Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label Money. Show all posts
Showing posts with label Money. Show all posts

Tuesday, July 12, 2011

সবজিবাজারে আগুন

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সত্যিই যে আগুন লেগেছে: তরিতরকারি ও শাকসবজির দাম এতটাই বেড়েছে যে নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। প্রথম আলোয় রোববার প্রকাশিত এক সরেজমিন প্রতিবেদন বলছে, কোনো কোনো সবজির দাম গত এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি বেড়েছে কুড়ি টাকা পর্যন্ত। এক কেজিতেই কুড়ি টাকা দাম বাড়লে বাজার ঠিক কী নিয়মে চলছে, এই প্রশ্নে দিশেহারা হতে হয়।
আলু, পটোল, বেগুন, করলা, কাঁকরোল, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, টমেটো, পেঁয়াজ, শসা, গাজর, কাঁচামরিচ—এমন কোনো সবজি নেই, যার দাম বাড়েনি। সবজিভেদে দাম বৃদ্ধির পরিমাণ কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে কুড়ি টাকা পর্যন্ত। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই মূল্যবৃদ্ধি ভীষণ অস্বাভাবিক। তবে নিশ্চয়ই রহস্যময় নয়। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির খুচরা ব্যবসায়ীদের মুখে দাম বাড়ার ব্যাখ্যাগুলো এ রকম: (এক) কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খেতের সবজি নষ্ট হয়েছে, অর্থাৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে; (দুই) বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালে পরিবহনব্যবস্থা বন্ধ ছিল, ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় সবজি আসতে পারেনি; (৩) এরই মধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছিল, কিন্তু মজুদ অবস্থায় পচে নষ্ট হয়েছে অনেক সবজি। অর্থাৎ, চাহিদা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু উৎপাদন সরবরাহ কমে গেছে, ব্যাহত হয়েছে ভীষণভাবে। এ রকম অবস্থায় যা ঘটে, ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে ঠিক তা-ই ঘটেছে।
টানা বৃষ্টি ও টানা হরতাল—উভয় কারণই বোধগম্য বটে। কিন্তু তার মানে কি এই যে করলার মতো সবজির দাম এক সপ্তাহে এক কেজিতে কুড়ি টাকা বেড়ে যাবে? মূল্যবৃদ্ধির এই অস্বাভাবিক উচ্চহার নিয়েই প্রশ্ন, বৃদ্ধির প্রকৃত হার কত, আর বৃষ্টি-হরতালের অজুহাত দেখিয়ে বাড়ানো হয়েছে কত? অভিন্ন কারণে যদি দাম বেড়ে থাকে, তাহলে এই রাজধানীতেই একেকটি কাঁচাবাজারে একই সবজির দামের হেরফের এত বেশি কেন? খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা উচিত।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা সবজি সংগ্রহের সময় সংঘবদ্ধভাবে কৃষকদের ঠকান, কৃষকেরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। আবার রাজধানীর খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এসে সবজির দাম এতটাই বেড়ে যায় যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের কষ্ট হয়। উৎপাদক থেকে ভোক্তার মাঝখানে কৃষিপণ্যের দামের এই বিরাট ব্যবধান—এটা কী উপায়ে ঘটছে, সরকারের তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকারের আদৌ কোনো দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না। কৃষকদের তরফ থেকে ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার নিরন্তর অভিযোগ, অন্যদিকে ভোক্তাদের দিক থেকে খাদ্যদ্রব্যের দাম ক্রমাগত বাড়ার অভিযোগের মাঝখানে যে মধ্যস্বত্বভোগীরা অনৈতিক পন্থায় অতিরিক্ত মুনাফা করছে, তাদের দমন করা দরকার।

ছয় বছরে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় দ্বিগুণ

দেশে পণ্য রপ্তানি আয় ছয় বছরের মাথায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এতে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৯২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। আর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে রপ্তানি আয়ের মোট পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫২ কোটি ৬২ লাখ ডলার।
আবার গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আয় তার আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ৪১ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬২০ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকেও উল্লেখযোগ্য হারে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য যেখানে বার্ষিক রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সেখানে প্রকৃত রপ্তানি আয় তার চেয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি হয়েছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, আলোচ্য বছর রপ্তানি আয়ের শীর্ষে আছে নিট পোশাক রপ্তানি। এ সময় নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা তার আগের বছরের চেয়ে ৪৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এ আয় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) অন্যতম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, বিগত বিশ্বমন্দার সময় বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকেরা অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দিয়ে হলেও নিয়মিত ক্রেতাদের ধরে রেখেছিলেন। মন্দা কাটিয়ে উন্নত বিশ্বে চাহিদা জোরদার হওয়ায় ক্রেতারা তাই বড় আকারে কার্যাদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চীনের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হওয়ায় সেখানে শ্রমের মজুরি বেড়েছে। ফলে চীন থেকেও কিছু কার্যাদেশ বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হয়েছে।
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘রপ্তানির এই গতিময়তা ধরে রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই জরুরি। তাই সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যেন হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়া থেকে বিরত থাকে।’
বিকেএমইএর সহসভাপতি এও বলেন, সরকারের কাছে তাঁদের প্রধান দাবি গ্যাস-বিদ্যুৎ তথা জ্বালানি সমস্যার উত্তরণ ঘটানো। না হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে আর রপ্তানির গতিময়তা ধরে রাখা যাবে না।
রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় স্থানে আছে ওভেন পোশাক। ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৪৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার, যা তার আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ২৭ শতাংশ বেশি।
পাট ও পাটজাত পণ্য দেশের রপ্তানি আয়ের তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। আলোচ্য বছর পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১১১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৪১ শতাংশ বেশি। তবে মোট আয় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১১১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার থেকে সামান্য নিচে রয়েছে।
পাট ও পাটজাত পণ্যের মধ্যে কাঁচা পাট রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, পাট-সুতা ও টোয়াইন থেকে ৫০ কোটি ডলার এবং পাটের থলে-ছালা থেকে ২০ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।
এ ছাড়া ১০ কোটি ডলারের ওপরে কিন্তু ১০০ কোটি ডলারের নিচে রপ্তানি আয়—এমন পণ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হোম টেক্সটাইল (৭৮ কোটি ৮৭ লাখ ডলার), হিমায়িত খাদ্য (৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার) এবং পাদুকাসামগ্রী ও চামড়া (উভয়ই ২৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলার)।

