Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label বিচিত্র. Show all posts
Showing posts with label বিচিত্র. Show all posts

Monday, August 8, 2011

খাওয়া কম, কথা বেশি


সৃষ্টির রহস্য অপার। একই অঙ্গ দিয়ে আমরা একাধিক কাজ করে থাকি। যেমন ধরুন, কান দিয়ে আমরা শুনি, আবার কানে চশমাও গুঁজি। নাক দিয়ে আমরা শ্বাস নিই, গন্ধ শুঁকি, আবার নাক দিয়ে নাক ডাকি। চোখ দিয়ে দেখি, আবার চোখ দিয়ে অশ্রুপাত করি। মাথা দিয়ে আমরা দেহটাকে চালাই, মাথা খাটাই, আবার মাথাব্যথায় ভুগি। জিভ দিয়েও আমরা একাধিক কাজ করি। জিভের দুটো খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে আছে খাওয়া আর কথা বলা।
বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান আমাদের কম খেতে বলেছেন। কথাটার মধ্যে ন্যায্যতা আছে। ধনী বিশ্বের মানুষ, আমাদের দেশেরও ধনবানেরা না খাওয়ার জন্য যত মরে, বেশি খাওয়ার জন্য মরে তার চেয়ে অনেক বেশি। বেশি খেলে হূদরোগ হয়, রক্তেচাপ বাড়ে। ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে ১০১টা অসুখের মূলে বেশি খাওয়া, ওজন বাড়িয়ে ফেলা, পরিশ্রম না করা। কাজেই বড়লোকেরা যদি কম খায়, তাতে তাদেরই মঙ্গল। কিন্তু গরিবদের জন্য এই কথাটা উপহাসের মতো শোনায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, পৃথিবীতে যেসব দেশে পুষ্টিহীনতার সমস্যা সবচেয়ে বেশি, বাংলাদেশ তার অন্যতম। এই দেশে পুষ্টিহীনতার কারণে ৫৪ শতাংশ স্কুল-পূর্ব শিশুর বৃদ্ধি থেমে আছে। এই শিশুর সংখ্যা ৯৫ লাখ। এ দেশে ৫৬ শতাংশ শিশুর ওজন কম। নারীর ক্ষেত্রেও পুষ্টিহীনতায় বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ তালিকায়। ৫০ শতাংশের বেশি নারী পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন, এফএওর ভাষায়, ভুগছেন ক্রনিক এনার্জি ডেফিসিয়েন্সিতে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রী যখন কম খাওয়ার কথা বলেন, তখন মনে হয়, তিনি কাকে বলছেন এবং কখন বলছেন?
প্রথম আলোতেই খবর বেরিয়েছে, কেবল পুষ্টিহীনতায় ভোগা দরিদ্র নয়, সীমিত আয়ের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও তাদের আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলাতে পারছে না। তাই খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। জিনিসপাতির দাম খুবই বেড়ে গেছে। অসম্ভব হারে বেড়ে গেছে বাসাভাড়া আর রিকশাভাড়া। ১০ টাকার নিচে ঢাকায় রিকশাভাড়া নেই বললেই চলে। আমি মাঝেমধ্যে ধানমন্ডি থেকে গ্রিনরোড হয়ে পূর্ণিমা সিনেমা হলের গলি পর্যন্ত যাই। আগে ভাড়া ছিল ২৫ টাকা। গত ছয় মাসে এটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়। সিএনজি অটোরিকশায় ভাড়া চাওয়ার কোনো নির্দিষ্টতা নেই—যখন যেমন, যার কাছ থেকে যত খুশি তাঁরা ভাড়া আদায় করেন। রোজার আগেভাগে বহু তরিতরকারির দাম বেড়েছে অর্ধশত থেকে শতভাগ পর্যন্ত। কেবল আলুর দামটা এখনো কম আছে বলেই মনে হয়। তবু রোজার আগে আলু ছিল ১২ টাকা কেজি, এখন ১৬ থেকে ১৮ টাকা। শতকরা হিসাবে আলুর দামও বেড়েছে ৩৩ থেকে ৫০ শতাংশ। এখন চিন্তা করুন, যে সরকারি কর্মচারী মাসে বেতন পেতেন ১৫ হাজার টাকা, তাঁর আয় তো ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার টাকা হবে না। সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন স্কেল বেসিক ৪১০০ টাকা, সব মিলিয়ে তাঁরা সাত হাজার ২০০ টাকার মতো বেতন পেয়ে থাকেন। বছরের শেষে তাঁদের বেতন ১৯০ টাকার মতো বাড়ে। ঢাকা শহরে একটা লোক যদি এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় রোজ একবার যাতায়াত করেন, তাহলে তাঁর ২০০ টাকা এমনিতেই বেরিয়ে যাবে। এর মধ্যে তাঁরা বাসাভাড়া কী দেবেন, আর পেটে কী দেবেন, তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। তাঁরা কেবল কম খান তা-ই নয়, তাঁরা দ্বিগুণ পরিশ্রম করেন, অফিস থেকে বেরিয়ে তাঁদের দ্বিতীয় কোনো কাজে লেগে পড়তে হয়, তাঁরা তাঁদের মোমবাতির দুই প্রান্তেই আগুন লাগিয়ে দেন, ক্ষয়ে যেতে থাকেন দ্রুত। ‘নিমঅন্নপূর্ণা’ নামে কমল কুমার মজুমদারের গল্প আছে, আর আছে তা অবলম্বনে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের সিনেমা। সেই ছবি শুরুই হয় এ কথা বলে যে পরিবারটি ভদ্রলোকদের, কারণ তারা খবরের কাগজ পড়ে থাকে। সেই খবরের কাগজ পড়া ভদ্রলোক-পরিবারের বধূটি বাড়ির সামনের রাস্তার ভিক্ষুককে মেরে তার চাল ও টাকা কেড়ে নিয়ে এসে পরিজনদের ভাত খেতে দিয়েছিল। আমাদের মধ্যবিত্তরা কীভাবে তাদের দিন গুজরান করছে, সেই হিসাব কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মেলাতে পারবেন না।
