Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label প্রতারক. Show all posts
Showing posts with label প্রতারক. Show all posts

Sunday, July 24, 2011

এত চিনি গেল কোথায়?

চট্টগ্রাম বন্দরে এক সপ্তাহ আগে এমভি পিলিয়ন জাহাজ থেকে খালাস হয়েছে সিটি গ্রুপের ৫২ হাজার ৪০০ টন অপরিশোধিত চিনি।
দেশবন্ধু ও আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের আমদানি করা ৫৩ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি খালাস করে নেওয়া হচ্ছে পরিশোধন কারখানায়।
রোজার আগ মুহূর্তে এই তিন কোম্পানিই এনেছে এক লাখ পাঁচ হাজার টন চিনি।
অন্যদিকে ক্ষমতা বাড়ানোর পর দুই দিন আগে থেকে উৎপাদন শুরু করেছে এস আলম রিফাইনারিও। এই কোম্পানির আগের ছয় থেকে সাত হাজার টনের অপরিশোধিত চিনির মজুদ দিয়ে উৎপাদন শুরু করেছে। চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের হাতে আছে ৫৩ হাজার টন।
অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এখন এক লাখ ৬৩ হাজার টন চিনির মজুদ আছে। আর তাই প্রশ্ন উঠেছে, এত চিনি কোথায় গেল?
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের রিফাইনারির ক্ষমতা বাড়ানোর কারণে এতদিন চিনি উৎপাদন বন্ধ ছিল। তবে দুই দিন আগে থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। পাইপলাইনে চিনি বন্দরে আসার পথে রয়েছে। ফলে রোজার সময় চিনির সংকট হবে না।’
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে চিনি আমদানি হয় সবচেয়ে কম। পরিশোধন কারখানার মালিকেরা এ সময় চিনি আমদানি করেননি।
এর আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বেশি চিনি আমদানি হওয়ায় সংকট প্রকট হয়নি। গত মার্চ মাস থেকে চিনি আমদানি শুরু হয়। গত চার মাসে (মার্চ থেকে জুন) চিনি আমদানি হয় চার লাখ ৪৫ হাজার ৪২৭ টন। এ মাসে এসেছে এক লাখ পাঁচ হাজার টন।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে সিটি গ্রুপের ৫২ হাজার ৪০০ টন চিনি খালাস করা হয়েছে। এসব চিনি এখন পরিশোধন করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
দেশবন্ধু সুগার রিফাইনারির আমদানি করা ২৭ হাজার টন চিনির মধ্যে খালাস হয়েছে ১৩ হাজার ৫৫০ টন।
এ ছাড়া আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডেরও ২৬ হাজার টন চিনির মধ্যে ৪৫০ টন খালাস হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে এই দুটি জাহাজ থেকে কয়েক দিন চিনি খালাস করা যায়নি। তবে গতকাল শনিবার থেকে দুটি জাহাজ থেকে আবার চিনি খালাস শুরু হয়েছে বলে জাহাজ কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
কাস্টম হাউসের নথিপত্রে দেখা গেছে, সর্বশেষ চালানের এসব অপরিশোধিত চিনির দাম পড়ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫১ টাকায়।
যেমন, ব্রাজিল থেকে আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড ২৬ হাজার টন চিনি আমদানি করেছে। এই চিনির কেজিপ্রতি দাম পড়েছে ৫০ টাকা ৮৬ পয়সা।
এই দামের সঙ্গে চিনি খালাসের নানা প্রক্রিয়ার খরচ এবং পরিশোধন খরচ মিলে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা ধরা হলে খরচসহ প্রতি কেজি চিনির মূল্য পড়ে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা। খুচরা বাজারে এই চিনিই বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭১ টাকায়।
চিনি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছয়টি চিনি পরিশোধন কারখানার মধ্যে চারটি বন্ধ থাকায় চিনির সরবরাহ কমে যায়। বাড়তি চাহিদার বিপরীতে কম সরবরাহকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বন্ধ কারখানাগুলো চালু হচ্ছে। এতে অন্তত রোজার সময় সংকট হবে না বলে ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করেছেন।
গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার চিনির দর ৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পর খুচরা ব্যবসায়ীরা চিনি বিক্রিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৮ টাকা। এই দরে চিনি এনে ৬৫ টাকায় বিক্রি না করলে আবার তদারকি দলের মুখে পড়তে হবে। এ কারণে অনেকে চিনি কিনলেও ভয়ে বিক্রি করছেন না।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের হাতে থাকা ৫৩ হাজার টন চিনি এখনই খোলা বাজারে বিক্রি করা উচিত। এতে চিনির বাজার স্থিতিশীল হবে।প্রথম আলো

Tuesday, July 5, 2011

 কাজ না করেই ১৩ প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ



বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের এসব প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। তাঁরা কোথাও কোথাও নামে মাত্র এবং বেশ কয়েকটি স্থানে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-১ নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক গৌরনদী উপজেলার জন্য ২০১০-১১ অর্থবছরে কাবিটার ১৩টি প্রকল্পে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণ শুরু হয় মে মাসে। গত ৩০ জুন প্রকল্পের সভাপতিরা টাকা তুলে নেন।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে চলছে হরিলুট। প্রকল্পের সভাপতিরা সড়ক সংস্কারের নামে তাঁদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। রাস্তার মাটি রাস্তায় ফেলে পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছেন।
বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী রাস্তার ওপরের অংশে প্রস্থ ১২ ফুট, দুই পাশে ঢাল ২৪ ফুট, উচ্চতা চার ফুট থাকার কথা। সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ওই পরিমাপে কোনো রাস্তা পাওয়া যায়নি।
মাহিলাড়া ইউনিয়নের বেজহার কুব্বত সরদারের বাড়ির ব্রিজ থেকে গুয়াবাড়িয়া হয়ে কেবলারভিটা পর্যন্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্পে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় (প্রকল্প নম্বর ৩)। মাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম মৃধা এ প্রকল্পের সভাপতি। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। শ্রমিকেরা রাস্তার উঁচু স্থানের মাটি অপসারণ করে নিচু স্থানে দিচ্ছেন।
প্রকল্প এলাকার বেজহার গ্রামের আবদুর রহমান ও শরীফাবাদ গ্রামের গফুরসহ কয়েকজন জানান, প্রকল্পের প্রায় এক কিলোমিটারে কোনো কাজ করা হয়নি। রাস্তায় মাঝেমধ্যে উঁচু স্থানের মাটি কেটে নিচু স্থানে ফেলে সমান করা হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে সামান্য কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এ রাস্তায় এক লাখ টাকাও ব্যয় করা হয়নি।
প্রকল্পের সভাপতি মো. আবুল কালাম মৃধা বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আমি সঠিকভাবেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।’
বাটাজোর ইউনিয়নের জয়শুরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঘেয়াঘাট হয়ে শাহী মসজিদের পাশ দিয়ে সিঅ্যান্ডবি পর্যন্ত রাস্তা এবং বাটাজোর সিঅ্যান্ডবি থেকে আনন্দ সমাদ্দারের বাড়ি হয়ে মোল্লাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১ নম্বর প্রকল্পের আওতাধীন এ কাজ বাস্তবায়নে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রব হাওলাদার। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, রাস্তা চাঁচা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। নামে মাত্র কাজ করে পুরো প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আবদুর রব হাওলাদার বলেন, অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। প্রকল্পের ডিজাইন অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বার্থী ইউনিয়নের মহব্বত আলী মেম্বারের বাড়ি থেকে উত্তর মাদ্রা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার (প্রকল্প নম্বর ১০) প্রকল্পের সভাপতি ছাত্রলীগের নেতা সোহাগ হাওলাদার। রাজাপুর ব্রিজের গোড়া থেকে মৈস্তারকান্দি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার (প্রকল্প নম্বর ৮) করেন বার্থী ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নিতাই মণ্ডল। এ দুটি প্রকল্পে সাড়ে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, এ রাস্তায় তেমন কোনো কাজ হয়নি। রাস্তার মাটি এক স্থান থেকে কেটে অন্য স্থানে ফেলা হয়েছে। সোহাগ ও নিতাই মণ্ডল রাস্তায় সংস্কারের কাজে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন।
গৌরনদীর পিআইও মো. কবির উদ্দিন বলেন, প্রথম দিকে কাজের মান কিছুটা খারাপ ছিল, পরে তা সংশোধন করা হয়। বর্তমানে তেমন কোনো সমস্যা নেই।

Monday, July 4, 2011

 দলিল জালিয়াতি ও তথ্য লোপাটের চক্র


ঢাকার ১০টি ভূমি সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে আমমোক্তারনামার নিবন্ধন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়মিত ব্যাপার। জালিয়াতির কারণে মামলার সংখ্যাও অনেক। জালিয়াতির আরেক বড় ক্ষেত্র জেলার একমাত্র মহাফেজখানাটি।
নিবন্ধনের তথ্যপ্রমাণ থাকে মহাফেজখানায়। সুরক্ষা ও সংরক্ষণের অভাবে সেখান থেকে নিবন্ধনের তথ্য গায়েব হয়ে যাচ্ছে। দলিলের অবিকল নকল তোলা ও জমি কেনাবেচার সময় তথ্য যাচাই করতে মানুষ মহাফেজখানার দ্বারস্থ হয়। তখন ভোগান্তি ও খরচ লেগেই থাকে।
ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা বলেন, এ চিত্র পুরো দেশেই এক রকম।
আমমোক্তারনামা দলিল জালিয়াতি: মূল মালিক অন্য কোনো ব্যক্তিকে জমির তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা দেওয়ার জন্য আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দলিল তৈরি করে থাকেন। বিদ্যমান আইন অনুসারে আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি করতে কোনো ধরনের ছবি বা দালিলিক প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
