Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label Finance. Show all posts
Showing posts with label Finance. Show all posts

Monday, July 25, 2011

বাজার নিয়ন্ত্রণে আবার আশ্বাস

বাজার থেকে চিনি উধাও করার চার দিন পর ব্যবসায়ীরা জানালেন, এখন থেকে চিনি পাওয়া যাবে। এমনকি প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়ানোর পর ব্যবসায়ীরা আরও আশ্বাস দিলেন, রমজান মাসে বাজারদর স্থিতিশীল থাকবে।
চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজার চরম অস্থির থাকার পর গতকাল রোববার ব্যবসায়ীদের নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সকালে বৈঠক করেছে ট্যারিফ কমিশন। বিকেলে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া হাইকোর্ট গতকাল চিনি ও সয়াবিন তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে সাতজন ডিও ব্যবসায়ীর নামে মামলা করার সুপারিশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, ‘আপনারা তো এক মাস আগেই কথা দিয়ে গেলেন যে রমজানে পণ্যমূল্য বাড়াবেন না। হঠা ৎ চিনির দাম বাড়িয়ে দিলেন কেন?’ জবাবে ব্যবসায়ীরা কারখানা বন্ধ থাকাসহ তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে জানান, কিছু সমস্যার কারণে চিনির ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হলেও তা কেটে গেছে। রমজানেও পণ্যমূল্য আর বাড়বে না।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চিনি ও ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানা মালিকদের পাশাপাশি চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, ‘ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ভোজ্যতেল ও চিনির কোনো সংকট নেই, আগামী দিনেও কোনো সংকট থাকবে না। শুধু ঢাকায় চিনির ক্ষেত্রে চাহিদা ও সরবরাহের একটু সমস্যা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ রকম হবে না।’
ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ডিলার ও পরিবেশক পদ্ধতির মধ্যে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। যে এলাকায় পরিবেশক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এর বাইরে অন্য এলাকায় পণ্য বিতরণ করা যায় না। এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পরিবেশকেরা নিজ এলাকায় পণ্য সরবরাহ করে উদ্বৃত্ত পণ্য অন্য এলাকায়ও সরবরাহ করতে পারবেন।’
যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে চারটি চিনি পরিশোধন কারখানা বন্ধ থাকা, হরতাল ইত্যাদি কারণ তুলে ধরেছেন ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এখনো চান না পরিবেশক পদ্ধতিটি হোক। কিন্তু এটি করা হবেই।
আবদুল মোনেম লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন মোনেম বলেন, চিনির দর কাল থেকেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। মিলগেটে ৫৮ থেকে ৬২ টাকা দরেই চিনি সরবরাহ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীকে এ কথা জানিয়ে এসেছেন তাঁরা।
ডিও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল অত্যাবশ্যকীয় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে সাতজন ডিও ব্যবসায়ীর নামে মামলা করার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া দেশের সব ভোজ্যতেল ও চিনি পরিশোধন কারখানা মালিকদের পরিবেশক পদ্ধতি পরিপূর্ণভাবে চালুর জন্য আবারও নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
নির্দেশে বলা হয়েছে, পণ্য বিপণন আদেশ ২০১১ অনুযায়ী ডিও প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। চিনি ও ভোজ্যতেল বর্তমানে শুধু পরিবেশক নিয়োগের মাধ্যমেই বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। তিন মাসের সময় দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০ জুন। ডিও প্রথা বিলুপ্তির আগে অনেকে যেসব ডিও ইস্যু করেছিল, সে পণ্যও পরিবেশকের মাধ্যমেই বিক্রি করতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে এই মুহূর্তে চিনির মজুদ রয়েছে এক লাখ দুই হাজার টন। আরও দুই লাখ ৩৭ হাজার টন চিনি দেশে এসে পৌঁছাবে রমজানের মধ্যে। অন্যদিকে, ভোজ্যতেলের মজুদ এক লাখ ৩১ হাজার টন। আর, দেশে এসে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরও তিন লাখ ৩৭ হাজার টন।
ট্যারিফ কমিশনে বৈঠক: চিনির দর, সরবরাহের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশক পদ্ধতি চালুর বিষয়ে পরিশোধন কারখানা মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গতকাল নিজস্ব কার্যালয়ে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন।
বৈঠক শেষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকার-নির্ধারিত ৬৫ টাকা কেজি দরেই চিনি বিক্রি করতে হবে। গত কয়েক দিন কারখানার মালিকেরা রাজধানীতে কম সরবরাহ করে বেশি সরবরাহ করেছেন রাজধানীর বাইরে। তাই চিনির সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, চালান প্রথা (ডিও) থেকে পরিবেশক পদ্ধতিতে উত্তরণের প্রক্রিয়াতে কিছু সময় লাগছে। এ পদ্ধতি চালুর ব্যাপারে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর অনীহা রয়েছে। ফলে এক ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। দর বাড়ার পেছনে এটাও একটা কারণ বলে জানান তিনি।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, পরিশোধন কারখানা থেকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল। এখন সরবরাহ ঠিক হয়েছে। সোমবার থেকেই পাইকারি বাজারে তাঁরা নির্ধারিত দর অর্থা ৎ ৬২ থেকে ৬৩ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি করবেন।
সরবরাহের নানা আশ্বাস: এদিকে, দেশে চিনির মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)।
গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসএফআইসির পক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংস্থার গুদামে বর্তমানে ৫০ হাজার টন চিনি মজুদ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিএসএফআইসির নির্ধারিত ডিলারদের মধ্যে ১০ হাজার টন চিনি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, চলতি মাসে দেওয়া হবে আরও ১০ হাজার টন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ২০ হাজার টন চিনি জাহাজীকরণের কাজ শেষ হয়েছে। শিগগির এ চিনি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। এ ছাড়া স্থানীয় বাজার থেকেও কেনা হবে ২০ হাজার টন চিনি। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাজার থেকে কেনা পাঁচ হাজার ৮১৩ টন চিনি এরই মধ্যে বিএসএফআইসির গুদামে গুদামজাত করা হয়েছে।
এদিকে, দেশবন্ধু চিনিকল কর্তৃপক্ষ গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সুলভ মূল্যে চিনি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে তারা। প্রতি কেজি ৬৫ টাকা করে পরিবেশকদের মাধ্যমে মৌলভীবাজার, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, রামপুরায় চিনি বিক্রি করা হবে।
চার কর্মকর্তা তলব: চিনি ও সয়াবিন তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ভূমিকা জানাতে টিসিবির চেয়ারম্যানসহ চার কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে।
গতকাল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ সম্পূরক এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ নভেম্বর আদালত রুল জারি করেন ও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। এরপর ওই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নিষ্ক্রিয়তা ও আদালতের নির্দেশনা অনুসারে প্রতিবেদন দাখিল না করায় এ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গতকাল সম্পূরক আবেদনটি করা হয়।
আদালতের নির্দেশনায় সরকার-নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে কেউ যেন সয়াবিন তেল ও চিনি বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য সাধারণ ও পাইকারি বাজারগুলো তদারক করতে বাণিজ্য ও খাদ্যসচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ও র‌্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা ৎ ক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিতের কথাও রয়েছে নির্দেশনায়। অবৈধভাবে মজুদ করে কেউ যেন বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, এ বিষয়টি তদারক করতেও বলা হয়েছে। এ ছাড়া টিসিবির চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক (আমদানি-রপ্তানি), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ৯ আগস্ট হাজির হতে বলা হয়।  প্রথম আলো