Sunday, July 10, 2011

ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী

Details
বাজারে ডলার সংকটে ডলারের দাম অস্থির হয়ে উঠছে। হঠাত্ করেই খোলা বাজারে চড়ে গেছে ডলারের দাম। বাজারে ডলারের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত সরবরাহ না করায় ডলার সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি দামও অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাস্ফীতি ও কার্যকারিতা হারাবে। তবে বাজারে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকিং সূত্র জানায়, গেল সপ্তাহে ৭৪ টাকা ৫৬ পয়সা পর্যন্ত ডলারের দাম উঠে। তবে ব্যাংক ও গ্রাহকভেদে এর কিছুটা হেরফের হয়েছে। ডলারের দাম বাড়তে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলিফোনে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করলেও কখনো কখনো নিষ্ক্রীয় ভূমিকা পালন করে।
সূত্র জানায়, ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ার ফলে কার্ব মার্কেটেও ডলারের দাম বেড়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৭৮ টাকা পর্যন্ত কার্ব মার্কেটে ডলারের লেনদেন হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ৭১ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ডলারের কেনাবেচা হয়। ডিসেম্বরেও ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ছিল কমবেশি ৭০ টাকা। এ সময়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭২ টাকা। ডলারের এ মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে তারল্য সংকটের মতই ডলার সংকট রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ডলার বাজারে সরবরাহ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হচ্ছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতেও ডলারের জমা রাখা জরুরী। ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনাও কিনেছে। ফলে, অফিসিয়াল চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ কিছুটা কম। এদিকে, রেমিটেন্স প্রবাহ আগামী দিনগুলোতে কমে আসার আশংকাও করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মসুযোগ নষ্ট হওয়ায় এ আশংকা করা হচ্ছে। আবার ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেও কেউ কেউ ডলারে বিনিয়োগ করেছে এমনটিও বলেছে কোন কোন সূত্র।
স্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদামত ডলার না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে তৃতীয় মুদ্রায় এলসি খুলতে হচ্ছে। থার্ড কারেন্সি (ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা পাউন্ড) কিনতেও বেশি দাম দিতে হয়। তাতে গড়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়।
বিশ্বব্যাপী ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে ডলারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে অনেকেই নেতিবাচক দিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেশি হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ভাসমান মুদ্রা বিনিময় হার চালু করলেও এখনো ডলারের মান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। রেমিটেন্স ও রফতানিতে উত্সাহ যোগাতে অনেকটা পরিকল্পিতভাবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমিয়ে রাখা হচ্ছে। যা আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন করতো। এখন সেটি অঘোষিতভাবেই করা হচ্ছে। প্রকৃত বিনিময় হার কার্যকর করা হলে টাকার মান বৃদ্ধি পেত। টাকার বিপরীতে ডলার দুর্বল হত। তাতে আমদানি পণ্যের দামও কম হতো।
ফিনান্সিয়াল ইকনোমিস্ট ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, এখন যেহেতু ডলার ছাড়াও অন্য মুদ্রায় আমদানি ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে, তাই ডলারের বাড়তি দাম ধরে রাখার কোন যুক্তি নেই। বরং টাকা ও ডলারের মূল্যমান প্রকৃত বাজারভিত্তিক করে দেয়াই উত্তম।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০৩ সালে মুদ্রার ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট বা ভাসমান বিনিময় হার বা বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে এটি করা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশংকা করছে, কার্যকর বিনিময় হার চালু থাকলে ডলারের দাম ৪/৫ টাকা কমে আসবে। কিন্তুু বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতির কারণে ডলারের বাড়তি দাম অব্যাহত থাকলে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়ে যাবে। তাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিও কার্যকারিতা হারাবে।