সাব-রেজিস্ট্রাররা জানান, আইনগত এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসগুলোতে ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি হচ্ছে। ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এক উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসেই নয়টি ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল চিহ্নিত হয়েছে।
ভূমি নিবন্ধন অফিস ডিজিটালকরণ কমিটির পরামর্শক ও ভূমি নিবন্ধন অফিসের সাবেক পরিদর্শক নারায়ণচন্দ্র দাশ বলেন, আইনি দুর্বলতার সুযোগে সারা দেশে প্রচুর ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি হচ্ছে। জালিয়াতেরা দখল করে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের জমি। অন্যের জমি দখল করে বহুতল ভবন বানাচ্ছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে হাজার হাজার মামলাও রয়েছে। তিনি আরও জানান, একজন সাব-রেজিস্ট্রার একবার ভুলভাবে কোনো জমি নিবন্ধন করলে তা শুধরানোর সুযোগ তাঁর নেই। এ নিয়েও সারা দেশে প্রচুর মামলা হচ্ছে।
অরক্ষিত মহাফেজখানা: সাধারণত জমি নিবন্ধন হয়ে থাকে সাব-রেজিস্ট্রারের কক্ষে। এরপর নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় নিবন্ধন বইয়ে। যেকোনো নিবন্ধন বই এক বছর সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে থাকার পর তা সংরক্ষণের জন্য মহাফেজখানায় পাঠানো হয়। জমিজমাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের ভরসা এই মহাফেজখানা।
ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও ডিজিটালকরণ-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এই মহাফেজখানা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত নিবন্ধন বইগুলো বহু ব্যবহারে বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু, অপাঠ্য ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ জন্য তল্লাশিতে সময় ব্যয় হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
দলিলের তথ্য গায়েব: মহাফেজখানা সূত্র জানায়, তল্লাশি করতে গেলে মাঝেমধ্যেই সংরক্ষিত নিবন্ধন বইয়ের পাতা ছেঁড়া পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের ধারণা, জালিয়াত চক্র এসব করছে।
সম্প্রতি মহাফেজখানার ১৬৫ নম্বর নিবন্ধন বইয়ের ২৩১ থেকে ২৩৬ ও ১৩৯ থেকে ২৪৮ নম্বর পৃষ্ঠা এবং ১১৫ নম্বর বইয়ের ৫১ থেকে ৫৪ নম্বর পৃষ্ঠা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। এরপর সাব-রেজিস্ট্রার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কারওয়ান বাজারের ১২৮ নম্বর খতিয়ানের (সিএস দাগ ৯৪, ৯৫, ৯৬) ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ জমির মালিক একই এলাকার বাসিন্দা রাবিয়া খানম। খায়রুন্নেসা, ওয়াহিদা ইয়াসমীন, আবুল বাশার ও আবু তালেব মিয়া নামের চার ব্যক্তি নিজেদের এই জমির মালিক দাবি করে ভুয়া দলিল করেন। ভুয়া দলিলকে মূল দলিল হিসেবে প্রমাণ করার জন্য মহাফেজখানায় সংরক্ষিত মূল দলিলের তথ্য নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
গত ১৬ মে ভুয়া দলিলধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
সম্প্রতি ১৯৭৭ সালের ১০ নম্বর নিবন্ধন বইয়ের ৯১ থেকে ৯৪ নম্বর পৃষ্ঠাও ছেঁড়া পাওয়া গেছে। গত ১৫ মে সাভারের জ্যেষ্ঠ সহকারী হাকিমের (দেওয়ানি মামলা ৫৯৫৭/২০০৮) আদালত থেকে এ নিবন্ধন বইটি তলব করা হয়। কিন্তু যে জমি নিয়ে মামলা, সে তথ্যসম্পর্কিত পৃষ্ঠাগুলো ছিল না। এ-সম্পর্কিত সূচিবইও নষ্ট হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ১৯ জুন জমির মালিকানা নির্ধারণের জন্য মহাফেজখানা থেকে এ-সম্পর্কিত টিপবইটি আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা বড় লোভনীয়: গত ২১ জুন ঢাকার ভূমি নিবন্ধন অফিসের মহাফেজখানায় দলিলের নকল পাওয়ার নিশ্চয়তা না পেয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেন নুরুল ওহাব। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাঙ্গালগাঁও গ্রামে। তিনি জানান, তাঁর বাবা মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ থেকে ’৭৬ সালের কোনো একসময়ে প্রায় এক বিঘা জমি কিনেছিলেন। সে সময়ে নিবন্ধন হলেও জমির নামজারি হয়নি।
সম্প্রতি তাঁর ঘর থেকে সেই জমির মূল দলিল চুরি হয়ে গেছে। এর পর থেকেই কিছু ব্যক্তি নিজেদের ওই জমির মালিক দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মহাফেজখানার তল্লাশিকারক সচিন্দ্র চন্দ্র সাহা জানান, ১৯৭৪ থেকে ’৭৬ সালের নিবন্ধনের সূচিবই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর তথ্য খুঁজে বের করা দুরূহ কাজ।
