক্রিয়াজাত করা ও রপ্তানির কাজে ব্যবহার করা হবে। এমন তথ্য প্রকাশের পরদিন ১৩ এপ্রিল ডিএসই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে দেয়। চারটি সমুদ্রগামী ট্রলার কেনার বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে কোম্পানিকে চিঠি দেয় ডিএসই। চিঠির জবাবে ২৭ এপ্রিল কোম্পানি জানায়, চারটি ট্রলার কিনতে ৬০ কোটি টাকা খরচ হবে। এ জন্য কৃষি ব্যাংকে ঋণ আবেদন করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ওই দিনই ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, কোম্পানির প্রায় ১০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যার কারণে কোম্পানিটিকে নতুন করে চারটি ট্রলার কেনার ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া কোম্পানি সচিব নূর ইসলাম এক চিঠি দিয়ে ডিএসইকে জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা সি ফুডস লিমিটেড ও তার দুটি কারখানা অধিগ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের প্রাথমিক প্রস্তুতিও কোম্পানি শুরু করেছে। যদিও এসব ব্যবসায়িক পরিকল্পনার বিষয়ে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় কোনো ধরনের আলোচনাই হয়নি। কোম্পানিটির এসব তথ্য ডিএসই কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে নূর ইসলাম জানান, তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। আর চেয়ারম্যানকে টেলিফোনে পাওয়া যায়নি।
এসব মূল্য সংবেদনশীল তথ্য শেয়ারের দর বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। শেয়ারটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল এসইসিও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দাম বাড়ানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউস আরাফাত সিকিউরিটিজ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি মজিবুর রহমানকে পৃথকভাবে মোট ৫১ লাখ টাকা জরিমানা করে এসইসি।
২০০৬ ও ২০০৭ সালে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। অথচ পরের তিন বছর যথাক্রমে ১০, ১২ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা হয়।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More