Sunday, July 24, 2011

 ৪৫ টাকায় আমদানি করা ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়

অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা সাধারণ মানের প্রতি কেজি ছোলার দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা। এই ছোলা চার হাত ঘুরে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি ছোলায় আমদানি মূল্যের চেয়ে খুচরা মূল্য ২৩-২৫ টাকা বেশি। মিয়ানমার থেকে ৫৮-৫৯ টাকায় কেনা ছোলাও বিক্রি হচ্ছে ৭৮-৮০ টাকায়।
রোজার বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি স্তরেই বেশি মুনাফার কারণে ছোলার দামে এই অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নথিপত্রে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার ও ইথিওপিয়া—এই তিন দেশ থেকেই ছোলা আমদানি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা সাধারণ মানের ছোলার দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ছোলার দাম সাড়ে ৫৮ থেকে সাড়ে ৫৯ টাকা। ইথিওপিয়া থেকে আমদানি করা ছোলার দাম পড়ছে ৪৯ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫৩ টাকা।
১৭ জুলাই আমদানিকারক চিটাগাং স্টোর ৪৫ টাকা ১৬ পয়সা দরে ৪৬৯ দশমিক ৩ টন ছোলা আমদানি করে অস্ট্রেলিয়া থেকে। প্রতি কেজি ছোলা খালাসে সব ধরনের খরচ তিন টাকা ধরা হলে আমদানি মূল্য দাঁড়ায় ৪৮ টাকা ১৬ পয়সা।
চিটাগাং স্টোরের আইয়ুব আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই ছোলা মণপ্রতি দুই হাজার ১০ টাকায় বিক্রি করেছি ডিও ব্যবসায়ী ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে।’ এই হিসাবে কেজিপ্রতি দাম পড়ে ৫৩ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে আমদানিকারক লাভ করেছেন প্রায় সাড়ে পাঁচ টাকা।
এই ছোলা ডিও ব্যবসায়ী ও ছোট পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও কর্ণফুলী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা এই ছোলা বিক্রি করছেন ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়।
মিয়ানমার থেকে সাড়ে ৫৮ থেকে সাড়ে ৫৯ টাকায় ছোলা কিনছেন আমদানিকারকেরা। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতারা এই ছোলা কিনছেন কেজিপ্রতি ৭৪ টাকা ২২ পয়সায়।
কর্ণফুলী মার্কেটের খোকন স্টোরের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের ছোলা কেজিপ্রতি বিক্রি করছেন ৭৮ টাকায়। দাম এত বেশি কেন, জানতে চাইলে তিনি রসিদ দেখিয়ে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার থেকে গত বুধবার মণপ্রতি দুই হাজার ৭৭০ টাকায় (কেজিপ্রতি ৭৪ টাকা ২২ পয়সা) এই ছোলা কিনেছি। দোকানে আনার খরচসহ কেজিপ্রতি দাম পড়েছে প্রায় ৭৬ টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী মেসার্স তৈয়বীয়া স্টোরের মো. সোলায়মান জানান, গুদাম থেকে মালামাল পরিবহন ও খালাসের খরচ বেড়েছে। এসব খরচ যোগ করে প্রতি মণে ৫০ টাকা লাভে বিক্রি করছি। দাম বাড়লে সব সময় আমরাই বিপদে পড়ি। অথচ আমদানিকারক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে যাঁরা পণ্য কেনেন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি মুনাফা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানে ছোলার চাহিদা ধরা হয় ন্যূনতম ৬০ হাজার টন। এই মাসের প্রথম ২০ দিনে ছোলা আমদানি হয়েছে নয় হাজার ১৬৯ টন। এর আগের তিন মাসে ছোলা আমদানি হয় ৩৯ হাজার টন। আগামী দুই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া, ইথিওপিয়া ও মিয়ানমার থেকেও বিপুল পরিমাণ ছোলা আমদানি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