গত ২৫ জানুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকারকে ঢাকার মহাফেজখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ঢাকা এবং এর আশপাশের জমির দাম লোভনীয় বলেই ঢাকার মহাফেজখানাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু জালিয়াত চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মূলত মহাফেজখানাটি দীর্ঘ সময় অরক্ষিত থাকায় এই চক্রটি জাল দলিল করে মহাফেজখানা থেকে মূল দলিল গায়েবের কাজটি করে যাচ্ছে।
মহাফেজখানাতেও মধ্যস্বত্বভোগী! মহাফেজখানাকে কেন্দ্র করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও রয়েছে। মহাফেজখানা থেকে দলিলের তথ্য খুঁজে বের করেন তল্লাশিকারকেরা। নকলনবিশেরা সেটার নকল তৈরি করেন। জেলা অফিসের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৩০ হাজার ২৫৭টি দলিলের নকল সরবরাহ হয়েছে। এ হিসাবে ১০টি অফিস থেকে প্রতিদিন ২০০টির বেশি দলিলের নকল সরবরাহ হয়ে থাকে।
কিন্তু সরকারি ফির বাইরে সাধারণত দুই হাজার টাকার নিচে ঢাকার মহাফেজখানার তল্লাশিকারকেরা নিবন্ধন বইয়ে হাত দেন না। কলম খোলেন না নকলনবিশও। অথচ জমি নিবন্ধনের তথ্য তল্লাশির জন্য সরকারি ফি প্রতিবছরের জন্য ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ৮০ টাকা। তল্লাশিকারকের প্রতিদিনের ফি তিন টাকা। দলিলের নকলের জন্য সরকারি ফি প্রতি ৩০০ শব্দে নয় টাকা এবং নকল লেখার জন্য নকলনবিশের সরকার-নির্ধারিত ফি প্রতি পাতা ১৫ টাকা।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা আসিফুর রহমান তমাল (২২) জানান, তিনি ১৯৯৬ সালের একটি দলিলের নকল তুলেছেন পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে। তল্লাশিকারক রুবেল মিয়া ১৯৬৩ সালের একটি দলিলের (নম্বর ৪৮৮৩) নকল সরবরাহের জন্য এই প্রতিবেদকের কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন।
যবে হবে, তবে ঘুচবে: ভূমি নিবন্ধন অফিসের দুর্ভোগ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, যুগোপযোগী আইনের অভাবে ভূমি নিবন্ধন অফিসে অব্যাহতভাবে জনদুর্ভোগ, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতি ঘটনা ঘটে থাকে। সবচেয়ে বেশি ত্রুটিপূর্ণ হলো আমমোক্তারনামা আইন। যে কারণে সরকার আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, ভূমি নিবন্ধনের জটিলতা দূর করতে নিবন্ধন-পদ্ধতি ডিজিটাল করার বিকল্প নেই। এ জন্য ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সূচি, মূল নিবন্ধন বই ও টিপবইয়ের প্রতিচ্ছবি (স্ক্যান করা কপি) ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। দলিলের ফরম অনলাইনে পাওয়া যাবে। ক্রেতা নিজেই সেই দলিল লিখতে পারবেন। এ জন্য কোনো দলিল লেখকের প্রয়োজন হবে না।

হয়রানি, ঘুষ আর দলিলজট

ঢাকা মহানগরের ১০টি ভূমি নিবন্ধন অফিসে মাসে গড়ে ১১ হাজারের কাছাকাছি দলিল নিবন্ধন করাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও জমির মালিকেরা। নিবন্ধনকারী অর্থাৎ সাব-রেজিস্ট্রার অবধি পৌঁছাতে তাঁরা দলিল লেখক ও নানা ধাপের দালালদের কাছে জিম্মি।
নিবন্ধনের পর পাকা দলিল হাতে পেতে ঘুরতে হচ্ছে বছরের পর বছর। আটটি অফিসে এখন জমে আছে অন্তত এক লাখ ৩৮ হাজার দলিল তৈরির কাজ। ছয় মাস ধরে নিবন্ধন বই বা বালামের (ভলিউম) সরবরাহ নেই। নেই নিবন্ধন ফি আদায়ের পাকা রসিদ।
ঢাকা মহানগর দেশের ভূমি অফিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করে। অথচ যাঁরা এই রাজস্বের জোগান দেন, প্রতিটি ধাপে তাঁদের পাওনা হয়রানির পাশাপাশি উপরি খরচ।
জেলা রেজিস্ট্রার সুভাষ চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে জানি, ঘুষ ছাড়া ভূমি নিবন্ধন অফিসে কোনো কাজ হয় না। কিন্তু আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই।’ তাঁর মতে, যত দিন পর্যন্ত দাতা ও গ্রহীতা স্বহস্তে দলিল না লিখতে পারবেন, তত দিন দলিল লেখক বা দালাল নামের মধ্যস্বত্বভোগীরা ফায়দা লুটবে। মানুষের হয়রানি চলতে থাকবে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে ভূমি নিবন্ধন অফিসের চিত্র এ রকমই।
তথ্যসংকট দিয়ে দুর্ভোগের শুরু: জেলা নিবন্ধন অফিসের তথ্য বলছে, ২০১০ সালে ঢাকার ১০টি সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে এক লাখ ৩০ হাজার ২৭০টি দলিল নিবন্ধন হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে ৩১ হাজার ৭১টি দলিল। এই হিসাবে প্রতি অফিসে মাসে গড়ে এক হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের দলিল নিবন্ধন হয়। একই হারে দলিলের নকলও সরবরাহ করা হয়।
