Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label বাজেট. Show all posts
Showing posts with label বাজেট. Show all posts

Wednesday, July 6, 2011

২০১৩ সালের জুনের আগে তোলা যাবে না


সদ্য সমাপ্ত ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৭৮ হাজার ৬৯১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। এটি আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।
শুধু তা-ই নয়, বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে বাড়িয়ে ৭৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন হাজার ৯১ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এটি এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ সময় আরও জানানো হয়, শেয়ারবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগ করলে ২০১৩ সালের জুন মাসের আগে তোলা যাবে না। ১০ শতাংশ কর দিয়ে টাকা সাদা করে আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে, মুনাফাও তোলা যাবে, কিন্তু সমপরিমাণ টাকা সব সময় বেনিফিশিয়ারি ওনার্সে (বিও) রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) জাহান আরা সিদ্দিকী, সদস্য (কাস্টমস প্রশাসন) ফরিদ উদ্দিন, সদস্য (কর প্রশাসন) বশিরউদ্দিন আহমেদ, প্রথম সচিব অপূর্বকান্তি দাস প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি ১ জুলাই থেকে শেয়ারবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুবিধা কার্যকর হয়েছে। ২০১২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যে কেউ এনবিআরের একটি নির্দিষ্ট ছক পূরণ করে এই সুবিধা নিতে পারবে। মেয়াদ শেষে ওই ব্যক্তি প্রদত্ত বার্ষিক আয়কর বিবরণী মিলিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া কেউ যাতে কালোটাকা বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্থ তুলে নিতে না পারে সেদিকে নজর রাখবে এনবিআর। শর্ত ভঙ্গ করলে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এতে আরও জানানো হয়, শেয়ারবাজারে বৈধ অর্থ বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ কর রেয়াত পাবেন। শুধু প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করলেই কর রেয়াত সুবিধা মিলবে। সেকেন্ডারি মার্কেটে বা দ্বিতীয় স্তরের বাজারে বিনিয়োগ করা হলে এই সুবিধা দেওয়া হবে না। 
এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো কোনো সরকারি সংস্থা কালোটাকা সাদাকারীদের সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যমান আইনানুযায়ী তা দেওয়া হবে।’ প্রসঙ্গত, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকারি সংস্থা কোনো করদাতার তথ্য জানতে চাইলে এনবিআর তা দিতে বাধ্য।
জানা গেছে, এখনো কালোটাকা সাদা করা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেনি এনবিআর। ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং হয়ে গেছে। বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপন ছাপানোর জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি: সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিদায়ী অর্থবছরে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ খাতে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) মিলিয়ে আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৮৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একই সময়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। আর প্রবৃদ্ধির হার ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই খাতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৮৫১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
স্থানীয় পর্যায়ে মূসক, সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার ট্যাক্সসহ মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৬০২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। আর প্রবৃদ্ধির হার ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরের এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক আদায় হয়েছিল ২১ হাজার ৭৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
এদিকে ২০১০-১১ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ করসহ মোট প্রত্যক্ষ কর আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে আয়কর আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আয়করে প্রবৃদ্ধি ৩৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছিল ১৭ হাজার ৪২ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্পর্কে নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, মূলত এটা এনবিআরের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভালো কাজ করেছেন। এনবিআর থেকেও রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ নজরদারি ছিল। রাজস্ব আদায়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরে ৯১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটীয় পদক্ষেপ দিয়ে এর বড় অংশ আদায় করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া করদাতাদের কর প্রদানে সচেতনতা বাড়াতে আয়কর ও মূসক মেলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমেও রাজস্ব আদায় বাড়বে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটা সম্ভব—এমন প্রশ্নের উত্তরে এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, ‘আশা করি রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাবে। এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে বলে আশা করি। সবক্ষেত্রেই ঝুঁকি রয়েছে। এনবিআর এ ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।’
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি-ব্যবস্থা সম্পর্কে ফরিদ উদ্দিন জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার মডেল অনুসরণ করে রাজস্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সরকারের বাড়তি অর্থ খরচ হবে না। এই নিষ্পত্তি ব্যবস্থার আওতায় পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করা হবে। এতে করদাতা ও কর আদায়কারীর মধ্যে দূরত্ব কমে যাবে।

Monday, July 4, 2011

'রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ হবে বাণিজ্যমন্ত্রীর বড় চ্যালেঞ্জ'