 নতুন-পুরোনো বরাদ্দের চক্রে এডিপি

রেলওয়ে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হতে পারে এডিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত রেলওয়ে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হতে পারে এডিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে নানা ধরনের ফাঁকফোকর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বছর বছর এডিপির আকার বাড়ানো হয়। বড় আকারের এডিপি গ্রহণ করে ক্ষমতাসীনেরা বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়ছে। আর আমলারা বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেড়েছে।
আবার প্রতিবছর রাজনৈতিক বিবেচনায় বছরের শেষদিকে নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে পরবর্তী বছরের এডিপিতে নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ দিতে হিমশিম খেতে হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ কমে আসে।
আবার বরাদ্দ কম দিয়ে নতুন প্রকল্প নিতে হয় বিভিন্ন পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে। এতে করে চলমান পুরোনো প্রকল্পেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া যায় না। ফলে বছর শেষে সমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা কমে যায়, মেয়াদ বাড়িয়ে আবারও বরাদ্দ দেওয়া সেসব প্রকল্পে। এভাবে প্রকল্প চলে বছরের বছরের পর। এক ধরনের চক্রের মধ্যে পড়ে যায় পুরো এডিপি ব্যবস্থাপনা।
এ নিয়ে সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের সভায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সদ্য বিদায়ী ২০১০-১১ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার কমিয়ে ৩৫ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু বছরের মাঝখানে নতুন প্রকল্প ঢুকেছে ২৭০টি। আর এসব নতুন প্রকল্প পুরোনো চলমান প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৪৬ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা ১০৩৯। এর মধ্যে ‘নতুন’ প্রকল্প মাত্র ৭৭টি।
এভাবে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করাকে ‘চালাকি’ ও ‘অর্থের অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পরিচালক জায়েদ বখত। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রকল্পগুলো মূলত মন্ত্রী-এমপিদের চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়। বছরের শেষদিকে এসে নেওয়া এসব প্রকল্পে তাড়াহুড়া করে অর্থ খরচ করতে গিয়ে কাজের গুণগত মান থাকে না, এটা অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।’
এভাবে বছরের পর বছর নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার ফলে সমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা তুলনামূলক কমছে। এসব ‘নতুন’ প্রকল্পে প্রতিবছর বরাদ্দ দিতে গিয়ে পুরোনো প্রকল্প সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না। মেয়াদ বাড়িয়ে পুরোনো প্রকল্পগুলোতে আবার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের একটি চক্রের মধ্যে পড়েছে এডিপি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।
আবার ঢাউস আকারের এডিপির বাস্তবতা হলো, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে মূল্য সমন্বয়। এই মূল্য সমন্বয় করতে গিয়ে প্রকল্প ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তাতে গুণগত কোনো পরিবর্তন হয় না।
এডিপির এই বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জায়েদ বখত প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূল্য সংশোধনের বা সমন্বয়ের কারণে এডিপির আকার বাড়ে এটা সত্য। তবে প্রকৃত মূল্যেও এডিপির আকার বাড়ছে। এখানে সমস্যা হলো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় এডিপির আকার কমে এসেছে। এর মানে হলো, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে। আর সরকারি ব্যয় কম হলে বেসরকারি বিনিয়োগও তুলনামূলক কম আকৃষ্ট হবে।’
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরের ২৯ মে পর্যন্ত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে যেসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা চলতি অর্থবছরের এডিপির জন্য ৬৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থসংকটে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে জানান, প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ফলে স্বভাবতই প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে।
ব্যয় বৃদ্ধির নমুনা: টঙ্গী থেকে ভৈরববাজার পর্যন্ত ডবল রেলপথ নির্মাণে খরচ করা হবে দুই হাজার ৩৭ কোটি টাকা। আর ২০০৬ সালে একই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৭২০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে।
নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শুরু করতে না পারায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। গত ২০ জুন ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্প আবারও অনুমোদন দেওয়া হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)।
অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পরিকল্পনাসচিব মনজুর হোসেন বলেছেন, ‘যখন প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়, তখন জিনিসপত্রের দাম অনেক কম ছিল। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগেছে। ততক্ষণে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়েছে। জমি অধিগ্রহণেও আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হবে।’ প্রকল্পটির মেয়াদকাল বাড়িয়ে ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।
এমন আরেকটি প্রকল্প হলো খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান নির্মাণ প্রকল্প। গত ২২ মার্চ একনেকে এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে যখন প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন করা হয়, তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮০৩ কোটি টাকা।
সমস্যা হলো, দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক অনুমোদন পেতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ বছর। এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির জন্য আনুষঙ্গিক সব নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। ফলে ২০১১ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন নতুন করে ব্যয় নির্ধারণ করতে হয়েছে।
দুটি প্রকল্পই ২০০৬ সালে বাস্তবায়ন শুরু হলে ব্যয় বর্তমানের অর্ধেকেরও কম হতো। কিন্তু ২০১১ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বড় হচ্ছে। দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নেই ব্যয় বাড়ানো হয়েছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে।
এদিকে গত পাঁচ বছরে এডিপির আকারও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা, পরে সংশোধন করে ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০০১১-১২ অর্থবছরে মূল এডিপির আয়তন ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। গত পাঁচ বছরে এডিপির আকার কমবেশি দ্বিগুণ হয়েছে।
মূলত এডিপির প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার এক ধরনের কেনাকাটা করে। পাঁচ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ করে পূর্ত কাজের মূল উপাদান ইট, বালু, সিমেন্ট, রডসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। বর্তমানে এক ট্রাক ইটের দাম ১৮-২০ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে এক ট্রাক ইটের দাম ছিল ১২-১৩ হাজার টাকা। রডের দাম আলোচ্য সময়ে ওঠানামা করেছে। খুচরা পর্যায়ে এখন ভালোমানের এক টন রডের দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে এর দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। উল্লেখযোগ্য হারে সিমেন্টের দামও বেড়েছে।
অথচ বিভিন্ন আমলের সরকার প্রতিবারই বড় এডিপি করে বাহবা নেয়। মন্ত্রী-এমপিরা চিৎকার করে গলা ফাটান উন্নয়নের জোয়ারে দেশকে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য। আর আমলারা দাবি করেন, ব্যয়ের সক্ষমতা বেড়েছে।
বাস্তবতা হলো, মূল্য সমন্বয়ের জন্যই এডিপির আকার বড় করতে হয়। পাঁচ বছর আগে সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার এডিপিভুক্ত একই প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন করতে ৪৫-৪৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। ঠিকাদারও বর্ধিত মূল্য ধরেই দরপত্র জমা দেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণেও নানা জটিলতা রয়েছে। প্রকল্পের জন্য কোনো এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেই সেখানে জমির দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। এমনকি রাতারাতি কৃষিজমিতে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসতভিটা দেখানো হয়। ভূমি অধিগ্রহণকালে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনেক বেশি অর্থ প্রাক্কলন করতে হয়।
এ সম্পর্কে মূল্যায়ন, পরিবীক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘একটি প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবনা তৈরির সময় ভূমির যে দাম নির্ধারণ করা হয়, অধিগ্রহণকালে তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর অন্যতম উদাহরণ হলো, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প।’
জিডিপি-এডিপি অনুপাত: মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে এডিপির আকার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে না। চলতি মূল্যে হিসাব করে পাঁচ বছর আগে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপির ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশই সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এই অনুপাত ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশে নেমে এসেছিল।
এভাবে সরকারি বিনিয়োগ কম হলে সরকার যে অবকাঠামোগত সুবিধা দেয়, তাও সেভাবে বাড়বে না। অথচ এই অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়েই বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা উৎপাদন বাড়ান, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করে।