জেলা অফিসের হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আয় হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। এটা সারা দেশের মোট ভূমি নিবন্ধন রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ। অথচ রাজস্বের জোগানদাতা ক্রেতা-বিক্রেতারা কোথায় গেলে কী সেবা পাবেন, আইন কী বলছে—এসব জানানোর ব্যবস্থা অফিসগুলোয় নেই।
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক, কিন্তু তেজগাঁওয়ের জেলা ভূমি নিবন্ধকের দপ্তরে কোনো তথ্য কর্মকর্তা পর্যন্ত নেই। নেই তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানোর কোনো জায়গা।
হয়রানি ও উপরি খরচ: দশ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুটি মিরপুর ও ডেমরায়। বাকি আটটি ঢাকা সদর, তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর ও উত্তরার সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিস তেজগাঁওয়ের জেলা নিবন্ধন দপ্তরের চত্বরে। সেখানে ১২ জুন দুপুরে কামরাঙ্গীরচরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম জানান, কোনো তথ্যকেন্দ্র না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি একজন দলিল লেখকের শরণাপন্ন হয়েছেন।
দলিল লেখকের ভূমিকা অনেকটা উকিলের মতো। ক্রেতা-বিক্রেতা চাইলে এঁদের কাছ থেকে আইনি ও দালিলিক সহায়তা নিতে পারেন। কিন্তু কার্যত অফিসের আঙিনায় পা দেওয়া মাত্র দলিল লেখক, তাঁদের সহকারী ও দালালেরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছেঁকে ধরেন। এঁদের এড়িয়ে কেনাবেচার কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এরপর নিবন্ধন অফিসের প্রধান কেরানি, অধস্তন কেরানি, পিয়ন, মোহরার, টিপসহি নেওয়া কর্মচারী এবং সাব-রেজিস্ট্রারের পাশে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে থাকা রাতের পাহারাদার তথা নাইটগার্ডদের খুশি না করে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ মেলে না।
তেজগাঁও থানার সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই মানুষের হয়রানি। অন্যদিকে দলিল লেখকেরা দোষ চাপান সাব-রেজিস্ট্রারদের ওপর।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ১৯০৮ সালের ভূমি নিবন্ধন আইনে ৬৩ ধরনের ভূমি নিবন্ধনের কথা বলা আছে। এর মধ্যে বেশি হয় চারটি—কবলা বা হস্তান্তর, হেবা, হেবার ঘোষণা ও দানপত্র। কবলার সরকারি ফি বিভিন্ন খাত মিলিয়ে জমির সরকারিভাবে নির্ধারিত মোট দামের নয় শতাংশ। এর জন্য জমির মালিকানার কাগজ, পরচা, নামজারি, দাখিলা বা খাজনা রসিদ ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ লাগে।
দলিল লেখকদের অভিযোগ, এসব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রতিটি নিবন্ধনের ক্ষেত্রেই সাব-রেজিস্ট্রারদের ঘুষ দিতে হয়। সরকারি হিসাবে জমির দাম কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা ঘুষের অন্যতম কারণ। জমির প্রকৃত দামভেদে ঘুষের পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। দলিল লেখক সমিতির মহাসচিব এম এ রশিদ বলেন, সাব-রেজিস্ট্রাররা তাঁদের নাইটগার্ড বা পিয়নদের মাধ্যমে ঘুষ দাবি করেন।
মগবাজারের (৩৪৬ নয়াটোলা) আবুল কাসেম (৬৫) ঢাকা সদর অফিসে গিয়েছিলেন আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) অর্থাৎ নিজের অনুপস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ককে ক্ষমতা দেওয়ার দলিল করতে। ১৭ মে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার রুহুল ইসলাম তাঁর নাইটগার্ড রানার মাধ্যমে তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। ঢাকা সদরের এই সাব-রেজিস্ট্রার নিবন্ধনের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) মুন্সী নজরুল ইসলামের ভাতিজা।
দলিল লেখক মাহবুব হোসেন অভিযোগ করেছেন, রুহুল ইসলামের দপ্তরে তাঁর একই রকম অভিজ্ঞতা হয়। এরপর দলিল লেখক সমিতি রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইজিআরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়। গত ২৯ মে আইজিআর রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ উত্তর আমি লিখিতভাবে জেলা রেজিস্ট্রারকে জানিয়েছি।’
দলিল লেখক আখতারুজ্জামান বলেন, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে তিনি বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। একই বিষয়ে তিনি দুদকেও অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জসিমউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি জমি রেজিস্ট্রেশনের আগ পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে দালাল বা দলিল লেখকদের কী অঙ্কের টাকা বিনিময় হয়, সেই তথ্য জানার সুযোগ আমার নেই। যদি লেনদেন হয়েও থাকে, সেই দায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে আমাকেই বহন করতে হবে।’