ঢাকা, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রমজানে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না থাকলে তার দায়ভার বাণিজ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "সামনে রোজার মাস, এটি বাণিজ্যমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এর দায়ভার তাকেই নিতে হবে।"

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে 'ভরাডুবি' আওয়ামী লীগের জন্য একটি সতর্ক সংকেত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু পুনরুজ্জীবীত করার আর সুযোগ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে গণতন্ত্রকে আর সমুন্নত করা যাবে না।"

তত্ত্বাবধায়ক রাখার দাবি বাদ দিয়ে আাগামীতে কীভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়- সে বিষয়ে আলোচনায় আসতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, সংবিধান এখন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালও ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট।
এ প্রসঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বলেন, "৪৮ ঘণ্টা, ৭২ ঘণ্টা হরতালে কোনো লাভ নেই, এতে জনগণ বিরক্ত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে সবাইকেই জনগণের মুখোমুখি হতে হবে।"

'হরতাল ও অযৌক্তিক কর্মসূচি দিয়ে তারেক, কোকো ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টার' প্রতিবাদে ঠিকানা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আওয়মী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া আলোচনায় অংশ নেন।

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআইএম/আরএম/আরএ/জেকে/১৭১৩ ঘ.

Thursday, June 30, 2011

১১ বছরে বরাদ্দ বেড়েছে তিন গুণ, ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি

১১ বছরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০০১-০২ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল প্রায় চার হাজার কোটি টাকা, তা ২০১১-১২ অর্থবছরে এসে দাঁড়াবে ১২ হাজার কোটি টাকায়, যা মোট বাজেটের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
গতকাল বুধবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুল আয়োজিত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেট-সংক্রান্ত এক সংলাপের মূল প্রবন্ধে এ তথ্য দেওয়া হয়।
সংলাপে অংশ নেওয়া প্রায় সব বক্তাই সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এই অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ে স্বচ্ছতা থাকা উচিত বলে মত দিয়েছেন।
তবে সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বাজেটের বরাদ্দ খুবই অপর্যাপ্ত।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ এই বিপুল অঙ্কের প্রতিরক্ষা বাজেটের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মোট আয়ের ৬২ শতাংশ চলে যায় কর দিতে। আর সেই করের টাকার বাজেটের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বরাদ্দ পায় সেনাবাহিনী। আর কৃষিতে বরাদ্দ পায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ। কৃষির বরাদ্দ কীভাবে খরচ হচ্ছে, এর ফল কী আসছে, তার সবই দেখতে পাই। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনীতে বরাদ্দ দেওয়ার কোনো ফল দেখতে পাই না।’
এ কে আজাদ বলেন, সেনাবাহিনী রাস্তা তৈরি করছে, উন্নয়নকাজে অংশ নিচ্ছে। তার জন্য জাতীয় বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দের দরকার আছে কি না, তা আলোচনা হওয়া উচিত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘প্রতিরক্ষার বিষয়গুলোতে সব দেশেই গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। তবু আমাদের দেশে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে প্রতিরক্ষা কমিটির সামনে আলোচনা হয়। প্রতিবছরই প্রতিরক্ষার বরাদ্দ ও ব্যয়ের ওপর নিরীক্ষা হয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটির কাছে যায়। সরকারের অন্যান্য সংস্থার আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন যতটুকু প্রকাশ করা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর আয়-ব্যয়ও ততটুকু প্রকাশিত হয়।
সংলাপ অনুষ্ঠানের সভাপতি ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, কোনো কিছু চাপা থাকলে অনেক প্রশ্ন ওঠে। তাই বিষয়গুলোর খোলামেলা আলোচনা ভালো। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।
অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহি চৌধুরী ‘বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেট’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাতে বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা বাজেটের তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধরে বলা হয়, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এ খাতে বাজেট বরাদ্দ অনেক কম।
প্রবন্ধে বলা হয়, বাজেট বৃদ্ধি মানেই মানসম্মত বাহিনী নয়। প্রতিরক্ষা বরাদ্দ বৃদ্ধির ভালো ফল হলো দেশে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কাজের সুযোগ তৈরিসহ অর্থনীতির গতিবৃদ্ধি। অন্যদিকে এর ফলে অর্থনীতিতে বোঝাও তৈরি হয়। দরিদ্র দেশ থেকে ধনী দেশগুলোতে সম্পদ চলে যায় এবং এটি গণতন্ত্রের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
সাবেক সেনাপ্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যায় বেতন-ভাতা, পেনশন, রেশন ইত্যাদিতে। তাই বাহিনীর উন্নয়নের জন্য এই প্রতিরক্ষা বাজেট খুবই অপর্যাপ্ত।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়গুলো এখনো আলোচনার ঊর্ধ্বে। জাতীয় বাজেটে পরিষ্কারভাবে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয় না। তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে, শত্রুর মোকাবিলার জন্য প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের জন্য হুমকি কারা, এরা কী অভ্যন্তরীণ, না বহিঃশত্রু, তা স্পষ্ট নয়। বহুতল ভবনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আগে, নাকি সামরিক ট্যাংক আগে কেনা হবে—বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। প্রথাগত যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত, তার খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।’
সেনাবাহিনীর বাজেট শাখার পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, সেনাবাহিনীর কোনো কিছুই গোপন নয়। যথাযথ দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কেউ এর বরাদ্দ ও খরচের বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর মোট বরাদ্দের মধ্যে সেনাবাহিনী পেয়েছে ৫২ থেকে ৫৩ শতাংশ, বিমানবাহিনী ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, নৌবাহিনী ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বাকিটা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে (ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, ক্যাডেট কলেজ এবং এ ধরনের প্রতিষ্ঠান) ব্যয় হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, সেনাবাহিনীর মোট বরাদ্দের ৫৮ শতাংশ খরচ হয় বেতন ও অন্যান্য ভাতা বাবদ, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ সরবরাহ ও সেবা খাতে, ১ দশমিক ৮ শতাংশ মেরামত খাতে, ২১ দশমিক ৭২ শতাংশ সামরিক উপকরণ সংগ্রহ এবং দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কল্যাণ খাতে ব্যয় হয়।
সদ্য অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল জহির বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্যও বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা করতে হয়। এ জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত জনবল ও সর্বাধুনিক সরঞ্জাম। আর এর জন্য চলতি বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল।
এ প্রসঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে শুধু জাতিসংঘ মিশনে অংশগ্রহণ নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরী বলেন, সেনাবাহিনীর বিষয়গুলো সেই পাকিস্তান আমল থেকেই ‘অতি সংবেদনশীল’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই চিত্রের পরিবর্তন আনতে হবে।
মেজর জেনারেল (অব.) রেজা নূর বলেন, ‘উপযুক্ত বরাদ্দের অভাবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আধুনিক ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারছে না।’
রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এত অর্থ খরচের ফল কী হচ্ছে, তা যদি মানুষ জানতে পারে, তাহলে তারা বিষয়টি মানবে।
চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট নেছারউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘গরিব দেশ হিসেবে এটা অনেক বড় বরাদ্দ। আমাদের কষ্টের এই টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, আমরা তা জানি না।’
সংলাপের সূচনা বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মামুন রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইনুন নিশাত উপস্থিত ছিলেন।