Thursday, July 7, 2011

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস

এস এম কৃষ্ণা এস এম কৃষ্ণা
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে অংশীদার হতে চায় ভারত। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকে এ আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন। আর অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে ভারতের পাশাপাশি নেপাল, ভুটানসহ সংশ্লিষ্ট সব দেশকে ট্রানজিট দেওয়ার কথা বলেছেন। এদিকে সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়ও এস এম কৃষ্ণা জানিয়েছেন, তাঁর দেশ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের অংশীদার হতে চায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল দুপুরে ঢাকায় এসেছেন এস এম কৃষ্ণা। তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে বিদ্যুৎ, বিনিয়োগ ও শুল্কবিষয়ক তিনটি চুক্তি সই হতে পারে।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি অধিকতর সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। গতকাল বেলা একটায় ভারতীয় বিমান-বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে এস এম কৃষ্ণাকে অভ্যর্থনা জানান দীপু মনি। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। সন্ধ্যায় তিনি সোনারগাঁও হোটেলে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তাঁর পরিকল্পনা কমিশনের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতের ১০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত ২০টি প্রকল্প ভারতের কাছে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে ১২টি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে। আমরা কথা বলেছি ট্রানজিট নিয়ে। আলোচনায় আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়টিও এসেছে।’
এস এম কৃষ্ণা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁকে জানিয়েছি, ঋণচুক্তির আওতায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’
বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ট্রানজিটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিণত করার যে বিষয়টি তোলেন, তাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত পোষণ করেন। বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপের অনুরোধ জানানো হলে তাতেও ইতিবাচক সাড়া দেয় ভারত। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব খাতে বিনিয়োগ করলে অসম বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে সহায়ক হয়, সেই ক্ষেত্রগুলোতে যেন ভারত বিনিয়োগ করে। বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশ শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করতে ভারতকে অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি ভারতের বাজারে আরও বেশি পরিমাণে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুরোধে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিত্তার ও দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক এ করিম উপস্থিত ছিলেন।
আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: পররাষ্ট্র মন্ত্র্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ সকাল ১০টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করবেন। এক ঘণ্টার আলোচনায় ২০১০ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দিল্লি শীর্ষ বৈঠকের যৌথ ঘোষণা পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত চিহ্নিতকরণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, শিক্ষাসহ দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য বিষয়।
সেপ্টেম্বরে দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকে সইয়ের জন্য বেশ কিছু চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল চূড়ান্ত করতে দুই দেশের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এসব চুক্তির মধ্যে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন এবং ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি হস্তান্তর ও সীমানা চিহ্নিতকরণ। এ ছাড়া সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হচ্ছে ট্রানজিটের আওতায় চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার, সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার, যৌথ বিনিয়োগে খুলনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, ভারতে বাংলাদেশের ৬১ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সুন্দরবনের বাঘ সুরক্ষাসংক্রান্ত চুক্তি ও প্রটোকল।
জানা গেছে, আজকের বৈঠকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শুল্ক বন্দরসংক্রান্ত তিনটি চুক্তি ও প্রটোকল সই হতে পারে।
বিমানবন্দরে: ঢাকা নেমেই এস এম কৃষ্ণা বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এ সফরে আসতে পেরে তিনি বেশ সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও গভীর অংশীদারি চায়।
কৃষ্ণা বলেন, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের নেতৃত্ব বেশ কয়েকটি নতুন ও ভবিষ্যৎমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে উষ্ণতম সময় পার করছে।
দীপু মনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছি।’
সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় সম্পাদকদের বলেছেন, তাঁর এ সফর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতির অংশ। তিনি জানান, ঢাকায় আসার আগে গত মঙ্গলবার তিনি মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও সহমর্মিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। কারণ, অনেক বিষয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, মতপার্থক্য নেই। এস এম কৃষ্ণা গত বছরের জানুয়ারির পর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
সম্পাদকদের পক্ষ থেকে অভিমত দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের পর দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত যদি দ্রুত বাস্তবায়িত না হয়, তবে মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরির অবকাশ থাকে। এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে কেন? উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০টি প্রকল্প তৈরি করেছে। এর মধ্যে দুই দেশের সম্মতিতে ১২টি অনুমোদিত হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আমলাতন্ত্র বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে এস এম কৃষ্ণা বলেন, যেটাই হোক না কেন, ভারতের নেতৃত্ব বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে বদ্ধপরিকর। দিল্লি শীর্ষ বৈঠকের পর অনেক কাজ হয়েছে। কারিগরি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব কাজ হচ্ছে, তা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগে।
শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে এস এম কৃষ্ণা বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত শান্তিপূর্ণ রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। ইদানীং সীমান্তের পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি আমরা আরও উন্নত করতে চাই।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন মাহবুবুল আলম, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মাহফুজ আনাম, গোলাম সারওয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন, আবেদ খান, মতিউর রহমান চৌধুরী ও মতিউর রহমান।

Wednesday, July 6, 2011

২০১৩ সালের জুনের আগে তোলা যাবে না


সদ্য সমাপ্ত ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৭৮ হাজার ৬৯১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। এটি আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।
শুধু তা-ই নয়, বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে বাড়িয়ে ৭৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন হাজার ৯১ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এটি এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ সময় আরও জানানো হয়, শেয়ারবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগ করলে ২০১৩ সালের জুন মাসের আগে তোলা যাবে না। ১০ শতাংশ কর দিয়ে টাকা সাদা করে আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে, মুনাফাও তোলা যাবে, কিন্তু সমপরিমাণ টাকা সব সময় বেনিফিশিয়ারি ওনার্সে (বিও) রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) জাহান আরা সিদ্দিকী, সদস্য (কাস্টমস প্রশাসন) ফরিদ উদ্দিন, সদস্য (কর প্রশাসন) বশিরউদ্দিন আহমেদ, প্রথম সচিব অপূর্বকান্তি দাস প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি ১ জুলাই থেকে শেয়ারবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুবিধা কার্যকর হয়েছে। ২০১২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যে কেউ এনবিআরের একটি নির্দিষ্ট ছক পূরণ করে এই সুবিধা নিতে পারবে। মেয়াদ শেষে ওই ব্যক্তি প্রদত্ত বার্ষিক আয়কর বিবরণী মিলিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া কেউ যাতে কালোটাকা বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্থ তুলে নিতে না পারে সেদিকে নজর রাখবে এনবিআর। শর্ত ভঙ্গ করলে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এতে আরও জানানো হয়, শেয়ারবাজারে বৈধ অর্থ বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ কর রেয়াত পাবেন। শুধু প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করলেই কর রেয়াত সুবিধা মিলবে। সেকেন্ডারি মার্কেটে বা দ্বিতীয় স্তরের বাজারে বিনিয়োগ করা হলে এই সুবিধা দেওয়া হবে না। 
এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো কোনো সরকারি সংস্থা কালোটাকা সাদাকারীদের সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যমান আইনানুযায়ী তা দেওয়া হবে।’ প্রসঙ্গত, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকারি সংস্থা কোনো করদাতার তথ্য জানতে চাইলে এনবিআর তা দিতে বাধ্য।
জানা গেছে, এখনো কালোটাকা সাদা করা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেনি এনবিআর। ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং হয়ে গেছে। বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপন ছাপানোর জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি: সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিদায়ী অর্থবছরে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ খাতে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) মিলিয়ে আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৮৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একই সময়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। আর প্রবৃদ্ধির হার ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই খাতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৮৫১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
স্থানীয় পর্যায়ে মূসক, সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার ট্যাক্সসহ মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৬০২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। আর প্রবৃদ্ধির হার ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরের এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক আদায় হয়েছিল ২১ হাজার ৭৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
এদিকে ২০১০-১১ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ করসহ মোট প্রত্যক্ষ কর আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে আয়কর আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আয়করে প্রবৃদ্ধি ৩৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছিল ১৭ হাজার ৪২ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্পর্কে নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, মূলত এটা এনবিআরের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভালো কাজ করেছেন। এনবিআর থেকেও রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ নজরদারি ছিল। রাজস্ব আদায়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরে ৯১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটীয় পদক্ষেপ দিয়ে এর বড় অংশ আদায় করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া করদাতাদের কর প্রদানে সচেতনতা বাড়াতে আয়কর ও মূসক মেলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমেও রাজস্ব আদায় বাড়বে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটা সম্ভব—এমন প্রশ্নের উত্তরে এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, ‘আশা করি রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাবে। এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে বলে আশা করি। সবক্ষেত্রেই ঝুঁকি রয়েছে। এনবিআর এ ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।’
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি-ব্যবস্থা সম্পর্কে ফরিদ উদ্দিন জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার মডেল অনুসরণ করে রাজস্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সরকারের বাড়তি অর্থ খরচ হবে না। এই নিষ্পত্তি ব্যবস্থার আওতায় পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করা হবে। এতে করদাতা ও কর আদায়কারীর মধ্যে দূরত্ব কমে যাবে।