 চিনি নেই, গুড়ের দাম বাড়ালেন ব্যবসায়ীরা

সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পর খোলাবাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পর খোলাবাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতাদের প্রশ্নের জবাব এড়াতে দোকানি ‘চিনি নাই’ লিখে রেখেন। গতকাল ছবিটি রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকা থেকে তোলা
ছবি: প্রথম আলো
বাজার থেকে চিনি এখনো উধাও। চিনির বিকল্প হিসেবে আছে গুড়। কিন্তু এখানেও ব্যবসায়ীদের কারসাজি। রাতারাতি গুড়ের দাম কেজিপ্রতি বাড়ানো হয়েছে ১৫ টাকা। আর চিনি ও গুড়ের এই বাজারে সংকটে পড়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।
তিন দিন হয়ে গেলেও চিনির সংকট মেটেনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল শনিবার বাজারে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ভরসা এখন আজ রোববারের একটি বৈঠক। চিনিসহ নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের বিকেলে বৈঠকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, চিনির মতোই অবস্থা খোলা সয়াবিন তেলের। বাজারে এটিও খুব একটা মিলছে না। তবে যেসব দোকানে খোলা সয়াবিন পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে চার থেকে পাঁচ টাকা বেশিতে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
সরকারের বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী, খুচরা দোকানগুলোতে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১০৯, পাম তেল ৯৯ ও চিনি ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার কথা। গত বুধবার সরকারি পর্যায়ে এই দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকেই চরম অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার।
গুড়ের দামও চড়া: বাজারে চিনির সংকট চলায় অনেক ক্রেতারই নজর ছিল গুড়ের দিকে। এই সুযোগে গুড়ের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারে গতকাল আখের গুড় ৭০ থেকে ৮০ ও খেজুরের গুড় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাঁচ-ছয় দিন আগেও তাঁরা আখের গুড় ৬০ আর খেজুরের গুড় ৬৫ টাকায় বিক্রি করতেন।
হঠাৎ গুড়ের দাম কেন বাড়ল—জানতে চাইলে বিক্রেতা মো. ছালেহ বলেন, ‘রাজশাহী ও নাটোরের পাইকারি বাজার থেকেই আমাদের গুড় কিনতে হচ্ছে ৬৮ থেকে ৬৯ টাকায়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে আমাদের কী করার আছে।’ তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ, চিনির দাম বাড়ার কারণে সুযোগ বুঝে পাইকারি ব্যবসায়ীরা গুড়ের দাম বাড়িয়েছেন।
চিনির দেখা মেলা ভার: রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজারের চারটি দোকান ঘুরে গতকাল একটিতে চিনির দেখা মেলে। ক্রেতা সেজে দাম জানতে চাইলে দোকানি বললেন, কেজি ৭৫ টাকা। এত বেশি কেন? জবাবে তাঁর উত্তর, ‘যান, দেখেন এর কম দামে চিনি পান কি না।’
গতকালও কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে চিনি দেখা যায়নি। দোকানিরা জানান, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে নতুন করে চিনি আনেননি তাঁরা।
তবে কারওয়ান বাজার ঘুরে দুটি দোকানে দেশি চিনি দেখা গেছে। দেশি হলেও এই চিনির দাম কিন্তু কম নয়, পাক্কা ৭৫ টাকা কেজি।
ব্যবসায়ীদের আশ্বাস: যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও এর আশপাশে ৮০ হাজার টন চিনি রয়েছে। আরও সাড়ে তিন লাখ টন চিনি আসছে। শিগগিরই চিনির সংকট কেটে যাবে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের ২৯০ জন পরিবেশককে ৬০ টাকা করে চিনি দিচ্ছি, যেন তারা সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করতে পারে। কাল থেকে সবাই হাতের নাগালে চিনি পাবেন।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশবন্ধু গতকাল মন্ত্রণালয়কে বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি গতকাল রাজধানীতে তাদের নয়জন পরিবেশককে ১৬০ মেট্রিক টন চিনি সরবরাহ করেছে। চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ মন্ত্রণালয়কে বলেছে, তাদের ৭৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি দেশে আসার অপেক্ষায় আছে। আরেক পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম বলেছে, চট্টগ্রামে তারা লালসালু টাঙিয়ে সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করবে।
চিনির অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকেই মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এর জন্য পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে আসছেন। তবে গোলাম মোস্তফা বলেন, মিলগেট থেকে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় চিনি বিক্রি করা হচ্ছে। তাহলে কেন ওই চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি করা হবে? পরিবেশক-প্রথা যেন কার্যকর হতে না পারে সে জন্যই পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ কাজ করছেন।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকটি দল গতকালও মৌলভীবাজারে অভিযান চালান। অভিযান শেষে আদালত পরিচালনাকারীরা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম মুর্তজা রেজা চৌধুরীর কাছে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীরা আদালতকে বলেছেন, তাঁরা এখন থেকে সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করবেন। আর যেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা না হয়।
খোলা সয়াবিনও মিলছে না: রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা ঘুরে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা যায়নি। হাতিরপুল বাজারের দু-তিনটি দোকানে খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১১২ টাকা লিটারে। তবে কারওয়ান বাজারের অনেক দোকানেই খোলা সয়াবিন বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১২ টাকায়।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৫ টাকায় খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা: রাজধানীর মিরপুর, বারিধারা ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জন খুচরা ব্যবসায়ীকে এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দুটি দল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তাঁরা ক্রেতাদের কাছে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি করছিলেন। পাশাপাশি কয়েকটি রেস্টুরেন্ট নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও বিতরণ করছিল।
অধিদপ্তরের দুই উপপরিচালক মো. রেজাউল করিম শেখ ও মো. মনিরুজ্জামান অভিযান পরিচালনাকারী দল দুটির নেতৃত্ব দেন।

দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রাথমিকভাবে আদমশুমারিতে যে সংখ্যাটি পাওয়া গেছে, তা থেকে সাধারণত প্রতি আদমশুমারিতেই পাঁচ-ছয় শতাংশ বেশি হয়। সে হিসেবে জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ কোটি ২০-২৫ লাখ। তবে দেশের বাইরে আরও যাঁরা আছেন, তাঁদের নিয়ে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি হবে।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট বাস্তবায়ন’ সম্পর্কিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া রাজনৈতিক ইচ্ছার বিষয়। তবে আমার মনে হয়, নতুন ব্যাংক হলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে।’
পুঁজিবাজার বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন বিধিবিধান হচ্ছে। শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কোম্পানির শেয়ার আসার ব্যাপারে আমলাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বর্তমানে ডলারের যে দাম তা স্থিতিশীল আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। সেই আমদানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ডিএসইতে ১৯৫৭ কোটি টাকার লেনদেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ রোববারও লেনদেন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। গত বৃহস্পতিবারের মতো আজও লেনদেন বেড়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে। গত ডিসেম্বরে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধস নামার পর আজকের লেনদেন সর্বোচ্চ। এ ছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সারা দিন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বাজারে ভয়াবহ ধসের পর বিনিয়োগকারীরা আস্থার সংকটে ভুগছিলেন। চলতি অর্থবছরে অপ্রদর্শিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সুযোগ দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বাজারে তারল্যসংকটও অনেকাংশে কমে গেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাজারে।
এ ব্যাপারে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বাজারে ভয়াবহ ধসের পর বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে প্রবল তারল্যসংকট বিরাজ করছিল। এই সংকট অনেকাংশে কমেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় লেনদেনও বেড়েছে।
শাকিল রিজভী আরও বলেন, বাজার বাড়তে থাকলে সবাই আসে। আবার কমতে থাকলে সবাই হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি উল্টো হওয়া উচিত ছিল। তাহলে বাজারও স্বাভাবিক আচরণ করত। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগও লেনদেন বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।
এ অবস্থায় নতুন শেয়ার সরবরাহ করা দরকার বলে মনে করছেন ডিএসইর সভাপতি। নতুন শেয়ারবাজারে আনার ব্যাপারে ডিএসইর পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান শাকিল রিজভী।
আজ ডিএসইতে এক হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এই হিসাবে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর এটিই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার এক হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা লেনদেন হয় ডিএসইতে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪৯.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬৭১০.৫৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের ১০ মিনিটের দিকে সূচক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। প্রথম ঘণ্টা শেষে সূচক কিছুটা কমলেও দ্বিতীয় ঘণ্টা শেষে আবার বাড়তে শুরু করে। বেলা একটায় দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৮ পয়েন্ট বেড়েছিল, যা দিন শেষে কিছুটা কমে যায়।
আজ লেনদেন হওয়া ২৬৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৮টির, কমেছে ১২৭টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো, আফতাব অটো, আরএন স্পিনিং, সাউথইস্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ার, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা ও এমজেএল বিডি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ৭১.৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৯১৮৬.৭০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২০৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১০৩টির, কমেছে ৯৪টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ১৯৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে চার কোটি টাকা কম।প্রথম আলো