দলিল লেখকদের ফাঁদে: গত ১৫ জুন মহাখালী ডিওএইচএসের বাসিন্দা ফরিদ আক্তার একটি দলিল লেখার জন্য এক দলিল লেখককে তিন হাজার টাকা দেন। তিনি জানান, আশপাশের দালাল এবং নিবন্ধন অফিসের কর্মচারীরাও তাঁর কাছ থেকে টাকা খসিয়েছেন।
আইন অনুযায়ী একটি দলিল লিখে দেওয়ার জন্য লেখককে ৬৯ টাকা দিতে হয়। কিন্তু দলিল লেখকেরা একটি দলিল লিখে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাঁচ-ছয় হাজার এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুই-তিন হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন। তেজগাঁও দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ৬৯ টাকায় দলিল লিখে দিলে কারও সংসার চলবে না।
রসিদ ও নিবন্ধন বই নেই: সাব-রেজিস্ট্রারেরা জানান, বর্তমানে এই দশ দপ্তরে জমি নিবন্ধন ফি আদায়ের রসিদ বই নেই। তাঁরা সাদা কাগজে সিল-স্বাক্ষর দিয়ে তা জমির মালিকদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। সরকারের ছাপাখানা (বিজি প্রেস) থেকে সর্বশেষ রসিদ বই সরবরাহ করা হয়েছিল ২০১০ সালের আগস্টে।
নেই নিবন্ধন বই। ফলে নিবন্ধনের পর জমির দলিল হাতে পাওয়া আরেক সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া। জেলা নিবন্ধন অফিস সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি এক লাখ নিবন্ধন বই ছাপা হয়েছিল। এসব বই ফুরিয়ে গেছে প্রায় ছয় মাস আগে। যে কারণে নিবন্ধন বইয়ে তথ্য সংরক্ষণ এবং দলিল সরবরাহের কাজ পিছিয়ে পড়ছে। এক বছর ধরে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বিজি প্রেস নিবন্ধন বই সরবরাহ করছে না।
এক লাখ ৩৮ হাজার দলিলের জট: গত ১৩ জুন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে ১৪টি দলিল সরবরাহ করা হয়েছে। সূত্র বলছে, এসব দলিলের একটি ২০০৫ সালে, ১২টি ২০০৬ সালে এবং একটি ২০০৭ সালে নিবন্ধিত হয়েছিল।
জেলা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের আটটি সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসে বর্তমানে এক লাখ ৩৮ হাজার দলিল তৈরির কাজ ঝুলে আছে। এক গুলশান অফিসেই জমে আছে ৪৪ হাজার ৫০০ দলিল তৈরির কাজ। মোহাম্মদপুর অফিসে রয়েছে ২৭ হাজার, বাড্ডায় ২৩ হাজার ৩০০, উত্তরায় ২০ হাজার ৫৩৬, ঢাকা সদরে ১০ হাজার ৭২৮, সূত্রাপুরে নয় হাজার ৮৫৫ এবং খিলগাঁওয়ে দুই হাজার ৮৬১। সবচেয়ে কম ১৭৯টি দলিল লেখার কাজ অসমাপ্ত আছে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসে। মিরপুর ও ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসের এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও ডিজিটালকরণের লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান পদ্ধতির কারণে জমি নিবন্ধন শেষে কত দিন পর দলিল সরবরাহ করা হবে, সে সম্পর্কে সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে জমির ক্রেতাকে দলিল লেখকের ওপর নির্ভর করতে হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দলিল সরবরাহ করতে তিন মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় লেগে থাকে।
সাব-রেজিস্ট্রারেরা বলেন, নিবন্ধন শেষে তাৎক্ষণিক মূল দলিল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রতিটি অফিসে মাসে গড়ে এক হাজারের বেশি দলিলের নকল তৈরি করতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে মূল দলিল সংগ্রহ করতে এসে জমির মালিকদের আবারও হয়রানির শিকার হতে হবে এবং গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

Monday, June 27, 2011

ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ


জাপানি অধ্যাপক আজুমার সঙ্গে দারাদ আহমেদ (বাঁয়ে)
ফাইল ছবি
‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করার নামে জাপানি এক অধ্যাপকের কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এক বাংলাদেশি। রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশপ্রেমী ওই জাপানি অধ্যাপক প্রতারণার এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার নামে প্রতারণা করেছেন দারাদ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি। নিজেকে তিনি রবীন্দ্রগবেষক ও বিশ্বভারতীর ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায়।
জাপানের প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক কাযুও আজুমা জাপানে রবীন্দ্রগবেষক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। নিজের একক প্রচেষ্টায় জাপান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি কলকাতায় ‘ভারত-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করেছেন। বিশ্বভারতীতে ‘নিপ্পন ভবন’ তৈরিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। ভারতের এ দুই প্রতিষ্ঠান জাপান-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজুমার স্ত্রী কেইকো আজুমাও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক।