বাজেটে পুঁজিবাজার-সম্পর্কিত পদক্ষেপ শিল্পোন্নয়নে গতি বাড়াবে


undefined
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার-সম্পর্কিত বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের শিল্পোন্নয়নে গতি বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে রপ্তানি-বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি সাধিত হবে এবং ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন সহজতর হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ডিএসইর কার্যালয়ে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় শাকিল রিজভী এ কথা বলেন।
বাজেটে পুঁজিবাজার সম্পর্কে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান শাকিল রিজভী।
বাজেটে বন্ডের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে শাকিল রিজভী বলেন, এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বাজার যাতে আবার অতিমূল্যায়িত না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে চাহিদার পাশাপাশি শেয়ার সরবরাহ যাতে বাড়ে, সে বিষয়টিও নজরে রাখা হবে বলে শাকিল রিজভী জানান।
লিখিত বক্তব্যে শাকিল রিজভী বলেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী করা। তাই খুব দ্রুততার সঙ্গে সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারসহ দেশি-বিদেশি বড় বড় কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে অফলোড করে চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের সমন্বয় করা।’
এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গা। সুতরাং এটা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলকে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী আমাদের আসল পরিচয়। পুঁজিবাজার রাজনীতির উপাদান না হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে যাতে কাজ করতে পারে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই এটাকে যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ডিএসইর পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সতিপতী মৈত্র, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. জহুরুল আলম উপস্থিত ছিলে


প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More