Tuesday, July 12, 2011

সবজিবাজারে আগুন

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সত্যিই যে আগুন লেগেছে: তরিতরকারি ও শাকসবজির দাম এতটাই বেড়েছে যে নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। প্রথম আলোয় রোববার প্রকাশিত এক সরেজমিন প্রতিবেদন বলছে, কোনো কোনো সবজির দাম গত এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি বেড়েছে কুড়ি টাকা পর্যন্ত। এক কেজিতেই কুড়ি টাকা দাম বাড়লে বাজার ঠিক কী নিয়মে চলছে, এই প্রশ্নে দিশেহারা হতে হয়।
আলু, পটোল, বেগুন, করলা, কাঁকরোল, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, টমেটো, পেঁয়াজ, শসা, গাজর, কাঁচামরিচ—এমন কোনো সবজি নেই, যার দাম বাড়েনি। সবজিভেদে দাম বৃদ্ধির পরিমাণ কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে কুড়ি টাকা পর্যন্ত। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই মূল্যবৃদ্ধি ভীষণ অস্বাভাবিক। তবে নিশ্চয়ই রহস্যময় নয়। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির খুচরা ব্যবসায়ীদের মুখে দাম বাড়ার ব্যাখ্যাগুলো এ রকম: (এক) কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খেতের সবজি নষ্ট হয়েছে, অর্থাৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে; (দুই) বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালে পরিবহনব্যবস্থা বন্ধ ছিল, ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় সবজি আসতে পারেনি; (৩) এরই মধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছিল, কিন্তু মজুদ অবস্থায় পচে নষ্ট হয়েছে অনেক সবজি। অর্থাৎ, চাহিদা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু উৎপাদন সরবরাহ কমে গেছে, ব্যাহত হয়েছে ভীষণভাবে। এ রকম অবস্থায় যা ঘটে, ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে ঠিক তা-ই ঘটেছে।
টানা বৃষ্টি ও টানা হরতাল—উভয় কারণই বোধগম্য বটে। কিন্তু তার মানে কি এই যে করলার মতো সবজির দাম এক সপ্তাহে এক কেজিতে কুড়ি টাকা বেড়ে যাবে? মূল্যবৃদ্ধির এই অস্বাভাবিক উচ্চহার নিয়েই প্রশ্ন, বৃদ্ধির প্রকৃত হার কত, আর বৃষ্টি-হরতালের অজুহাত দেখিয়ে বাড়ানো হয়েছে কত? অভিন্ন কারণে যদি দাম বেড়ে থাকে, তাহলে এই রাজধানীতেই একেকটি কাঁচাবাজারে একই সবজির দামের হেরফের এত বেশি কেন? খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা উচিত।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা সবজি সংগ্রহের সময় সংঘবদ্ধভাবে কৃষকদের ঠকান, কৃষকেরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। আবার রাজধানীর খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এসে সবজির দাম এতটাই বেড়ে যায় যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের কষ্ট হয়। উৎপাদক থেকে ভোক্তার মাঝখানে কৃষিপণ্যের দামের এই বিরাট ব্যবধান—এটা কী উপায়ে ঘটছে, সরকারের তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকারের আদৌ কোনো দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না। কৃষকদের তরফ থেকে ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার নিরন্তর অভিযোগ, অন্যদিকে ভোক্তাদের দিক থেকে খাদ্যদ্রব্যের দাম ক্রমাগত বাড়ার অভিযোগের মাঝখানে যে মধ্যস্বত্বভোগীরা অনৈতিক পন্থায় অতিরিক্ত মুনাফা করছে, তাদের দমন করা দরকার।

ছয় বছরে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় দ্বিগুণ

দেশে পণ্য রপ্তানি আয় ছয় বছরের মাথায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এতে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৯২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। আর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে রপ্তানি আয়ের মোট পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫২ কোটি ৬২ লাখ ডলার।
আবার গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আয় তার আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ৪১ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬২০ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকেও উল্লেখযোগ্য হারে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য যেখানে বার্ষিক রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সেখানে প্রকৃত রপ্তানি আয় তার চেয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি হয়েছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, আলোচ্য বছর রপ্তানি আয়ের শীর্ষে আছে নিট পোশাক রপ্তানি। এ সময় নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা তার আগের বছরের চেয়ে ৪৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এ আয় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) অন্যতম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, বিগত বিশ্বমন্দার সময় বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকেরা অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দিয়ে হলেও নিয়মিত ক্রেতাদের ধরে রেখেছিলেন। মন্দা কাটিয়ে উন্নত বিশ্বে চাহিদা জোরদার হওয়ায় ক্রেতারা তাই বড় আকারে কার্যাদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চীনের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হওয়ায় সেখানে শ্রমের মজুরি বেড়েছে। ফলে চীন থেকেও কিছু কার্যাদেশ বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হয়েছে।
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘রপ্তানির এই গতিময়তা ধরে রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই জরুরি। তাই সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যেন হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়া থেকে বিরত থাকে।’
বিকেএমইএর সহসভাপতি এও বলেন, সরকারের কাছে তাঁদের প্রধান দাবি গ্যাস-বিদ্যুৎ তথা জ্বালানি সমস্যার উত্তরণ ঘটানো। না হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে আর রপ্তানির গতিময়তা ধরে রাখা যাবে না।
রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় স্থানে আছে ওভেন পোশাক। ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৪৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার, যা তার আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ২৭ শতাংশ বেশি।
পাট ও পাটজাত পণ্য দেশের রপ্তানি আয়ের তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। আলোচ্য বছর পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১১১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৪১ শতাংশ বেশি। তবে মোট আয় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১১১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার থেকে সামান্য নিচে রয়েছে।
পাট ও পাটজাত পণ্যের মধ্যে কাঁচা পাট রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, পাট-সুতা ও টোয়াইন থেকে ৫০ কোটি ডলার এবং পাটের থলে-ছালা থেকে ২০ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।
এ ছাড়া ১০ কোটি ডলারের ওপরে কিন্তু ১০০ কোটি ডলারের নিচে রপ্তানি আয়—এমন পণ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হোম টেক্সটাইল (৭৮ কোটি ৮৭ লাখ ডলার), হিমায়িত খাদ্য (৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার) এবং পাদুকাসামগ্রী ও চামড়া (উভয়ই ২৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলার)।