কেইকো আজুমা কিছুদিন আগে প্রথম আলোর টোকিও কার্যালয়ে চিঠি লিখে প্রতারণার বিষয়টি জানিয়েছেন। কেইকো জানান, ২০০৩ সালে কলকাতা সফরের সময় তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন দারাদ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি। তিনি নিজেকে বিশ্বভারতীর সংগীতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, এর আগে কিছুদিন তিনি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেছেন। দারাদ দাবি করেন, তাঁর মা-ও একজন রবীন্দ্রভক্ত। পেশায় তিনি মস্তিষ্কের শল্যচিকিৎসক (সার্জন) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কাজ করেন। এ কারণেই পেশাগত দায়িত্বে তাঁকে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে হয়।
কেইকো জানান, ভারতের মতো বাংলাদেশেও একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার ইচ্ছা তাঁদের ছিল। দারাদের এসব কথায় আজুমা ও তাঁর মনে হয়েছে, বাংলাদেশে তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হলে এর চেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি তো আর অন্য কেউ হতে পারে না। এদিকে কলকাতা থেকে জাপানে ফেরার পর দারাদ এ বিষয়ে অনেকগুলো চিঠি লেখেন। একপর্যায়ে দারাদের মা-ও চিঠি লিখতে থাকেন।
আজুমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দারাদ ২০০৪ সালে জাপানে চলে আসেন এবং তাঁর চেয়ে ২০ বছরের বড় এক জাপানি রমণীকে বিয়ে করেন। আজুমার পরিবারের সহায়তায় তিনি জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি জোগাড় করেন। একপর্যায়ে দারাদ তাঁকে ‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করার পরামর্শ দেন। দারাদ বলেন, তিনি প্রকল্পের সব দেখভাল করবেন। আজুমাকে শুধু অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।
কেইকো জানান, ‘দারাদ তাঁকে বিষয়টি গোপন রাখার এবং আর কোনো বাংলাদেশিকে এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত না করার অনুরোধ জানান। দারাদ তাঁকে বোঝান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি ঢাকা শহরে নয়, বরং রবীন্দ্রনাথের দেখিয়ে দেওয়া পথ অনুসরণ করে মফস্বলের কোথাও তৈরি করা উচিত। আর তিনি যেহেতু সাইফুর রহমানের (প্রয়াত অর্থমন্ত্রী) নিকটাত্মীয়, ফলে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তাঁর নিজ গ্রাম হবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির সবচেয়ে জুতসই জায়গা।
আজুমা জানান, দেশে ফিরে দারাদ ও তাঁর মা বিরামহীনভাবে অর্থের জন্য তাগিদ দিতে থাকেন। তিনিও টাকা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দারাদ ও তাঁর মা আজুমা দম্পতিকে আমন্ত্রণ জানান মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। সেখানে একটি ইটের ভাটায় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপনের ছবিও তোলেন। এ সময় দারাদ জানান, আরও টাকা পেলে এই কেন্দ্র ভালো করে তৈরি করা যাবে। 
মোট কত টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে জাপানি এই দম্পতি জানান, সব মিলিয়ে জাপানের ৭৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাঁরা ছয় কোটি ৮০ লাখ জাপানি ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা) সংগ্রহ করেন। এর বাইরে দারাদ ও তাঁর মা তাছলিমা খানমের লিখিত আবদারের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আরও অর্থসহ মোট ছয় কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন (প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা) দেওয়া হয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করার জন্য। কিন্তু দারাদ এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
বারবার চিঠি, বারবার টাকা দাবি: তাছলিমা খানম একটি চিঠিতে বলেন, ‘২০০৭ সালের ১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কাজ খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২০০৭ সালের আগস্টে আমরা ভবন উদ্বোধন করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাপানের সব সুযোগ-সুবিধা, লিফট, পার্কিং, বাগান, এয়ারকন্ডিশন, উন্নত বাথরুম থাকছে এখানে। আমরা প্রথম নকশা থেকে আরও বড় করেছি। আমি নিজে এই ভবন তৈরির জন্য তিন হাজার ৫০০ মান (এক মান মানে ১০ হাজার ইয়েন) খরচ করেছি। বর্তমানে আমার চাকরির বেতন দিয়ে চলতে পারছি না বিধায় আপনার সহায়তা কামনা করছি। আর দেড় হাজার ইয়েন হলে আগস্টে ভবনটি উদ্বোধন করা যাবে।’ চিঠিতে বলা হয়, এ বিষয়ে ১০ দিন ধরে বৈঠক হয়। এতে যোগ দেন তপন কুমার দেবনাথ, মুক্তাদির হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, তপন চৌধুরী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, কবির আনোয়ার প্রমুখ।