শুধু খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে তা নয়—চুলায় গ্যাস নেই, আর ট্যাপে পানি নেই। রামপুরায় মিছিল হয়েছে, কিন্তু উত্তরা থেকে মিরপুর, গুলশান থেকে সেন্ট্রাল রোড, রামপুরা থেকে কলাবাগান, বাড্ডা থেকে মগবাজার—বহু স্থানে বহু বাড়িতে পানি নেই। পত্রিকান্তরে পড়লাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, না, সমস্যা অত তীব্র নয়, যতটা বলা হচ্ছে। ২৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদা, ২২০ কোটি লিটার উ ৎ পাদিত হচ্ছে। ৩০ কোটি লিটার কম মানে, কত বাড়িতে পানি নেই—একটু হিসাব করলেই বোঝা যাবে। আর যার বাড়িতে পানি নেই, সে যে হিসাব ধুয়ে পানি খাবে, সেই উপায়ও তো তার থাকবে না। এই পানির সংকট দূর করা, দ্রুত ও অস্থায়ীভাবে, সবচেয়ে সোজা। গরমের সময় পানির সংকট হয়। কারণ বিদ্যুতের সংকট হয়, ওয়াসার পাম্পগুলো চলতে পারে না। কারণ সব কটিতে জেনারেটর নেই। ৫৯০টি পাম্পের ২৯৩টিতে জেনারেটর আছে, আর আছে কয়েকটা ভ্রাম্যমাণ জেনারেটর। ২০০ জেনারেটর কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ২০০৯ সালের জুলাইয়ে। এ বাবদ ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু তা আজও কেনা হয়নি। এই দেশ চলবে কেমন করে?
কিছু নতুন গভীর নলকূপ আর জেনারেটর চালু হলে সমস্যার আপাতত সমাধান হয়ে যায়। যদিও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য আমাদের ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের দিকে যেতেই হবে। ঢাকার মাটির নিচের পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। ১০ বছর পরে গভীর থেকে গভীরতর নলকূপেও আর পানি উঠবে কি না, সন্দেহ আছে।
তো কথাটা দাঁড়াচ্ছে, আপাতত বহু বাড়ির ট্যাপে পানি পড়ে না। ট্যাংক খালি। কাজেই এই উপদেশও আমরা দিতে পারি, পানিও কম খান। এক কোটি ঢাকাবাসী প্রতিদিন যদি ৩০ লিটার করে পানি কম খায়, তাহলে ৩০ কোটি লিটার পানি বেঁচে যাবে। তাহলে আমাদের প্রতিদিন যে ৩০ কোটি লিটার পানির ঘাটতি, তা আর থাকবে না।
তো আমরা কম খাব, কম পান করব—এ কাজটা করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, বেশি কথা বলা। আমাদের বাগ্যন্ত্র, যথা—ওষ্ঠ, জিহ্বা, কণ্ঠ, নাসিকা, দন্ত, তালু আমরা কেবল কথা বলার জন্যই ব্যবহার করি না, খাদ্য গ্রহণ ও পানীয় পান করার জন্যও ব্যবহার করে থাকি। (নাক দিয়ে কীভাবে খাই, প্রশ্ন করতে পারেন। নাক দিয়ে আমরা খাদ্যের ঘ্রাণ নিই। ঘ্রাণেই অর্ধেক ভোজন হয়ে যায়।) তো আমরা যদি দাঁত দিয়ে খাদ্যবস্তু না চিবিয়ে দন্ত্য বর্ণগুলো উচ্চারণ করি, যথা—ত, থ, দ, ধ, ন; ওষ্ঠ দিয়ে খাদ্যবস্তু না চেটে ওষ্ঠ্য বর্ণ যথা—প, ফ, ব, ভ, ম উচ্চারণ করি, তাহলে আমাদের এই অঙ্গগুলো ব্যস্ত থাকে, আমাদের আর খেতে হয় না। আমাদের আর পানও করতে হয় না।
আমাদের মন্ত্রীরা নিজেরা কিন্তু তা-ই করছেন। তাঁরা নিশ্চয়ই কম খান। কমই যদি তাঁরা না খাবেন, তাহলে তাঁরা এত কথা কখন বলেন, কেমন করে বলেন? এই ক্ষুদ্র কলামলেখক, এই কলামে বহুবার, এমনকি এই মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পরপরই প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় লিখে এই আবেদন জানিয়েছেন যে মন্ত্রীরা যেন দয়া করে কথা কম বলেন। যেন তাঁরা টেলিভিশনের চোঙাটা দেখামাত্র দাঁড়িয়ে পড়ে চুলটা আঁচড়ে নিয়েই কথা বলতে শুরু না করেন এবং টেলিভিশনগুলোর নৈশকালীন টক শো, মিষ্টি শোগুলোয় একটু কম কম যান। কিন্তু মন্ত্রীরা নিশ্চয়ই কলামলেখকদের তুলনায় বেশি জানেন আর বেশি বোঝেন। কাজেই তাঁরা কথা বলেই চলেছেন। কথা বললে স্লিপ অব টাং হবেই। আর যখন আপনি কার্যক্ষেত্রে সাফল্য দেখাতে পারবেন না, তখন আপনার অতিশয় মিষ্ট কথাও বড্ড তেতো বলে মনে হবে শ্রোতাদের কাছে।
কম খাওয়ার উপদেশটা যে বিজ্ঞজনোচিত ও স্বাস্থ্যকর, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু কে বলছেন, কখন বলছেন, কাদের বলছেন এবং কথাটার আগে-পরে তিনি কী প্রেক্ষাপট তৈরি করে নিয়েছেন, এটা নিশ্চয়ই বিবেচ্য। গরিব মানুষকে তিনি কম খেতে বলেননি, অপুষ্টিতে ভোগা ৫৪ শতাংশ শিশুকে তিনি কম খাবার দিতে বলেননি—কম খেতে বলেছেন তাদের, যারা খাওয়ার চেয়ে ফেলে বেশি, অপচয় করে বেশি। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, টিসিবি কেন খেজুর আমদানি করতে গেল, আর চিনি ও তেলের সঙ্গে খেজুর কেনাটা কেন বাধ্যতামূলক করতে গেল। বাঙালিকে ডাল-ভাতের সঙ্গে খেজুর খাওয়ানোটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মসূচির কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অংশ, ঠিক বুঝতে পারলাম না। মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে বলেছেন, একদিন অন্তত বাজারে না গেলেই সবকিছুর দাম কমে যেতে বাধ্য, সেটাও ঠিক। কিন্তু সেটা কি একা করার মতো একটা কাজ, আর বলার মতো একটা কথা? এটা কি বাস্তবে হয় যে সবাই মিলে একদিন চিনি কেনা বন্ধ করে দেব?
যা হোক, কম খান, একদিন বাজার করা বন্ধ করুন—এসব কথা কেবল বড়লোকদেরই বলা যায়, আর বলা যায় ক্ষমতাসীন নেতা, মন্ত্রী, সাংসদদের। অর্থা ৎ বলা যায়, নিজেদের। তাঁরা বলতে পারেন, আমি আজ সারা দিন এক ফোঁটা চিনিও খাব না। তাঁরা বলতে পারেন, আমরা সাংসদেরা ঠিক করেছি, আজকের দিনে আমরা বাজারমুখো হব না। সে ক্ষেত্রে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী, দুজনই আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ও প্রিয়, আপনারা কি একটা কাজ করতে পারেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে কি বলবেন, ‘আপনারা ইফতার পার্টি দেওয়া বন্ধ করুন’? যখন আমরা দেশের মানুষকে কম খেতে ও কম বাজারে যেতে বলছি, তখন এ রকম ঘটা করে ইফতার পার্টির আয়োজন কি চরম পরিহাস নয়?
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