Sunday, July 10, 2011

ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী

Details
বাজারে ডলার সংকটে ডলারের দাম অস্থির হয়ে উঠছে। হঠাত্ করেই খোলা বাজারে চড়ে গেছে ডলারের দাম। বাজারে ডলারের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত সরবরাহ না করায় ডলার সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি দামও অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাস্ফীতি ও কার্যকারিতা হারাবে। তবে বাজারে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকিং সূত্র জানায়, গেল সপ্তাহে ৭৪ টাকা ৫৬ পয়সা পর্যন্ত ডলারের দাম উঠে। তবে ব্যাংক ও গ্রাহকভেদে এর কিছুটা হেরফের হয়েছে। ডলারের দাম বাড়তে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলিফোনে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করলেও কখনো কখনো নিষ্ক্রীয় ভূমিকা পালন করে।
সূত্র জানায়, ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ার ফলে কার্ব মার্কেটেও ডলারের দাম বেড়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৭৮ টাকা পর্যন্ত কার্ব মার্কেটে ডলারের লেনদেন হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ৭১ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ডলারের কেনাবেচা হয়। ডিসেম্বরেও ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ছিল কমবেশি ৭০ টাকা। এ সময়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭২ টাকা। ডলারের এ মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে তারল্য সংকটের মতই ডলার সংকট রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ডলার বাজারে সরবরাহ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হচ্ছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতেও ডলারের জমা রাখা জরুরী। ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনাও কিনেছে। ফলে, অফিসিয়াল চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ কিছুটা কম। এদিকে, রেমিটেন্স প্রবাহ আগামী দিনগুলোতে কমে আসার আশংকাও করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মসুযোগ নষ্ট হওয়ায় এ আশংকা করা হচ্ছে। আবার ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেও কেউ কেউ ডলারে বিনিয়োগ করেছে এমনটিও বলেছে কোন কোন সূত্র।
স্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদামত ডলার না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে তৃতীয় মুদ্রায় এলসি খুলতে হচ্ছে। থার্ড কারেন্সি (ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা পাউন্ড) কিনতেও বেশি দাম দিতে হয়। তাতে গড়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়।
বিশ্বব্যাপী ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে ডলারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে অনেকেই নেতিবাচক দিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেশি হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ভাসমান মুদ্রা বিনিময় হার চালু করলেও এখনো ডলারের মান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। রেমিটেন্স ও রফতানিতে উত্সাহ যোগাতে অনেকটা পরিকল্পিতভাবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমিয়ে রাখা হচ্ছে। যা আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন করতো। এখন সেটি অঘোষিতভাবেই করা হচ্ছে। প্রকৃত বিনিময় হার কার্যকর করা হলে টাকার মান বৃদ্ধি পেত। টাকার বিপরীতে ডলার দুর্বল হত। তাতে আমদানি পণ্যের দামও কম হতো।
ফিনান্সিয়াল ইকনোমিস্ট ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, এখন যেহেতু ডলার ছাড়াও অন্য মুদ্রায় আমদানি ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে, তাই ডলারের বাড়তি দাম ধরে রাখার কোন যুক্তি নেই। বরং টাকা ও ডলারের মূল্যমান প্রকৃত বাজারভিত্তিক করে দেয়াই উত্তম।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০৩ সালে মুদ্রার ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট বা ভাসমান বিনিময় হার বা বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে এটি করা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশংকা করছে, কার্যকর বিনিময় হার চালু থাকলে ডলারের দাম ৪/৫ টাকা কমে আসবে। কিন্তুু বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতির কারণে ডলারের বাড়তি দাম অব্যাহত থাকলে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়ে যাবে। তাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিও কার্যকারিতা হারাবে।