Monday, June 27, 2011

ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ


জাপানি অধ্যাপক আজুমার সঙ্গে দারাদ আহমেদ (বাঁয়ে)
ফাইল ছবি
‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করার নামে জাপানি এক অধ্যাপকের কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এক বাংলাদেশি। রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশপ্রেমী ওই জাপানি অধ্যাপক প্রতারণার এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার নামে প্রতারণা করেছেন দারাদ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি। নিজেকে তিনি রবীন্দ্রগবেষক ও বিশ্বভারতীর ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায়।
জাপানের প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক কাযুও আজুমা জাপানে রবীন্দ্রগবেষক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। নিজের একক প্রচেষ্টায় জাপান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি কলকাতায় ‘ভারত-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করেছেন। বিশ্বভারতীতে ‘নিপ্পন ভবন’ তৈরিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। ভারতের এ দুই প্রতিষ্ঠান জাপান-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজুমার স্ত্রী কেইকো আজুমাও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক।
কেইকো আজুমা কিছুদিন আগে প্রথম আলোর টোকিও কার্যালয়ে চিঠি লিখে প্রতারণার বিষয়টি জানিয়েছেন। কেইকো জানান, ২০০৩ সালে কলকাতা সফরের সময় তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন দারাদ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি। তিনি নিজেকে বিশ্বভারতীর সংগীতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, এর আগে কিছুদিন তিনি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেছেন। দারাদ দাবি করেন, তাঁর মা-ও একজন রবীন্দ্রভক্ত। পেশায় তিনি মস্তিষ্কের শল্যচিকিৎসক (সার্জন) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কাজ করেন। এ কারণেই পেশাগত দায়িত্বে তাঁকে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে হয়।
কেইকো জানান, ভারতের মতো বাংলাদেশেও একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার ইচ্ছা তাঁদের ছিল। দারাদের এসব কথায় আজুমা ও তাঁর মনে হয়েছে, বাংলাদেশে তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হলে এর চেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি তো আর অন্য কেউ হতে পারে না। এদিকে কলকাতা থেকে জাপানে ফেরার পর দারাদ এ বিষয়ে অনেকগুলো চিঠি লেখেন। একপর্যায়ে দারাদের মা-ও চিঠি লিখতে থাকেন।
আজুমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দারাদ ২০০৪ সালে জাপানে চলে আসেন এবং তাঁর চেয়ে ২০ বছরের বড় এক জাপানি রমণীকে বিয়ে করেন। আজুমার পরিবারের সহায়তায় তিনি জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি জোগাড় করেন। একপর্যায়ে দারাদ তাঁকে ‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করার পরামর্শ দেন। দারাদ বলেন, তিনি প্রকল্পের সব দেখভাল করবেন। আজুমাকে শুধু অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।
কেইকো জানান, ‘দারাদ তাঁকে বিষয়টি গোপন রাখার এবং আর কোনো বাংলাদেশিকে এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত না করার অনুরোধ জানান। দারাদ তাঁকে বোঝান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি ঢাকা শহরে নয়, বরং রবীন্দ্রনাথের দেখিয়ে দেওয়া পথ অনুসরণ করে মফস্বলের কোথাও তৈরি করা উচিত। আর তিনি যেহেতু সাইফুর রহমানের (প্রয়াত অর্থমন্ত্রী) নিকটাত্মীয়, ফলে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তাঁর নিজ গ্রাম হবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির সবচেয়ে জুতসই জায়গা।
আজুমা জানান, দেশে ফিরে দারাদ ও তাঁর মা বিরামহীনভাবে অর্থের জন্য তাগিদ দিতে থাকেন। তিনিও টাকা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দারাদ ও তাঁর মা আজুমা দম্পতিকে আমন্ত্রণ জানান মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। সেখানে একটি ইটের ভাটায় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপনের ছবিও তোলেন। এ সময় দারাদ জানান, আরও টাকা পেলে এই কেন্দ্র ভালো করে তৈরি করা যাবে। 
মোট কত টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে জাপানি এই দম্পতি জানান, সব মিলিয়ে জাপানের ৭৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাঁরা ছয় কোটি ৮০ লাখ জাপানি ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা) সংগ্রহ করেন। এর বাইরে দারাদ ও তাঁর মা তাছলিমা খানমের লিখিত আবদারের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আরও অর্থসহ মোট ছয় কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন (প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা) দেওয়া হয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করার জন্য। কিন্তু দারাদ এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
বারবার চিঠি, বারবার টাকা দাবি: তাছলিমা খানম একটি চিঠিতে বলেন, ‘২০০৭ সালের ১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কাজ খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২০০৭ সালের আগস্টে আমরা ভবন উদ্বোধন করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাপানের সব সুযোগ-সুবিধা, লিফট, পার্কিং, বাগান, এয়ারকন্ডিশন, উন্নত বাথরুম থাকছে এখানে। আমরা প্রথম নকশা থেকে আরও বড় করেছি। আমি নিজে এই ভবন তৈরির জন্য তিন হাজার ৫০০ মান (এক মান মানে ১০ হাজার ইয়েন) খরচ করেছি। বর্তমানে আমার চাকরির বেতন দিয়ে চলতে পারছি না বিধায় আপনার সহায়তা কামনা করছি। আর দেড় হাজার ইয়েন হলে আগস্টে ভবনটি উদ্বোধন করা যাবে।’ চিঠিতে বলা হয়, এ বিষয়ে ১০ দিন ধরে বৈঠক হয়। এতে যোগ দেন তপন কুমার দেবনাথ, মুক্তাদির হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, তপন চৌধুরী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, কবির আনোয়ার প্রমুখ।
২০০৯ সালের ২০ আগস্ট আরেক চিঠিতে তাছলিমা লেখেন, ‘ভবনের চতুর্থ তলার কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাকি রইল একতলা। খুব তাড়াতাড়ি কাজ করতে হচ্ছে। আমার চাকরির টাকায় কাজ করাচ্ছি। আপনাকে নিয়ে এই ভবন উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ভবনে খুব দামি পাথর লাগানোর জন্য অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। আরও কিছু টাকা দরকার।’
২০০৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাছলিমা আরেকটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমি আবারও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে ভবন উদ্বোধন করতে চাই। আপনাদের সাহায্য ছাড়া কাজ শেষ করতে পারছি না। খুবই মূল্যবান গ্লাস ও পাথর লাগানোর জন্য খুব বেশি খরচ হচ্ছে। আর মাত্র ৬০০ মান দেবেন। এরপর আর টাকা চাইব না।’
২০১০ সালের ২৮ জুন এক চিঠিতে বলা হয়, ‘দুই দিন আগে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আগামী মাসের ২৫ তারিখে ভবন উদ্বোধন করা হবে। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। টাকা লাগবে। আমি আমার গাড়ি বিক্রি করে দিয়ে ভবনের কাজ করছি। দয়া করে আর মাত্র ৩৬০ মান পাঠাবেন।’
২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর আরেক চিঠিতে বলা হয়, ‘টাকার অভাবে এখনো ভবনে নিরাপত্তা ক্যামেরা ও এয়ারকন্ডিশন লাগাতে পারিনি। সুখবর হলো, ভবন উদ্বোধন করা হলে সরকার টাকা দেবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তাই আপাতত ধার হিসেবে ২০০ মান চাইছি। আগামী মাসে ভবন উদ্বোধন করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী আর আসবেন না। আমিও সরকারি চাকরি থেকে অবসরে চলে যাব। আপনার টাকার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।’
২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভবন উদ্বোধনের একটি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয় আজুমা দম্পতির কাছে। তাতে বলা হয়, ‘২৯ জানুয়ারি জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টারের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা অনুষ্ঠানে গান গাইবেন। নৃত্য পরিবেশন করবেন শামীম আরা নীপা ও শিবলী মহম্মদ। আমন্ত্রণে দারাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার ও তাছলিমা খানম, পরিচালক, জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার।’
যেভাবে প্রতারণা ধরা পড়ে: বারবার টাকা পাঠানোর অনুরোধ করায় টাকা দিয়েছেন এমন কয়েকজন জাপানির মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তাঁরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। তবে আজুমা সন্দেহ করেননি। কিন্তু বারবারই উদ্বোধনের তারিখ পেছানো হয়। একপর্যায়ে দারাদ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তখন আজুমা দম্পতি বুঝতে পারেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার।
বর্তমান অবস্থা: অধ্যাপক কাযুও আজুমা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী। বাংলা ভাষা ও বঙ্গভাষীদের কল্যাণে আজীবন নিজেকে নিবেদিত রেখে জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে তাঁকে এভাবে যে প্রতারণার শিকার হতে হবে, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেননি।
কেইকো আজুমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী অধ্যাপক কাযুও আজুমা সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন রবীন্দ্রচর্চায়। আমার স্বামী ও আমি বাঙালিদের ভীষণ ভালোবাসি। তাদের বিশ্বাস করি। দারাদ আহমেদকেও সেভাবে ভালোবেসেছি, বিশ্বাস করেছি। এর আগে বাঙালিদের নিয়ে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি আমাদের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যে এভাবে ঠকে যেতে হবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের সময় অধ্যাপক আজুমা তাঁর দোভাষী হিসেবে কাজ করেন এবং সেই সূত্রে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়। এ ছাড়া গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরের সময় তাঁর খোঁজখবর নেন। পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস সে সময় আজুমার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ফুলের তোড়া উপহার দেন।
কেইকো এখনো চান, ‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ বাস্তবায়িত হোক। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীকে ভালো করে চেনেন। গত বছর তাঁর জাপান সফরের সময় তিনি আমার স্বামীর খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং ওর জন্য ফুল পাঠিয়েছিলেন। আমি তাঁর কাছে ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
প্রথম আলো

পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে ডিএসই ও সিএসই



পুঁজিবাজারের বর্তমান তারল্যসংকট দূর করতে বন্ডের পাশাপাশি অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে আবারও মত দিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতিরা। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা এই মত দেন।
রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ, ডিআরইউর সভাপতি মোস্তাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পুঁজিবাজারের বর্তমান তারল্যসংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে তারল্যসংকট রয়েছে। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বন্ডের পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন।’
শাকিল রিজভী বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বন্ডে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে এটা ঠিক। তবে প্রতিবছর বিনিয়োগকারীকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ মুনাফা ফেরত দিতে হবে। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে সরকারকে কোনো মুনাফা ফেরত দিতে হবে না।
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদও অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পক্ষে মত দেন। তবে বাজার যাতে আবার অতি মূল্যায়িত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানোর পক্ষে মত দেন তিনি।
২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার কী ভূমিকা রাখতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর সভাপতি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করি এবং সরকার যদি শেয়ারবাজারকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।’
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আমাদের একটি লক্ষ্য স্থির করতে হবে। সরকারের একটি নির্দিষ্ট পলিসি থাকতে হবে, যা কমপক্ষে পাঁচ মেয়াদি হতে হবে। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাতে না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের আমলে পুঁজিবাজারে ধস নামে কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিল রিজভী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারেও এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তো আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নেই।’ তিনি বলেন, উত্থানপতন শেয়ারবাজারের ধর্ম। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে বাড়তে বাজার অতি মূল্যায়িত হয় এবং একপর্যায়ে এ ধরনের ধসের সৃষ্টি হয়। এটা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দোষ নয়। এ ছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জই প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপমুক্ত বলে জানান দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএসই ও সিএসই সভাপতিরা বলেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে বাজারে ভীতি ছড়ানো ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন তাঁরা।

Friday, June 24, 2011

অবৈধ অর্থ লেনদেন মামলা কোকোর ৬ বছরের জেল



আরাফাত রহমান কোকো
বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া কোকোকে জরিমানা দিতে হবে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা। 
সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থের অবৈধ লেনদেনের দায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দিয়েছেন। সিঙ্গাপুর থেকে এই টাকার সমপরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ খাতে সিমেন্সকে কাজ পাইয়ে দিতে এই অর্থ ঘুষ নিয়েছিলেন আরাফাত রহমান কোকো।
মামলার অপর আসামি সাবেক মন্ত্রী মরহুম লে. কর্নেল আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মনকে একই দণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত মোট জরিমানা করেছেন ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা কোকো ও সায়মনকে অর্ধেক অর্ধেক করে দিতে হবে। 
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মোজাম্মেল হোসেন আসামি কোকো ও সায়মনকে পলাতক দেখিয়ে গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, আসামিদের আদালতে হাজির হয়ে মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা হাজির হননি। আসামিরা গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ করার তারিখ থেকে এ রায় কার্যকর হবে। 
জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে এই প্রথম কোনো মামলার রায় দেওয়া হলো।
গতকাল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যেই বিচারক রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়ে শোনান। রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং আইনের ২(ক) আ, ই ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় দুজনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবী ‘প্রহসনের রায় মানি না’ বলে আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। 
মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল গত বছর ৩০ নভেম্বর। চলতি বছর ৪ জানুয়ারি কোকো পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শুরু হয়। ১৯ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন। 
এর আগে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ রাজধানীর কাফরুল থানায় দুদক এ মামলা করে। সিঙ্গাপুরে ২৮ লাখ ৮৪ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার এবং নয় লাখ ৩২ হাজার ৬৭২ মার্কিন ডলার (সে সময়ের বাজারদর অনুযায়ী ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৮ টাকা) অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর কোকোকে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের মে মাসে তাঁকে সাময়িক মুক্তি (প্যারোল) দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা এর মেয়াদ বাড়ানোর পর গত ১৪ আগস্ট প্যারোলের মেয়াদ শেষ হয়। ১৯ আগস্ট প্যারোল বাতিল করে ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশে ফিরতে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোকোর পক্ষে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট ৪০ দিনের জন্য প্যারোলের মেয়াদ বাড়ালেও এর শর্ত ভঙ্গ করায় আপিল বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এরপর বিচারিক আদালত কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত পরিস্থিতি: গতকাল বেলা ১১টার আগেই আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষে জড়ো হন। ১১টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। প্রথমেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয়। এ মামলায় আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর আদালত থেকে জানানো হয়, দুপুর ১২টার পর রায় ঘোষণা করা হবে। এ সময় থেকেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষের বাইরে ও আদালত চত্বরে মিছিল এবং ‘কোকোর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় প্রহসনের বিচার মানি না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে আদালত ভবনে আইনজীবীরা দলবদ্ধ হয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। 