Friday, July 29, 2011

সেই কাবো থেকে আবার উড়োজাহাজ ভাড়ার চেষ্টা

বাংলাদেশ বিমানের হজ-ফ্লাইটের জন্য নাইজেরিয়ার বিতর্কিত সেই কাবো এয়ারলাইনস থেকে আবারও উড়োজাহাজ ভাড়ার তৎপরতা চলছে।
বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অন্যান্য দরদাতার চেয়ে কাবোর উড়োজাহাজের ভাড়া অনেক বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে। তার পরও কাবো থেকেই উড়োজাহাজ ভাড়া করতে চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। এই অবস্থায় বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিমান সূত্র জানায়, আগামী হজ-ফ্লাইটের জন্য দুটি বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজ ভাড়া করার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তিন দফা দরপত্র আহ্বান (আরএফপি—রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) করে।
প্রথম দফায় চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তাতে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল অস্ট্রেলিয়ার অজবান অ্যারোনটিক্যাল সার্ভিসেস। তারা হজ উপলক্ষে তিন মাসের জন্য উড়োজাহাজটির প্রতি উড্ডয়ন ঘণ্টা নয় হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছিল। আর এক বছরের জন্য অপরটির অবশ্য অনেক কম দর প্রস্তাব করেছিল। এ সময় কাবো এয়ারের প্রস্তাব ছিল তৃতীয় সর্বনিম্ন দর।
জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহম্মদ জাকিউল ইসলামও বলেন, অজবানের চেয়ে কাবোর দরপ্রস্তাব ছিল অনেক বেশি। অজবান সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও তারা শর্ত দেয় যে তাদের দুটি উড়োজাহাজই ভাড়া নিতে হবে। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার আটলান্টা আইসল্যান্ডিকের কাছ থেকে একটি বোয়িং এক বছরের জন্য ভাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই বিমান অজবান থেকে হজের জন্য একটি বোয়িং ভাড়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তাই আরও দুবার আরএফপি করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ ৩ জুলাই তৃতীয় দফা দরপত্র বা আরএফপি করা হয়। তাতে কাবোসহ মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিদেশি একটি উড়োজাহাজ লিজিং কোম্পানির ঢাকার একজন প্রতিনিধি প্রথম আলোকে বলেন, বিমানের কার্যক্রমে মনে হয়েছে, তারা কাবো থেকেই উড়োজাহাজ ভাড়া করতে নানা কারসাজি করছে, তাই তাদের মতো অনেকে দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী হয়নি।
বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, তারাও একই রকম অভিযোগ পেয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভায়ও এ নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে কাবো থেকে উড়োজাহাজ ভাড়ার বিপক্ষে মত দেন পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য। তাঁদের মতে, কাবোর মতো বিতর্কিত এয়ারলাইনস থেকে আবার হজের জন্য উড়োজাহাজ ভাড়া করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।
বিমানের এমডি স্বীকার করেন, কাবোর প্রস্তাব নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে সমালোচনা হয়েছে। তাই আরেক দফা প্রস্তাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সেটা দরপত্র বা আরএফপি নয়, সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিমানের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে প্রস্তাব চাওয়া।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভায়ও কাবো থেকে উড়োজাহাজ ভাড়া করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বিমান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে কমিটির সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল প্রথম আলোকে বলেন, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বিমান এখন এক বছরের জন্য একটি বোয়িং-৭৪৭-৪০০ ভাড়া নিতে চায়। এখন দুটি এয়ারলাইনসের প্রস্তাব আছে। এর একটি এয়ার আটলান্টা আইসল্যান্ডিক, আরেকটি কাবো। এর মধ্যে ভালো প্রস্তাবটিই গ্রহণ করতে বলেছে কমিটি।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, গত বছর ব্যর্থ হয়ে এবার আরও আটঘাট বেঁধে কাবোর পক্ষে একটি মহল চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে। এর আগে গত বছর হজ-ফ্লাইটের জন্য কাবো থেকে ২৬ বছরের পুরোনো ত্রুটিপূর্ণ একটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিল। এ নিয়ে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত বিমানমন্ত্রী জি এম কাদের রাজি না হওয়ায় সেটি ভাড়া করা হয়নি। তখন এ নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী কমিটি ও বিমানের চেয়ারম্যানের বেশ টানাপোড়েন, এমনকি মন্ত্রীর পদত্যাগের মতো পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিল।
এ বছর উড়োজাহাজ ভাড়া প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত, এমন একজন পদস্থ কর্মকতা এ প্রতিনিধিকে বলেন, তাঁরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছেন, তাতে কাবো থেকে একটি ৫৮২ আসনের বোয়িং তিন মাসের জন্য ভাড়া করা হলে হজফ্লাইট নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যাবে।
বিমানের হজযাত্রী পরিবহন শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর। এবার বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা এক লাখ আট হাজার। এর মধ্যে ৪৪ হাজার বিমান পরিবহন করবে বলে জানিয়েছেন এমডি জাকিউল ইসলাম। বাকি ৬৬ হাজার সৌদিয়াসহ অন্যান্য দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা পরিবহন করবে।