 নতুন-পুরোনো বরাদ্দের চক্রে এডিপি

রেলওয়ে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হতে পারে এডিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত রেলওয়ে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হতে পারে এডিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে নানা ধরনের ফাঁকফোকর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বছর বছর এডিপির আকার বাড়ানো হয়। বড় আকারের এডিপি গ্রহণ করে ক্ষমতাসীনেরা বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়ছে। আর আমলারা বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেড়েছে।
আবার প্রতিবছর রাজনৈতিক বিবেচনায় বছরের শেষদিকে নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে পরবর্তী বছরের এডিপিতে নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ দিতে হিমশিম খেতে হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ কমে আসে।
আবার বরাদ্দ কম দিয়ে নতুন প্রকল্প নিতে হয় বিভিন্ন পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে। এতে করে চলমান পুরোনো প্রকল্পেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া যায় না। ফলে বছর শেষে সমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা কমে যায়, মেয়াদ বাড়িয়ে আবারও বরাদ্দ দেওয়া সেসব প্রকল্পে। এভাবে প্রকল্প চলে বছরের বছরের পর। এক ধরনের চক্রের মধ্যে পড়ে যায় পুরো এডিপি ব্যবস্থাপনা।
এ নিয়ে সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের সভায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সদ্য বিদায়ী ২০১০-১১ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার কমিয়ে ৩৫ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু বছরের মাঝখানে নতুন প্রকল্প ঢুকেছে ২৭০টি। আর এসব নতুন প্রকল্প পুরোনো চলমান প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৪৬ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা ১০৩৯। এর মধ্যে ‘নতুন’ প্রকল্প মাত্র ৭৭টি।
এভাবে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করাকে ‘চালাকি’ ও ‘অর্থের অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পরিচালক জায়েদ বখত। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রকল্পগুলো মূলত মন্ত্রী-এমপিদের চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়। বছরের শেষদিকে এসে নেওয়া এসব প্রকল্পে তাড়াহুড়া করে অর্থ খরচ করতে গিয়ে কাজের গুণগত মান থাকে না, এটা অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।’
এভাবে বছরের পর বছর নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার ফলে সমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা তুলনামূলক কমছে। এসব ‘নতুন’ প্রকল্পে প্রতিবছর বরাদ্দ দিতে গিয়ে পুরোনো প্রকল্প সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না। মেয়াদ বাড়িয়ে পুরোনো প্রকল্পগুলোতে আবার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের একটি চক্রের মধ্যে পড়েছে এডিপি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।
আবার ঢাউস আকারের এডিপির বাস্তবতা হলো, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে মূল্য সমন্বয়। এই মূল্য সমন্বয় করতে গিয়ে প্রকল্প ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তাতে গুণগত কোনো পরিবর্তন হয় না।
এডিপির এই বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জায়েদ বখত প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূল্য সংশোধনের বা সমন্বয়ের কারণে এডিপির আকার বাড়ে এটা সত্য। তবে প্রকৃত মূল্যেও এডিপির আকার বাড়ছে। এখানে সমস্যা হলো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় এডিপির আকার কমে এসেছে। এর মানে হলো, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে। আর সরকারি ব্যয় কম হলে বেসরকারি বিনিয়োগও তুলনামূলক কম আকৃষ্ট হবে।’
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরের ২৯ মে পর্যন্ত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে যেসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা চলতি অর্থবছরের এডিপির জন্য ৬৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থসংকটে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে জানান, প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ফলে স্বভাবতই প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে।
ব্যয় বৃদ্ধির নমুনা: টঙ্গী থেকে ভৈরববাজার পর্যন্ত ডবল রেলপথ নির্মাণে খরচ করা হবে দুই হাজার ৩৭ কোটি টাকা। আর ২০০৬ সালে একই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৭২০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে।
নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শুরু করতে না পারায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। গত ২০ জুন ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্প আবারও অনুমোদন দেওয়া হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)।
অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পরিকল্পনাসচিব মনজুর হোসেন বলেছেন, ‘যখন প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়, তখন জিনিসপত্রের দাম অনেক কম ছিল। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগেছে। ততক্ষণে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়েছে। জমি অধিগ্রহণেও আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হবে।’ প্রকল্পটির মেয়াদকাল বাড়িয়ে ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।
এমন আরেকটি প্রকল্প হলো খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান নির্মাণ প্রকল্প। গত ২২ মার্চ একনেকে এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে যখন প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন করা হয়, তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮০৩ কোটি টাকা।
সমস্যা হলো, দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক অনুমোদন পেতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ বছর। এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির জন্য আনুষঙ্গিক সব নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। ফলে ২০১১ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন নতুন করে ব্যয় নির্ধারণ করতে হয়েছে।
দুটি প্রকল্পই ২০০৬ সালে বাস্তবায়ন শুরু হলে ব্যয় বর্তমানের অর্ধেকেরও কম হতো। কিন্তু ২০১১ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বড় হচ্ছে। দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নেই ব্যয় বাড়ানো হয়েছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে।
এদিকে গত পাঁচ বছরে এডিপির আকারও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা, পরে সংশোধন করে ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০০১১-১২ অর্থবছরে মূল এডিপির আয়তন ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। গত পাঁচ বছরে এডিপির আকার কমবেশি দ্বিগুণ হয়েছে।
মূলত এডিপির প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার এক ধরনের কেনাকাটা করে। পাঁচ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ করে পূর্ত কাজের মূল উপাদান ইট, বালু, সিমেন্ট, রডসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। বর্তমানে এক ট্রাক ইটের দাম ১৮-২০ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে এক ট্রাক ইটের দাম ছিল ১২-১৩ হাজার টাকা। রডের দাম আলোচ্য সময়ে ওঠানামা করেছে। খুচরা পর্যায়ে এখন ভালোমানের এক টন রডের দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে এর দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। উল্লেখযোগ্য হারে সিমেন্টের দামও বেড়েছে।
অথচ বিভিন্ন আমলের সরকার প্রতিবারই বড় এডিপি করে বাহবা নেয়। মন্ত্রী-এমপিরা চিৎকার করে গলা ফাটান উন্নয়নের জোয়ারে দেশকে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য। আর আমলারা দাবি করেন, ব্যয়ের সক্ষমতা বেড়েছে।
বাস্তবতা হলো, মূল্য সমন্বয়ের জন্যই এডিপির আকার বড় করতে হয়। পাঁচ বছর আগে সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার এডিপিভুক্ত একই প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন করতে ৪৫-৪৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। ঠিকাদারও বর্ধিত মূল্য ধরেই দরপত্র জমা দেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণেও নানা জটিলতা রয়েছে। প্রকল্পের জন্য কোনো এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেই সেখানে জমির দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। এমনকি রাতারাতি কৃষিজমিতে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসতভিটা দেখানো হয়। ভূমি অধিগ্রহণকালে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনেক বেশি অর্থ প্রাক্কলন করতে হয়।
এ সম্পর্কে মূল্যায়ন, পরিবীক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘একটি প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবনা তৈরির সময় ভূমির যে দাম নির্ধারণ করা হয়, অধিগ্রহণকালে তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর অন্যতম উদাহরণ হলো, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প।’
জিডিপি-এডিপি অনুপাত: মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে এডিপির আকার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে না। চলতি মূল্যে হিসাব করে পাঁচ বছর আগে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপির ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশই সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এই অনুপাত ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশে নেমে এসেছিল।
এভাবে সরকারি বিনিয়োগ কম হলে সরকার যে অবকাঠামোগত সুবিধা দেয়, তাও সেভাবে বাড়বে না। অথচ এই অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়েই বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা উৎপাদন বাড়ান, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করে।