গতকাল আদালত এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। 
কোকোর সাজার রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আইনজীবীরা জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁরা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট ও আইনজীবী সমিতি ভবনের সংযোগ পথে রাখা ফুলের টব ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় তলা থেকে ফুলের টব ছুড়ে ফেলে দিলে নিচে থাকা দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
অন্যদিকে রায় ঘোষণার পর আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা রায়কে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেন।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া: রায়ের পর দুদকের প্রধান কৌঁসুলি আনিসুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সিমেন্সের একটা ঘুষ কেলেঙ্কারি তদন্ত করতে গিয়ে কোকোকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে তথ্য পায়। সেই কাগজপত্র থেকে শুরু হয় অনুসন্ধান, পরে এজাহার করা হয়। তথ্যটা যেহেতু এফবিআই থেকে প্রাপ্ত, এখানে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বেলা দুইটার দিকে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিজ কক্ষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। 
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘সিমেন্স এফবিআইয়ের কাছে দোষ স্বীকার করেছে। আমরা সিঙ্গাপুরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করেছি। সিঙ্গাপুরের সেই ব্যাংকে কোকোর পাসপোর্টের একটা ফটোকপি দেওয়া হয়েছিল।’ কোকোর সাজা কার্যকর করতে হলে কী করতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘কোকো বর্তমানে যে দেশে রয়েছেন, সেই দেশের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন চুক্তি থাকলে তা কার্যকর করতে পারে। এটা সরকারের ব্যাপার। আমি মন্তব্য করতে চাই না।’ 
দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে বলেন, দুদকের ২১ সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত রায় দিয়েছেন। 
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন নিজ কার্যালয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন কোকোর মামলার ত্বরিত নিষ্পত্তির কথা বলেছিলেন, তখনই আশঙ্কা হয়েছিল, ত্বরিত নিষ্পত্তি মানে ত্বরিত শাস্তি। আমাদের সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছে।’ 
মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘নিম্ন আদালত যখন একটা রায় দিয়েছেন, তখন উচ্চ আদালতেই এর ফয়সালা হবে। এ মামলায় ত্রুটি আছে। তাই আশা করি, উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন কোকো।’ তিনি বলেন, ‘যখন এই মামলা উচ্চ আদালতে আসবে, তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকবে না। তখন দলীয়করণমুক্ত অবস্থায় উচ্চ আদালত ন্যায়বিচার করতে পারবেন বলে আমরা আশা করি।’ 
কোকোর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, গোলাম মোস্তফা খান ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার একে প্রহসনের রায় উল্লেখ করে রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। 
মামলার বিবরণ: মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, কোকোর দেওয়া আয়কর বিবরণী ও দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সিঙ্গাপুরে তাঁর হিসাবে অর্থ জমা বা উত্তোলনের কোনো উল্লেখ নেই। সিঙ্গাপুরে জ্যাজ ট্রেডিং অ্যান্ড কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং ফারহিল কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে কোকোর দুটি কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার সময় তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। যেসব সূত্র থেকে অর্থ জমা হয়েছে তাদের সঙ্গে কোকোর কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্কও ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধ উপায়ে এ অর্থ আয় করেন। 
এজাহারে বলা হয়েছে, ইউওবি ব্যাংকের জ্যাজের হিসাবে ২০০৫ সালের ৬ মে এবং ৩১ মে নয় লাখ ২০ হাজার ৯৮৬ দশমিক ৫৭ এবং আট লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৭৭ সিঙ্গাপুর ডলার জমা হয়। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি থেকে এই অর্থ পাঠানো হয়। একই বছরের ১ আগস্ট নিউইয়র্ক থেকে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পাঠানো হয় আরও আট লাখ ২৯ হাজার ৭০৫ দশমিক ৮১ সিঙ্গাপুর ডলার। এর বাইরে জ্যাজের হিসাবে ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর আবারও এক লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার (তিন লাখ তিন হাজার ২৫৪ সিঙ্গাপুর ডলার) জমা হয়। ওই অর্থ জুলফিকার আলী নামের এক ব্যক্তি সিঙ্গাপুরের আরেকটি ব্যাংকের হিসাব থেকে হস্তান্তর করেন। জুলফিকার আলী টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিমেন্সের পরামর্শক। 
সিমেন্স বাংলাদেশকে তিনি রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাজ পাইয়ে দিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন। টেলিটকের কাজ পেতে সিমেন্স কোকোসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের যে ঘুষ দিয়েছিল, তা প্রমাণিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালত কোম্পানিটির বিরুদ্ধে জরিমানার রায় দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধও করেছে সিমেন্স। 
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জ্যাজের হিসাব থেকে বিভিন্ন দফায় কোকোর সইয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। হিসাবে ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫৪ দশমিক ১৫ সিঙ্গাপুর ডলার জমার বিপরীতে বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে আট লাখ ৭২ হাজার ৮৬ দশমিক ৭৭ সিঙ্গাপুর ডলার উত্তোলন করেন কোকো। ২০০৫ সালের ২৯ জুলাই আট লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৭৭ সিঙ্গাপুর ডলার ইসমাইল হোসেনকে দেওয়া হয়। 
জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগে ২২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো, নাইকো, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে। তারেকের বিরুদ্ধে করা অর্থ পাচারের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ জুলাই দিন ধার্য রয়েছে। বাকি মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
প্রথম আলো