Tuesday, July 26, 2011

 চায়ের নিলাম বাজার প্রথমবার ক্রেতাশূন্য

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো ‘চায়ের নিলাম বাজার’ আজ মঙ্গলবার ছিল ক্রেতাশূন্য। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এ বাজারে প্রথমবারের মতো কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। সরকার নিলাম মূল্যের ওপর নতুন করে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আরোপ করার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা চা কেনা বন্ধ রাখেন। এতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নিলাম বাজার সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সারা দেশের চায়ের নিলাম হয় চট্টগ্রামে। প্রতি নিলামে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার চা বিক্রি হয়।
জানা গেছে, আগের নিয়মে ক্রেতাদের ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ২ শতাংশ পাইকারি মূল্য কর দিতে হতো। সে হিসেবে প্রতি নিলাম মূল্যে চা কেনার পর ক্রেতাদের ১৭ শতাংশ কর দিতে হয়। নতুন করে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আরোপের ফলে এ কর দাঁড়াবে ২২ শতাংশে। আগের নিয়মে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার চা বিক্রি হলে সরকার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার মতো রাজস্ব পেত। আজকে নিলাম বন্ধ থাকায় সরকার এ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলো।
বাংলাদেশে চা বাগান আছে ১৬৪টি। এসব বাগান থেকে প্রতি বছর প্রায় ছয় কোটি কেজি চা উত্পাদন হয়। বাগান মালিকেরা তাঁদের নির্ধারিত প্রতিনিধির (ব্রোকার হাউস) মাধ্যমে নিলাম বাজারে চা বিক্রি করে থাকেন।
নিলাম বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এভাবে নিলাম বাজারে ক্রেতা পাওয়া না গেলে প্রত্যক্ষভাবে চা বাগান মালিক এবং পরোক্ষভাবে দেশের চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশ চা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউছুফ নিলাম বাজারে কোনো চা বিক্রি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রামের নিলাম বাজারে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার চা বিক্রি হয়ে আসছে। সরকারের অতিরিক্ত কর আরোপের কারণে আজ নিলাম বাজারে চা কেনাবেচা হয়নি। প্রথম আলো