Thursday, July 7, 2011

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস

এস এম কৃষ্ণা এস এম কৃষ্ণা
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে অংশীদার হতে চায় ভারত। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকে এ আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন। আর অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে ভারতের পাশাপাশি নেপাল, ভুটানসহ সংশ্লিষ্ট সব দেশকে ট্রানজিট দেওয়ার কথা বলেছেন। এদিকে সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়ও এস এম কৃষ্ণা জানিয়েছেন, তাঁর দেশ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের অংশীদার হতে চায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল দুপুরে ঢাকায় এসেছেন এস এম কৃষ্ণা। তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে বিদ্যুৎ, বিনিয়োগ ও শুল্কবিষয়ক তিনটি চুক্তি সই হতে পারে।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি অধিকতর সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। গতকাল বেলা একটায় ভারতীয় বিমান-বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে এস এম কৃষ্ণাকে অভ্যর্থনা জানান দীপু মনি। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। সন্ধ্যায় তিনি সোনারগাঁও হোটেলে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তাঁর পরিকল্পনা কমিশনের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতের ১০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত ২০টি প্রকল্প ভারতের কাছে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে ১২টি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে। আমরা কথা বলেছি ট্রানজিট নিয়ে। আলোচনায় আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়টিও এসেছে।’
এস এম কৃষ্ণা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁকে জানিয়েছি, ঋণচুক্তির আওতায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’
বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ট্রানজিটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিণত করার যে বিষয়টি তোলেন, তাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত পোষণ করেন। বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপের অনুরোধ জানানো হলে তাতেও ইতিবাচক সাড়া দেয় ভারত। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব খাতে বিনিয়োগ করলে অসম বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে সহায়ক হয়, সেই ক্ষেত্রগুলোতে যেন ভারত বিনিয়োগ করে। বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশ শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করতে ভারতকে অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি ভারতের বাজারে আরও বেশি পরিমাণে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুরোধে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিত্তার ও দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক এ করিম উপস্থিত ছিলেন।
আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: পররাষ্ট্র মন্ত্র্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ সকাল ১০টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করবেন। এক ঘণ্টার আলোচনায় ২০১০ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দিল্লি শীর্ষ বৈঠকের যৌথ ঘোষণা পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত চিহ্নিতকরণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, শিক্ষাসহ দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য বিষয়।
সেপ্টেম্বরে দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকে সইয়ের জন্য বেশ কিছু চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল চূড়ান্ত করতে দুই দেশের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এসব চুক্তির মধ্যে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন এবং ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি হস্তান্তর ও সীমানা চিহ্নিতকরণ। এ ছাড়া সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হচ্ছে ট্রানজিটের আওতায় চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার, সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার, যৌথ বিনিয়োগে খুলনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, ভারতে বাংলাদেশের ৬১ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সুন্দরবনের বাঘ সুরক্ষাসংক্রান্ত চুক্তি ও প্রটোকল।
জানা গেছে, আজকের বৈঠকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শুল্ক বন্দরসংক্রান্ত তিনটি চুক্তি ও প্রটোকল সই হতে পারে।
বিমানবন্দরে: ঢাকা নেমেই এস এম কৃষ্ণা বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এ সফরে আসতে পেরে তিনি বেশ সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও গভীর অংশীদারি চায়।
কৃষ্ণা বলেন, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের নেতৃত্ব বেশ কয়েকটি নতুন ও ভবিষ্যৎমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে উষ্ণতম সময় পার করছে।
দীপু মনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছি।’
সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় সম্পাদকদের বলেছেন, তাঁর এ সফর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতির অংশ। তিনি জানান, ঢাকায় আসার আগে গত মঙ্গলবার তিনি মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও সহমর্মিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। কারণ, অনেক বিষয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, মতপার্থক্য নেই। এস এম কৃষ্ণা গত বছরের জানুয়ারির পর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
সম্পাদকদের পক্ষ থেকে অভিমত দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের পর দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত যদি দ্রুত বাস্তবায়িত না হয়, তবে মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরির অবকাশ থাকে। এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে কেন? উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০টি প্রকল্প তৈরি করেছে। এর মধ্যে দুই দেশের সম্মতিতে ১২টি অনুমোদিত হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আমলাতন্ত্র বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে এস এম কৃষ্ণা বলেন, যেটাই হোক না কেন, ভারতের নেতৃত্ব বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে বদ্ধপরিকর। দিল্লি শীর্ষ বৈঠকের পর অনেক কাজ হয়েছে। কারিগরি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব কাজ হচ্ছে, তা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগে।
শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে এস এম কৃষ্ণা বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত শান্তিপূর্ণ রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। ইদানীং সীমান্তের পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি আমরা আরও উন্নত করতে চাই।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন মাহবুবুল আলম, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মাহফুজ আনাম, গোলাম সারওয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন, আবেদ খান, মতিউর রহমান চৌধুরী ও মতিউর রহমান।

Tuesday, July 5, 2011

 কালো টাকা শেয়ারবাজারে দুই বছর রাখতে হবে



১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে বিনিয়োগকৃত কালো টাকা শেয়ারবাজারে কমপক্ষে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত রাখতে হবে। এ দুই বছরের আগে শেয়ারবাজার থেকে এই অর্থ তুলে নেওয়া যাবে না। আজ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বৈধ টাকা প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করলেই শুধু ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত পাওয়া যাবে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে ২৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানানো হয়।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ জানান, সরকারি যেকোনো সংস্থা কালো টাকা সাদাকারীদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে আইন অনুযায়ী তা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Monday, July 4, 2011

'রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ হবে বাণিজ্যমন্ত্রীর বড় চ্যালেঞ্জ'

ঢাকা, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রমজানে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না থাকলে তার দায়ভার বাণিজ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "সামনে রোজার মাস, এটি বাণিজ্যমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এর দায়ভার তাকেই নিতে হবে।"

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে 'ভরাডুবি' আওয়ামী লীগের জন্য একটি সতর্ক সংকেত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু পুনরুজ্জীবীত করার আর সুযোগ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে গণতন্ত্রকে আর সমুন্নত করা যাবে না।"

তত্ত্বাবধায়ক রাখার দাবি বাদ দিয়ে আাগামীতে কীভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়- সে বিষয়ে আলোচনায় আসতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, সংবিধান এখন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালও ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট।
এ প্রসঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বলেন, "৪৮ ঘণ্টা, ৭২ ঘণ্টা হরতালে কোনো লাভ নেই, এতে জনগণ বিরক্ত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে সবাইকেই জনগণের মুখোমুখি হতে হবে।"

'হরতাল ও অযৌক্তিক কর্মসূচি দিয়ে তারেক, কোকো ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টার' প্রতিবাদে ঠিকানা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আওয়মী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া আলোচনায় অংশ নেন।

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআইএম/আরএম/আরএ/জেকে/১৭১৩ ঘ.