Monday, June 20, 2011

৩৪ কোটি টাকায় বিক্রি মনরোর পোশাক



undefined
মেরিলিন মনরো
‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিতে ব্যবহূত মেরিলিন মনরোর আলোচিত সেই পোশাক বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যেনতেন মূল্যে নয়। মেরিলিন মনরোর আলোচিত সেই পোশাক বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকায়। সম্প্রতি হলিউডের পোশাক বিক্রির এক নিলামে চলচ্চিত্র ইতিহাসের সুপরিচিত এই পোশাকটি বিক্রি হয়।
১৯৫৫ সালের ৩ জুন মুক্তি পাওয়া ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিটি পরিচালনা করেন বিলি ওয়াইল্ডার। হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল ছবিগুলোর একটি ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’। প্রায় ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ছবিটি সে সময়ই প্রায় ৮৮ কোটি টাকা আয় করে নেয়।
এর আগে ‘জেন্টেলম্যান প্রেপার ব্লন্ডি’ ছবিতে ব্যবহূত মেরিলিন মনরোর লাল রঙের একটি পোশাক বিক্রি হয়েছিল প্রায় আট কোটি টাকায়। ওয়েবসাইট।

আল-কায়েদার অর্থ সংগ্রহের জন্য অপহরণ!

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পাকিস্তানে এর সহযোগী সংগঠনগুলো অপহরণের দিকে ঝুঁকছে। আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে হত্যা করার সময় সেখান থেকে উদ্ধার করা নথি থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য পেয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সংগঠনের অর্থের প্রয়োজনে বিকল্প উৎস খুঁজতে অপহরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে আল-কায়েদার সহযোগী কয়েকটি গোষ্ঠী। আর কোন কোন অপরাধে এ গোষ্ঠী বা সংগঠনগুলো জড়িয়েছে, তাঁরা তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে জানান, অপহরণের লক্ষ্য ছিল কূটনীতিক, পর্যটক ও বড় ব্যবসায়ীরা।
কর্মকর্তারা জানান, অর্থ সংগ্রহের জন্য অপহরণের বিষয়ে জানতেন ওসামা বিন লাদেন। এতে তাঁর আগ্রহও ছিল। এমন তথ্য-প্রমাণও রয়েছে, অ্যাবোটাবাদে উঁচু দেয়াল ঘেরা ওই বাড়িতে থাকলেও অর্থ সংগ্রহের বিষয় তাঁর নজরদারিতে ছিল।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্র, রাজস্ব বিভাগ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ও সেনা বিশেষজ্ঞরা অ্যাবোটাবাদে উদ্ধার করা নথি থেকে আরও বেশি জানার চেষ্টা করছেন। আল-কায়েদার অর্থের উৎস ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অর্থ সংগ্রহের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা-ও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, নথি থেকে আল-কায়েদার বড় বড় দাতা, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সম্পদশালী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হবেন।
রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা ডেভিড কোহেন বলেন, আল-কায়েদার অর্থ সরবরাহ বন্ধে সংগঠনটির দাতা, অর্থ সংগ্রহকারী ও এর সঙ্গে জড়িতদের গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আল-কায়েদার সমর্থকেরা অবাক হবেন, যদি তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।
ওসামার নথি থেকে পাওয়া নামের তালিকা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। জিনিউজ।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More