Monday, July 4, 2011

হয়রানি, ঘুষ আর দলিলজট

ঢাকা মহানগরের ১০টি ভূমি নিবন্ধন অফিসে মাসে গড়ে ১১ হাজারের কাছাকাছি দলিল নিবন্ধন করাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও জমির মালিকেরা। নিবন্ধনকারী অর্থাৎ সাব-রেজিস্ট্রার অবধি পৌঁছাতে তাঁরা দলিল লেখক ও নানা ধাপের দালালদের কাছে জিম্মি।
নিবন্ধনের পর পাকা দলিল হাতে পেতে ঘুরতে হচ্ছে বছরের পর বছর। আটটি অফিসে এখন জমে আছে অন্তত এক লাখ ৩৮ হাজার দলিল তৈরির কাজ। ছয় মাস ধরে নিবন্ধন বই বা বালামের (ভলিউম) সরবরাহ নেই। নেই নিবন্ধন ফি আদায়ের পাকা রসিদ।
ঢাকা মহানগর দেশের ভূমি অফিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করে। অথচ যাঁরা এই রাজস্বের জোগান দেন, প্রতিটি ধাপে তাঁদের পাওনা হয়রানির পাশাপাশি উপরি খরচ।
জেলা রেজিস্ট্রার সুভাষ চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে জানি, ঘুষ ছাড়া ভূমি নিবন্ধন অফিসে কোনো কাজ হয় না। কিন্তু আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই।’ তাঁর মতে, যত দিন পর্যন্ত দাতা ও গ্রহীতা স্বহস্তে দলিল না লিখতে পারবেন, তত দিন দলিল লেখক বা দালাল নামের মধ্যস্বত্বভোগীরা ফায়দা লুটবে। মানুষের হয়রানি চলতে থাকবে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে ভূমি নিবন্ধন অফিসের চিত্র এ রকমই।
তথ্যসংকট দিয়ে দুর্ভোগের শুরু: জেলা নিবন্ধন অফিসের তথ্য বলছে, ২০১০ সালে ঢাকার ১০টি সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে এক লাখ ৩০ হাজার ২৭০টি দলিল নিবন্ধন হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে ৩১ হাজার ৭১টি দলিল। এই হিসাবে প্রতি অফিসে মাসে গড়ে এক হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের দলিল নিবন্ধন হয়। একই হারে দলিলের নকলও সরবরাহ করা হয়।
জেলা অফিসের হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আয় হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। এটা সারা দেশের মোট ভূমি নিবন্ধন রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ। অথচ রাজস্বের জোগানদাতা ক্রেতা-বিক্রেতারা কোথায় গেলে কী সেবা পাবেন, আইন কী বলছে—এসব জানানোর ব্যবস্থা অফিসগুলোয় নেই।
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক, কিন্তু তেজগাঁওয়ের জেলা ভূমি নিবন্ধকের দপ্তরে কোনো তথ্য কর্মকর্তা পর্যন্ত নেই। নেই তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানোর কোনো জায়গা।
হয়রানি ও উপরি খরচ: দশ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুটি মিরপুর ও ডেমরায়। বাকি আটটি ঢাকা সদর, তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর ও উত্তরার সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিস তেজগাঁওয়ের জেলা নিবন্ধন দপ্তরের চত্বরে। সেখানে ১২ জুন দুপুরে কামরাঙ্গীরচরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম জানান, কোনো তথ্যকেন্দ্র না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি একজন দলিল লেখকের শরণাপন্ন হয়েছেন।
দলিল লেখকের ভূমিকা অনেকটা উকিলের মতো। ক্রেতা-বিক্রেতা চাইলে এঁদের কাছ থেকে আইনি ও দালিলিক সহায়তা নিতে পারেন। কিন্তু কার্যত অফিসের আঙিনায় পা দেওয়া মাত্র দলিল লেখক, তাঁদের সহকারী ও দালালেরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছেঁকে ধরেন। এঁদের এড়িয়ে কেনাবেচার কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এরপর নিবন্ধন অফিসের প্রধান কেরানি, অধস্তন কেরানি, পিয়ন, মোহরার, টিপসহি নেওয়া কর্মচারী এবং সাব-রেজিস্ট্রারের পাশে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে থাকা রাতের পাহারাদার তথা নাইটগার্ডদের খুশি না করে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ মেলে না।
তেজগাঁও থানার সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই মানুষের হয়রানি। অন্যদিকে দলিল লেখকেরা দোষ চাপান সাব-রেজিস্ট্রারদের ওপর।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ১৯০৮ সালের ভূমি নিবন্ধন আইনে ৬৩ ধরনের ভূমি নিবন্ধনের কথা বলা আছে। এর মধ্যে বেশি হয় চারটি—কবলা বা হস্তান্তর, হেবা, হেবার ঘোষণা ও দানপত্র। কবলার সরকারি ফি বিভিন্ন খাত মিলিয়ে জমির সরকারিভাবে নির্ধারিত মোট দামের নয় শতাংশ। এর জন্য জমির মালিকানার কাগজ, পরচা, নামজারি, দাখিলা বা খাজনা রসিদ ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ লাগে।
দলিল লেখকদের অভিযোগ, এসব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রতিটি নিবন্ধনের ক্ষেত্রেই সাব-রেজিস্ট্রারদের ঘুষ দিতে হয়। সরকারি হিসাবে জমির দাম কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা ঘুষের অন্যতম কারণ। জমির প্রকৃত দামভেদে ঘুষের পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। দলিল লেখক সমিতির মহাসচিব এম এ রশিদ বলেন, সাব-রেজিস্ট্রাররা তাঁদের নাইটগার্ড বা পিয়নদের মাধ্যমে ঘুষ দাবি করেন।
মগবাজারের (৩৪৬ নয়াটোলা) আবুল কাসেম (৬৫) ঢাকা সদর অফিসে গিয়েছিলেন আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) অর্থাৎ নিজের অনুপস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ককে ক্ষমতা দেওয়ার দলিল করতে। ১৭ মে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার রুহুল ইসলাম তাঁর নাইটগার্ড রানার মাধ্যমে তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। ঢাকা সদরের এই সাব-রেজিস্ট্রার নিবন্ধনের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) মুন্সী নজরুল ইসলামের ভাতিজা।
দলিল লেখক মাহবুব হোসেন অভিযোগ করেছেন, রুহুল ইসলামের দপ্তরে তাঁর একই রকম অভিজ্ঞতা হয়। এরপর দলিল লেখক সমিতি রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইজিআরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়। গত ২৯ মে আইজিআর রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ উত্তর আমি লিখিতভাবে জেলা রেজিস্ট্রারকে জানিয়েছি।’
দলিল লেখক আখতারুজ্জামান বলেন, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে তিনি বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। একই বিষয়ে তিনি দুদকেও অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জসিমউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি জমি রেজিস্ট্রেশনের আগ পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে দালাল বা দলিল লেখকদের কী অঙ্কের টাকা বিনিময় হয়, সেই তথ্য জানার সুযোগ আমার নেই। যদি লেনদেন হয়েও থাকে, সেই দায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে আমাকেই বহন করতে হবে।’
দলিল লেখকদের ফাঁদে: গত ১৫ জুন মহাখালী ডিওএইচএসের বাসিন্দা ফরিদ আক্তার একটি দলিল লেখার জন্য এক দলিল লেখককে তিন হাজার টাকা দেন। তিনি জানান, আশপাশের দালাল এবং নিবন্ধন অফিসের কর্মচারীরাও তাঁর কাছ থেকে টাকা খসিয়েছেন।
আইন অনুযায়ী একটি দলিল লিখে দেওয়ার জন্য লেখককে ৬৯ টাকা দিতে হয়। কিন্তু দলিল লেখকেরা একটি দলিল লিখে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাঁচ-ছয় হাজার এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুই-তিন হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন। তেজগাঁও দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ৬৯ টাকায় দলিল লিখে দিলে কারও সংসার চলবে না।
রসিদ ও নিবন্ধন বই নেই: সাব-রেজিস্ট্রারেরা জানান, বর্তমানে এই দশ দপ্তরে জমি নিবন্ধন ফি আদায়ের রসিদ বই নেই। তাঁরা সাদা কাগজে সিল-স্বাক্ষর দিয়ে তা জমির মালিকদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। সরকারের ছাপাখানা (বিজি প্রেস) থেকে সর্বশেষ রসিদ বই সরবরাহ করা হয়েছিল ২০১০ সালের আগস্টে।
নেই নিবন্ধন বই। ফলে নিবন্ধনের পর জমির দলিল হাতে পাওয়া আরেক সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া। জেলা নিবন্ধন অফিস সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি এক লাখ নিবন্ধন বই ছাপা হয়েছিল। এসব বই ফুরিয়ে গেছে প্রায় ছয় মাস আগে। যে কারণে নিবন্ধন বইয়ে তথ্য সংরক্ষণ এবং দলিল সরবরাহের কাজ পিছিয়ে পড়ছে। এক বছর ধরে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বিজি প্রেস নিবন্ধন বই সরবরাহ করছে না।
এক লাখ ৩৮ হাজার দলিলের জট: গত ১৩ জুন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে ১৪টি দলিল সরবরাহ করা হয়েছে। সূত্র বলছে, এসব দলিলের একটি ২০০৫ সালে, ১২টি ২০০৬ সালে এবং একটি ২০০৭ সালে নিবন্ধিত হয়েছিল।
জেলা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের আটটি সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসে বর্তমানে এক লাখ ৩৮ হাজার দলিল তৈরির কাজ ঝুলে আছে। এক গুলশান অফিসেই জমে আছে ৪৪ হাজার ৫০০ দলিল তৈরির কাজ। মোহাম্মদপুর অফিসে রয়েছে ২৭ হাজার, বাড্ডায় ২৩ হাজার ৩০০, উত্তরায় ২০ হাজার ৫৩৬, ঢাকা সদরে ১০ হাজার ৭২৮, সূত্রাপুরে নয় হাজার ৮৫৫ এবং খিলগাঁওয়ে দুই হাজার ৮৬১। সবচেয়ে কম ১৭৯টি দলিল লেখার কাজ অসমাপ্ত আছে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসে। মিরপুর ও ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসের এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও ডিজিটালকরণের লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান পদ্ধতির কারণে জমি নিবন্ধন শেষে কত দিন পর দলিল সরবরাহ করা হবে, সে সম্পর্কে সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে জমির ক্রেতাকে দলিল লেখকের ওপর নির্ভর করতে হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দলিল সরবরাহ করতে তিন মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় লেগে থাকে।
সাব-রেজিস্ট্রারেরা বলেন, নিবন্ধন শেষে তাৎক্ষণিক মূল দলিল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রতিটি অফিসে মাসে গড়ে এক হাজারের বেশি দলিলের নকল তৈরি করতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে মূল দলিল সংগ্রহ করতে এসে জমির মালিকদের আবারও হয়রানির শিকার হতে হবে এবং গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