Monday, June 27, 2011

পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে ডিএসই ও সিএসই



পুঁজিবাজারের বর্তমান তারল্যসংকট দূর করতে বন্ডের পাশাপাশি অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে আবারও মত দিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতিরা। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা এই মত দেন।
রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ, ডিআরইউর সভাপতি মোস্তাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পুঁজিবাজারের বর্তমান তারল্যসংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে তারল্যসংকট রয়েছে। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বন্ডের পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন।’
শাকিল রিজভী বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বন্ডে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে এটা ঠিক। তবে প্রতিবছর বিনিয়োগকারীকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ মুনাফা ফেরত দিতে হবে। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে সরকারকে কোনো মুনাফা ফেরত দিতে হবে না।
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদও অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পক্ষে মত দেন। তবে বাজার যাতে আবার অতি মূল্যায়িত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানোর পক্ষে মত দেন তিনি।
২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার কী ভূমিকা রাখতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর সভাপতি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করি এবং সরকার যদি শেয়ারবাজারকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।’
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আমাদের একটি লক্ষ্য স্থির করতে হবে। সরকারের একটি নির্দিষ্ট পলিসি থাকতে হবে, যা কমপক্ষে পাঁচ মেয়াদি হতে হবে। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাতে না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের আমলে পুঁজিবাজারে ধস নামে কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিল রিজভী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারেও এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তো আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নেই।’ তিনি বলেন, উত্থানপতন শেয়ারবাজারের ধর্ম। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে বাড়তে বাজার অতি মূল্যায়িত হয় এবং একপর্যায়ে এ ধরনের ধসের সৃষ্টি হয়। এটা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দোষ নয়। এ ছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জই প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপমুক্ত বলে জানান দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএসই ও সিএসই সভাপতিরা বলেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে বাজারে ভীতি ছড়ানো ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন তাঁরা।

Monday, June 20, 2011

পুঁজিবাজার শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী


দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে চলছে। আজ মঙ্গলবার প্রথম আধঘণ্টা শেষে ডিএসইতে সূচক বেড়েছে ১১৪ পয়েন্ট। সঙ্গে লেনদেন হওয়া প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ১১৪.৯১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৮১০.৬৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ সময়ে লেনদেন হওয়া ২০৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২০৪টির, কমেছে দুটির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের দাম এবং মোট ৯০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
লেনদেনের ১০ মিনিটের দিকে সূচক ১২১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সূচক বাড়ার হার কিছুটা কমে। ১৮ মিনিটের দিকে সূচক বাড়ে ১০১ পয়েন্ট। ২০ মিনিটের পর সূচক আবার বাড়তে থাকে। লেনদেনের প্রথম আধঘণ্টা শেষে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এ সময়ে লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—ইউসিবিএল, বেক্সিমকো, লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স, আফতাব অটো, পূবালী ব্যাংক, এম আই সিমেন্ট, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ইবিএল, এবি ব্যাংক ও পিএলএফএসএল।

৩৪ কোটি টাকায় বিক্রি মনরোর পোশাক



undefined
মেরিলিন মনরো
‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিতে ব্যবহূত মেরিলিন মনরোর আলোচিত সেই পোশাক বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যেনতেন মূল্যে নয়। মেরিলিন মনরোর আলোচিত সেই পোশাক বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকায়। সম্প্রতি হলিউডের পোশাক বিক্রির এক নিলামে চলচ্চিত্র ইতিহাসের সুপরিচিত এই পোশাকটি বিক্রি হয়।
১৯৫৫ সালের ৩ জুন মুক্তি পাওয়া ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিটি পরিচালনা করেন বিলি ওয়াইল্ডার। হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল ছবিগুলোর একটি ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’। প্রায় ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ছবিটি সে সময়ই প্রায় ৮৮ কোটি টাকা আয় করে নেয়।
এর আগে ‘জেন্টেলম্যান প্রেপার ব্লন্ডি’ ছবিতে ব্যবহূত মেরিলিন মনরোর লাল রঙের একটি পোশাক বিক্রি হয়েছিল প্রায় আট কোটি টাকায়। ওয়েবসাইট।

আল-কায়েদার অর্থ সংগ্রহের জন্য অপহরণ!

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পাকিস্তানে এর সহযোগী সংগঠনগুলো অপহরণের দিকে ঝুঁকছে। আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে হত্যা করার সময় সেখান থেকে উদ্ধার করা নথি থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য পেয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সংগঠনের অর্থের প্রয়োজনে বিকল্প উৎস খুঁজতে অপহরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে আল-কায়েদার সহযোগী কয়েকটি গোষ্ঠী। আর কোন কোন অপরাধে এ গোষ্ঠী বা সংগঠনগুলো জড়িয়েছে, তাঁরা তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে জানান, অপহরণের লক্ষ্য ছিল কূটনীতিক, পর্যটক ও বড় ব্যবসায়ীরা।
কর্মকর্তারা জানান, অর্থ সংগ্রহের জন্য অপহরণের বিষয়ে জানতেন ওসামা বিন লাদেন। এতে তাঁর আগ্রহও ছিল। এমন তথ্য-প্রমাণও রয়েছে, অ্যাবোটাবাদে উঁচু দেয়াল ঘেরা ওই বাড়িতে থাকলেও অর্থ সংগ্রহের বিষয় তাঁর নজরদারিতে ছিল।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্র, রাজস্ব বিভাগ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ও সেনা বিশেষজ্ঞরা অ্যাবোটাবাদে উদ্ধার করা নথি থেকে আরও বেশি জানার চেষ্টা করছেন। আল-কায়েদার অর্থের উৎস ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অর্থ সংগ্রহের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা-ও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, নথি থেকে আল-কায়েদার বড় বড় দাতা, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সম্পদশালী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হবেন।
রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা ডেভিড কোহেন বলেন, আল-কায়েদার অর্থ সরবরাহ বন্ধে সংগঠনটির দাতা, অর্থ সংগ্রহকারী ও এর সঙ্গে জড়িতদের গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আল-কায়েদার সমর্থকেরা অবাক হবেন, যদি তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।
ওসামার নথি থেকে পাওয়া নামের তালিকা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। জিনিউজ।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More