২০০৯ সালের ২০ আগস্ট আরেক চিঠিতে তাছলিমা লেখেন, ‘ভবনের চতুর্থ তলার কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাকি রইল একতলা। খুব তাড়াতাড়ি কাজ করতে হচ্ছে। আমার চাকরির টাকায় কাজ করাচ্ছি। আপনাকে নিয়ে এই ভবন উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ভবনে খুব দামি পাথর লাগানোর জন্য অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। আরও কিছু টাকা দরকার।’
২০০৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাছলিমা আরেকটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমি আবারও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে ভবন উদ্বোধন করতে চাই। আপনাদের সাহায্য ছাড়া কাজ শেষ করতে পারছি না। খুবই মূল্যবান গ্লাস ও পাথর লাগানোর জন্য খুব বেশি খরচ হচ্ছে। আর মাত্র ৬০০ মান দেবেন। এরপর আর টাকা চাইব না।’
২০১০ সালের ২৮ জুন এক চিঠিতে বলা হয়, ‘দুই দিন আগে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আগামী মাসের ২৫ তারিখে ভবন উদ্বোধন করা হবে। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। টাকা লাগবে। আমি আমার গাড়ি বিক্রি করে দিয়ে ভবনের কাজ করছি। দয়া করে আর মাত্র ৩৬০ মান পাঠাবেন।’
২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর আরেক চিঠিতে বলা হয়, ‘টাকার অভাবে এখনো ভবনে নিরাপত্তা ক্যামেরা ও এয়ারকন্ডিশন লাগাতে পারিনি। সুখবর হলো, ভবন উদ্বোধন করা হলে সরকার টাকা দেবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তাই আপাতত ধার হিসেবে ২০০ মান চাইছি। আগামী মাসে ভবন উদ্বোধন করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী আর আসবেন না। আমিও সরকারি চাকরি থেকে অবসরে চলে যাব। আপনার টাকার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।’
২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভবন উদ্বোধনের একটি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয় আজুমা দম্পতির কাছে। তাতে বলা হয়, ‘২৯ জানুয়ারি জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টারের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা অনুষ্ঠানে গান গাইবেন। নৃত্য পরিবেশন করবেন শামীম আরা নীপা ও শিবলী মহম্মদ। আমন্ত্রণে দারাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার ও তাছলিমা খানম, পরিচালক, জাপান-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার।’
যেভাবে প্রতারণা ধরা পড়ে: বারবার টাকা পাঠানোর অনুরোধ করায় টাকা দিয়েছেন এমন কয়েকজন জাপানির মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তাঁরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। তবে আজুমা সন্দেহ করেননি। কিন্তু বারবারই উদ্বোধনের তারিখ পেছানো হয়। একপর্যায়ে দারাদ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তখন আজুমা দম্পতি বুঝতে পারেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার।
বর্তমান অবস্থা: অধ্যাপক কাযুও আজুমা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী। বাংলা ভাষা ও বঙ্গভাষীদের কল্যাণে আজীবন নিজেকে নিবেদিত রেখে জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে তাঁকে এভাবে যে প্রতারণার শিকার হতে হবে, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেননি।
কেইকো আজুমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী অধ্যাপক কাযুও আজুমা সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন রবীন্দ্রচর্চায়। আমার স্বামী ও আমি বাঙালিদের ভীষণ ভালোবাসি। তাদের বিশ্বাস করি। দারাদ আহমেদকেও সেভাবে ভালোবেসেছি, বিশ্বাস করেছি। এর আগে বাঙালিদের নিয়ে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি আমাদের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যে এভাবে ঠকে যেতে হবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের সময় অধ্যাপক আজুমা তাঁর দোভাষী হিসেবে কাজ করেন এবং সেই সূত্রে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়। এ ছাড়া গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরের সময় তাঁর খোঁজখবর নেন। পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস সে সময় আজুমার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ফুলের তোড়া উপহার দেন।
কেইকো এখনো চান, ‘জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ বাস্তবায়িত হোক। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীকে ভালো করে চেনেন। গত বছর তাঁর জাপান সফরের সময় তিনি আমার স্বামীর খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং ওর জন্য ফুল পাঠিয়েছিলেন। আমি তাঁর কাছে ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More