Thursday, June 30, 2011

কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগে পুঁজিবাজার চাঙা


আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী আবারও বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। এর প্রভাবে গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
তবে ১০ শতাংশ কর দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার বিষয়টিকে অনৈতিক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অনেকে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। পাঁচ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১৩৮ পয়েন্ট বেড়ে যায়। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সূচক সর্বোচ্চ ১৪৩ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর সূচক সামান্য কমলেও দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৮ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২০৫টির, কমেছে ৪৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৯৩৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৬৬ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইর পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই টাকা বাজারে তারল্য সংকট দূর করতে সহায়কশক্তি হিসেবে কাজ করবে। বাজার স্থিতিশীলতার দিকে এগোবে। আর ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এই টাকা লেনদেন হওয়ায় মুদ্রাবাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এতে করে বাজার আবার অতিমূল্যায়িত হবে কি না—প্রশ্নের উত্তরে আহমেদ রশিদ বলেন, ডিএসই এ বিষয়ে সতর্ক নজর রাখছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছি। বাজারে যাতে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ে, সে ব্যাপারে এসইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমি আশাবাদী, তিন-চার মাসের মধ্যে নতুন করে আইপিও আসা শুরু হবে।’
অবশ্য পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি ভালো চোখে দেখছি না। সাধারণ লোক যেখানে ২৫ শতাংশ কর দিয়ে থাকেন, সেখানে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ অনৈতিক।’
তাঁর মতে, সরকারকে প্রথমেই দেশের সার্বিক তারল্য সংকটের দিকে নজর দিতে হবে। কিছু লোক সুযোগ নেওয়ার জন্য এই চেষ্টা করছে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—আফতাব অটো, ইউসিবিএল, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড, বেক্সিমকো, এমআই সিমেন্ট, মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স, লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স, এনবিএল ও ওয়ান ব্যাংক।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৯২ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৩টির, কমেছে ২৭টির ও দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৯৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি।

Monday, June 27, 2011

ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ


জাপানি অধ্যাপক আজুমার সঙ্গে দারাদ আহমেদ (বাঁয়ে)
ফাইল ছবি
‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করার নামে জাপানি এক অধ্যাপকের কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এক বাংলাদেশি। রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশপ্রেমী ওই জাপানি অধ্যাপক প্রতারণার এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার নামে প্রতারণা করেছেন দারাদ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি। নিজেকে তিনি রবীন্দ্রগবেষক ও বিশ্বভারতীর ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায়।
জাপানের প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক কাযুও আজুমা জাপানে রবীন্দ্রগবেষক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। নিজের একক প্রচেষ্টায় জাপান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি কলকাতায় ‘ভারত-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করেছেন। বিশ্বভারতীতে ‘নিপ্পন ভবন’ তৈরিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। ভারতের এ দুই প্রতিষ্ঠান জাপান-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজুমার স্ত্রী কেইকো আজুমাও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক।
কেইকো আজুমা কিছুদিন আগে প্রথম আলোর টোকিও কার্যালয়ে চিঠি লিখে প্রতারণার বিষয়টি জানিয়েছেন। কেইকো জানান, ২০০৩ সালে কলকাতা সফরের সময় তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন দারাদ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি। তিনি নিজেকে বিশ্বভারতীর সংগীতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, এর আগে কিছুদিন তিনি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেছেন। দারাদ দাবি করেন, তাঁর মা-ও একজন রবীন্দ্রভক্ত। পেশায় তিনি মস্তিষ্কের শল্যচিকিৎসক (সার্জন) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কাজ করেন। এ কারণেই পেশাগত দায়িত্বে তাঁকে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে হয়।
কেইকো জানান, ভারতের মতো বাংলাদেশেও একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার ইচ্ছা তাঁদের ছিল। দারাদের এসব কথায় আজুমা ও তাঁর মনে হয়েছে, বাংলাদেশে তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হলে এর চেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি তো আর অন্য কেউ হতে পারে না। এদিকে কলকাতা থেকে জাপানে ফেরার পর দারাদ এ বিষয়ে অনেকগুলো চিঠি লেখেন। একপর্যায়ে দারাদের মা-ও চিঠি লিখতে থাকেন।
আজুমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দারাদ ২০০৪ সালে জাপানে চলে আসেন এবং তাঁর চেয়ে ২০ বছরের বড় এক জাপানি রমণীকে বিয়ে করেন। আজুমার পরিবারের সহায়তায় তিনি জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি জোগাড় করেন। একপর্যায়ে দারাদ তাঁকে ‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করার পরামর্শ দেন। দারাদ বলেন, তিনি প্রকল্পের সব দেখভাল করবেন। আজুমাকে শুধু অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।
কেইকো জানান, ‘দারাদ তাঁকে বিষয়টি গোপন রাখার এবং আর কোনো বাংলাদেশিকে এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত না করার অনুরোধ জানান। দারাদ তাঁকে বোঝান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি ঢাকা শহরে নয়, বরং রবীন্দ্রনাথের দেখিয়ে দেওয়া পথ অনুসরণ করে মফস্বলের কোথাও তৈরি করা উচিত। আর তিনি যেহেতু সাইফুর রহমানের (প্রয়াত অর্থমন্ত্রী) নিকটাত্মীয়, ফলে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তাঁর নিজ গ্রাম হবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির সবচেয়ে জুতসই জায়গা।
আজুমা জানান, দেশে ফিরে দারাদ ও তাঁর মা বিরামহীনভাবে অর্থের জন্য তাগিদ দিতে থাকেন। তিনিও টাকা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দারাদ ও তাঁর মা আজুমা দম্পতিকে আমন্ত্রণ জানান মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। সেখানে একটি ইটের ভাটায় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপনের ছবিও তোলেন। এ সময় দারাদ জানান, আরও টাকা পেলে এই কেন্দ্র ভালো করে তৈরি করা যাবে। 
মোট কত টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে জাপানি এই দম্পতি জানান, সব মিলিয়ে জাপানের ৭৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাঁরা ছয় কোটি ৮০ লাখ জাপানি ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা) সংগ্রহ করেন। এর বাইরে দারাদ ও তাঁর মা তাছলিমা খানমের লিখিত আবদারের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আরও অর্থসহ মোট ছয় কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন (প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা) দেওয়া হয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করার জন্য। কিন্তু দারাদ এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
বারবার চিঠি, বারবার টাকা দাবি: তাছলিমা খানম একটি চিঠিতে বলেন, ‘২০০৭ সালের ১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কাজ খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২০০৭ সালের আগস্টে আমরা ভবন উদ্বোধন করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাপানের সব সুযোগ-সুবিধা, লিফট, পার্কিং, বাগান, এয়ারকন্ডিশন, উন্নত বাথরুম থাকছে এখানে। আমরা প্রথম নকশা থেকে আরও বড় করেছি। আমি নিজে এই ভবন তৈরির জন্য তিন হাজার ৫০০ মান (এক মান মানে ১০ হাজার ইয়েন) খরচ করেছি। বর্তমানে আমার চাকরির বেতন দিয়ে চলতে পারছি না বিধায় আপনার সহায়তা কামনা করছি। আর দেড় হাজার ইয়েন হলে আগস্টে ভবনটি উদ্বোধন করা যাবে।’ চিঠিতে বলা হয়, এ বিষয়ে ১০ দিন ধরে বৈঠক হয়। এতে যোগ দেন তপন কুমার দেবনাথ, মুক্তাদির হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, তপন চৌধুরী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, কবির আনোয়ার প্রমুখ।
২০০৯ সালের ২০ আগস্ট আরেক চিঠিতে তাছলিমা লেখেন, ‘ভবনের চতুর্থ তলার কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাকি রইল একতলা। খুব তাড়াতাড়ি কাজ করতে হচ্ছে। আমার চাকরির টাকায় কাজ করাচ্ছি। আপনাকে নিয়ে এই ভবন উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ভবনে খুব দামি পাথর লাগানোর জন্য অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। আরও কিছু টাকা দরকার।’
২০০৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাছলিমা আরেকটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমি আবারও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে ভবন উদ্বোধন করতে চাই। আপনাদের সাহায্য ছাড়া কাজ শেষ করতে পারছি না। খুবই মূল্যবান গ্লাস ও পাথর লাগানোর জন্য খুব বেশি খরচ হচ্ছে। আর মাত্র ৬০০ মান দেবেন। এরপর আর টাকা চাইব না।’
২০১০ সালের ২৮ জুন এক চিঠিতে বলা হয়, ‘দুই দিন আগে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আগামী মাসের ২৫ তারিখে ভবন উদ্বোধন করা হবে। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। টাকা লাগবে। আমি আমার গাড়ি বিক্রি করে দিয়ে ভবনের কাজ করছি। দয়া করে আর মাত্র ৩৬০ মান পাঠাবেন।’
২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর আরেক চিঠিতে বলা হয়, ‘টাকার অভাবে এখনো ভবনে নিরাপত্তা ক্যামেরা ও এয়ারকন্ডিশন লাগাতে পারিনি। সুখবর হলো, ভবন উদ্বোধন করা হলে সরকার টাকা দেবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তাই আপাতত ধার হিসেবে ২০০ মান চাইছি। আগামী মাসে ভবন উদ্বোধন করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী আর আসবেন না। আমিও সরকারি চাকরি থেকে অবসরে চলে যাব। আপনার টাকার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।’
২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভবন উদ্বোধনের একটি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয় আজুমা দম্পতির কাছে। তাতে বলা হয়, ‘২৯ জানুয়ারি জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টারের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা অনুষ্ঠানে গান গাইবেন। নৃত্য পরিবেশন করবেন শামীম আরা নীপা ও শিবলী মহম্মদ। আমন্ত্রণে দারাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার ও তাছলিমা খানম, পরিচালক, জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার।’
যেভাবে প্রতারণা ধরা পড়ে: বারবার টাকা পাঠানোর অনুরোধ করায় টাকা দিয়েছেন এমন কয়েকজন জাপানির মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তাঁরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। তবে আজুমা সন্দেহ করেননি। কিন্তু বারবারই উদ্বোধনের তারিখ পেছানো হয়। একপর্যায়ে দারাদ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তখন আজুমা দম্পতি বুঝতে পারেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার।
বর্তমান অবস্থা: অধ্যাপক কাযুও আজুমা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী। বাংলা ভাষা ও বঙ্গভাষীদের কল্যাণে আজীবন নিজেকে নিবেদিত রেখে জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে তাঁকে এভাবে যে প্রতারণার শিকার হতে হবে, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেননি।
কেইকো আজুমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী অধ্যাপক কাযুও আজুমা সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন রবীন্দ্রচর্চায়। আমার স্বামী ও আমি বাঙালিদের ভীষণ ভালোবাসি। তাদের বিশ্বাস করি। দারাদ আহমেদকেও সেভাবে ভালোবেসেছি, বিশ্বাস করেছি। এর আগে বাঙালিদের নিয়ে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি আমাদের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যে এভাবে ঠকে যেতে হবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের সময় অধ্যাপক আজুমা তাঁর দোভাষী হিসেবে কাজ করেন এবং সেই সূত্রে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়। এ ছাড়া গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরের সময় তাঁর খোঁজখবর নেন। পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস সে সময় আজুমার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ফুলের তোড়া উপহার দেন।
কেইকো এখনো চান, ‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ বাস্তবায়িত হোক। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীকে ভালো করে চেনেন। গত বছর তাঁর জাপান সফরের সময় তিনি আমার স্বামীর খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং ওর জন্য ফুল পাঠিয়েছিলেন। আমি তাঁর কাছে ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
প্রথম আলো

Monday, June 20, 2011

আপনি কি সফল হতে চান?


আপনি কি ছাপোষা জীবন যাপন করছেন? জীবনটা হোস্টেলের ডালের মতো পানসে লাগছে? কোনো চার্ম নেই। আজ সিঙ্গাপুর তো কাল কুয়ালালামপুর করতে পারছেন না। আজিমপুর টু মিরপুর করেই দিন কাটছে। দুপুরবেলা রুটি-ভাজি গিলতে কষ্ট হচ্ছে! বিকেলের বিলাসিতা মোড়ের দোকানের ডালপুরি? ওয়েস্টিনে ব্রেকফাস্ট তো সোনারগাঁওয়ে ডিনার হচ্ছে না? লাস ভেগাসে গিয়ে হাজার হাজার ডলার ওড়ানোর মুরোদ নেই? কিন্তু স্বপ্ন আছে? হাজার কোটি টাকার মালিক হতে চান? কিন্তু ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্টই নেই?
আপনাকেই আমরা খুঁজছি। বছর ঘোরার আগেই এক শ কোটি টাকা। দুই বছরের মাথায় হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারবেন আপনি। বউয়ের গয়না বিক্রি করুন। কিছু টাকা নিয়ে আসুন। ঢাকায় একটা বাড়ি ভাড়া করতে হবে। লাখ দুয়েক টাকা তো বিনিয়োগ করতেই হবে। একেবারে কিছুই খাটাবেন না, তা কী করে হয়। মাথাটা তো খাটাতেই হবে, কিছু টাকাও। লাখ কয়েক টাকা বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিন, এক মাসের মাথায় শোধ করে দিতে পারবেন। একটা অফিস নিয়েছেন? এবার একটা কাগজ নিন। এটাতে মানচিত্র আঁকুন। ইচ্ছেমতো আঁকুন। নাম দিন ‘পূর্বাচল চাঁদের দেশ প্রকল্প’। মানচিত্রটা কিসের? চারকোনা করে কতগুলো ঘর আঁকুন। সেক্টর এক। রাস্তা এক। তার দুধারে প্লট। তারপর রাস্তা দুই। তার দুধারে প্লট। তিন কাঠা। পাঁচ কাঠা। ইচ্ছেমতো আঁকুন। লেক আঁকুন। লেকভিউ প্লট। ১০ কাঠা। এক হাজারটা প্লট আঁকুন। দুই হাজার প্লট আঁকুন। এবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন। বর্ষা উপলক্ষে কদমবাহার ছাড়। কাঠাপ্রতি তিন লাখ টাকা ছাড়। বুকিং দিলেই রঙিন টেলিভিশন। এক লাখ টাকা বুকিং। তারপর মাসে মাসে কাঠাপ্রতি কুড়ি হাজার টাকা কিস্তি। পাঁচ বছর ধরে দেওয়া যাবে। হইহই কাণ্ড রইরই ব্যাপার।
এরপর ঢাকার বাইরে কোনো একটা ধানখেতের চাষির কাছ থেকে ধানখেতে সাইনবোর্ড লাগানোর অনুমতিটা কিনে নিন। চাষি মাসে মাসে এক হাজার টাকা করে পাবেন। এই হলো আপনার সাইট। তাতে সাইনবোর্ড লাগান ‘পূর্বাচল চাঁদের দেশ প্রকল্প’। বাইশ শতকের আবাসভূমি। জমি বিক্রি শুরু হয়ে গেল। টাকা আসতে শুরু করেছে? ১০০ জন বুকিং দিয়েছেন? ব্যস, পকেটে এক কোটি টাকা এসেছে। সামনের মাসে আবার এক কোটি টাকা আসবে। এবার বিজ্ঞাপনের মহড়া বাড়িয়ে দিন। প্রকল্প এলাকায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে এক বিঘা জমি কিনেও ফেলুন। ব্যস, আর কিছু না। দাগ দেওয়া প্লট বিক্রি করতে থাকুন। টাকা আর টাকা। টাকা মানে সম্মান। টাকা মানে নিরাপত্তা। এক হাজার প্লট বিক্রি হয়েছে? ৫০০ কোটি টাকা আপনার পকেটে। এবার আপনি কিছু প্লট ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিন। হ্যাঁ, বিভিন্ন ঘাটে কিছু টাকাপয়সা তো আপনাকে খরচ করতেই হবে। ক্রেতারা যদি দল বেঁধে ঘেরাও করতে আসে? আসবে না। কত প্লটই তো বিক্রি হয়েছে। কত ক্রেতা বুঝে পেয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও কত বেশিসংখ্যক ক্রেতা বুঝে পায়নি। তাই বলে কি প্লটের ব্যবসা থেমে আছে? সব কোম্পানি মিলে যত প্লট বিক্রি করেছে, তার মোট জমির পরিমাণ ৫৫ হাজার ১২৬ বর্গমাইলের বেশি না কম, এটা একটা প্রশ্ন বটে। তবে আমাদের প্রকল্পের নাম যেহেতু ‘পূর্বাচল চাঁদের দেশ প্রকল্প’, সেহেতু আমাদের সেই দুর্ভাবনা না করলেও চলবে। দেশে জমি না পেলে আমরা চাঁদের জমি বিক্রি করব।
এ ব্যবসায় কোনো লস নেই। আপনার হাতে যখন টাকা আসবে, তখন আইনের হাত আপনার কাছে লম্বা মনে হবে না। টাকা আপনাকে সব দেবে। দেবে মান-সম্মান-নিরাপত্তা। দেবে প্রভাব-প্রতিপত্তি। আপনি তখন ধরাকে সরা জ্ঞান করে সরার দই খাবেন। পৃথিবীটা কার বশ? অবশ্যই টাকার। পত্রিকা-টেলিভিশনে আপনার বিজ্ঞাপন বেরুচ্ছে, কেউ আপনার বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দ করবে না। নেতাদের আপনি চাঁদা দেবেন। তাঁরা আপনার প্রকল্পের নকশার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে ফিতা কাটবেন। আমার মতো কবি-সাহিত্যিকেরা আপনার মতো দেশসেবক-জনসেবক উদ্যোক্তাদের কীর্তি বন্দনা করে কবিতা লিখবে। কলাম লিখবে। আমরা বলব, আপনি কর্মসংস্থান করেছেন। আপনি এ দেশের বাসস্থান সমস্যার সমাধানে যে অবদান রাখছেন, তার কোনো তুলনা নেই। আপনি চাইলে আপনার নামে পদক প্রবর্তন করতে পারেন—‘আক্কেল আলী অনন্য বুদ্ধিজীবী পদক’। বছরে একবার বড় অনুষ্ঠান করে সেই পদক তুলে দিতে পারেন দেশের সবচেয়ে অগ্রগণ্য কোনো বুদ্ধিজীবীর হাতে। সবাই ধন্য ধন্য করবে।
আপনি এখন অনেক বড়লোক। আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমি আপনাকে পরামর্শ দিতেও এখন ভয় পাচ্ছি। আমার এই লেখার মাধ্যমে আমি যে বেয়াদবি করেছি, আপনি আশা করি তা নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। সাফল্য এখন আপনার করতলে। আপনি সুখী হোন।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

৩৪ কোটি টাকায় বিক্রি মনরোর পোশাক



undefined
মেরিলিন মনরো
‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিতে ব্যবহূত মেরিলিন মনরোর আলোচিত সেই পোশাক বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যেনতেন মূল্যে নয়। মেরিলিন মনরোর আলোচিত সেই পোশাক বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকায়। সম্প্রতি হলিউডের পোশাক বিক্রির এক নিলামে চলচ্চিত্র ইতিহাসের সুপরিচিত এই পোশাকটি বিক্রি হয়।
১৯৫৫ সালের ৩ জুন মুক্তি পাওয়া ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিটি পরিচালনা করেন বিলি ওয়াইল্ডার। হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল ছবিগুলোর একটি ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’। প্রায় ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ছবিটি সে সময়ই প্রায় ৮৮ কোটি টাকা আয় করে নেয়।
এর আগে ‘জেন্টেলম্যান প্রেপার ব্লন্ডি’ ছবিতে ব্যবহূত মেরিলিন মনরোর লাল রঙের একটি পোশাক বিক্রি হয়েছিল প্রায় আট কোটি টাকায়। ওয়েবসাইট।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More