Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Monday, July 4, 2011

 দলিল জালিয়াতি ও তথ্য লোপাটের চক্র


ঢাকার ১০টি ভূমি সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে আমমোক্তারনামার নিবন্ধন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়মিত ব্যাপার। জালিয়াতির কারণে মামলার সংখ্যাও অনেক। জালিয়াতির আরেক বড় ক্ষেত্র জেলার একমাত্র মহাফেজখানাটি।
নিবন্ধনের তথ্যপ্রমাণ থাকে মহাফেজখানায়। সুরক্ষা ও সংরক্ষণের অভাবে সেখান থেকে নিবন্ধনের তথ্য গায়েব হয়ে যাচ্ছে। দলিলের অবিকল নকল তোলা ও জমি কেনাবেচার সময় তথ্য যাচাই করতে মানুষ মহাফেজখানার দ্বারস্থ হয়। তখন ভোগান্তি ও খরচ লেগেই থাকে।
ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা বলেন, এ চিত্র পুরো দেশেই এক রকম।
আমমোক্তারনামা দলিল জালিয়াতি: মূল মালিক অন্য কোনো ব্যক্তিকে জমির তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা দেওয়ার জন্য আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দলিল তৈরি করে থাকেন। বিদ্যমান আইন অনুসারে আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি করতে কোনো ধরনের ছবি বা দালিলিক প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
সাব-রেজিস্ট্রাররা জানান, আইনগত এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসগুলোতে ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি হচ্ছে। ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এক উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসেই নয়টি ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল চিহ্নিত হয়েছে।
ভূমি নিবন্ধন অফিস ডিজিটালকরণ কমিটির পরামর্শক ও ভূমি নিবন্ধন অফিসের সাবেক পরিদর্শক নারায়ণচন্দ্র দাশ বলেন, আইনি দুর্বলতার সুযোগে সারা দেশে প্রচুর ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি হচ্ছে। জালিয়াতেরা দখল করে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের জমি। অন্যের জমি দখল করে বহুতল ভবন বানাচ্ছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে হাজার হাজার মামলাও রয়েছে। তিনি আরও জানান, একজন সাব-রেজিস্ট্রার একবার ভুলভাবে কোনো জমি নিবন্ধন করলে তা শুধরানোর সুযোগ তাঁর নেই। এ নিয়েও সারা দেশে প্রচুর মামলা হচ্ছে।
অরক্ষিত মহাফেজখানা: সাধারণত জমি নিবন্ধন হয়ে থাকে সাব-রেজিস্ট্রারের কক্ষে। এরপর নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় নিবন্ধন বইয়ে। যেকোনো নিবন্ধন বই এক বছর সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে থাকার পর তা সংরক্ষণের জন্য মহাফেজখানায় পাঠানো হয়। জমিজমাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের ভরসা এই মহাফেজখানা।
ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও ডিজিটালকরণ-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এই মহাফেজখানা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত নিবন্ধন বইগুলো বহু ব্যবহারে বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু, অপাঠ্য ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ জন্য তল্লাশিতে সময় ব্যয় হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
দলিলের তথ্য গায়েব: মহাফেজখানা সূত্র জানায়, তল্লাশি করতে গেলে মাঝেমধ্যেই সংরক্ষিত নিবন্ধন বইয়ের পাতা ছেঁড়া পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের ধারণা, জালিয়াত চক্র এসব করছে।
সম্প্রতি মহাফেজখানার ১৬৫ নম্বর নিবন্ধন বইয়ের ২৩১ থেকে ২৩৬ ও ১৩৯ থেকে ২৪৮ নম্বর পৃষ্ঠা এবং ১১৫ নম্বর বইয়ের ৫১ থেকে ৫৪ নম্বর পৃষ্ঠা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। এরপর সাব-রেজিস্ট্রার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কারওয়ান বাজারের ১২৮ নম্বর খতিয়ানের (সিএস দাগ ৯৪, ৯৫, ৯৬) ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ জমির মালিক একই এলাকার বাসিন্দা রাবিয়া খানম। খায়রুন্নেসা, ওয়াহিদা ইয়াসমীন, আবুল বাশার ও আবু তালেব মিয়া নামের চার ব্যক্তি নিজেদের এই জমির মালিক দাবি করে ভুয়া দলিল করেন। ভুয়া দলিলকে মূল দলিল হিসেবে প্রমাণ করার জন্য মহাফেজখানায় সংরক্ষিত মূল দলিলের তথ্য নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
গত ১৬ মে ভুয়া দলিলধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
সম্প্রতি ১৯৭৭ সালের ১০ নম্বর নিবন্ধন বইয়ের ৯১ থেকে ৯৪ নম্বর পৃষ্ঠাও ছেঁড়া পাওয়া গেছে। গত ১৫ মে সাভারের জ্যেষ্ঠ সহকারী হাকিমের (দেওয়ানি মামলা ৫৯৫৭/২০০৮) আদালত থেকে এ নিবন্ধন বইটি তলব করা হয়। কিন্তু যে জমি নিয়ে মামলা, সে তথ্যসম্পর্কিত পৃষ্ঠাগুলো ছিল না। এ-সম্পর্কিত সূচিবইও নষ্ট হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ১৯ জুন জমির মালিকানা নির্ধারণের জন্য মহাফেজখানা থেকে এ-সম্পর্কিত টিপবইটি আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা বড় লোভনীয়: গত ২১ জুন ঢাকার ভূমি নিবন্ধন অফিসের মহাফেজখানায় দলিলের নকল পাওয়ার নিশ্চয়তা না পেয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেন নুরুল ওহাব। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাঙ্গালগাঁও গ্রামে। তিনি জানান, তাঁর বাবা মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ থেকে ’৭৬ সালের কোনো একসময়ে প্রায় এক বিঘা জমি কিনেছিলেন। সে সময়ে নিবন্ধন হলেও জমির নামজারি হয়নি।
সম্প্রতি তাঁর ঘর থেকে সেই জমির মূল দলিল চুরি হয়ে গেছে। এর পর থেকেই কিছু ব্যক্তি নিজেদের ওই জমির মালিক দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মহাফেজখানার তল্লাশিকারক সচিন্দ্র চন্দ্র সাহা জানান, ১৯৭৪ থেকে ’৭৬ সালের নিবন্ধনের সূচিবই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর তথ্য খুঁজে বের করা দুরূহ কাজ।
গত ২৫ জানুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকারকে ঢাকার মহাফেজখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ঢাকা এবং এর আশপাশের জমির দাম লোভনীয় বলেই ঢাকার মহাফেজখানাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু জালিয়াত চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মূলত মহাফেজখানাটি দীর্ঘ সময় অরক্ষিত থাকায় এই চক্রটি জাল দলিল করে মহাফেজখানা থেকে মূল দলিল গায়েবের কাজটি করে যাচ্ছে।
মহাফেজখানাতেও মধ্যস্বত্বভোগী! মহাফেজখানাকে কেন্দ্র করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও রয়েছে। মহাফেজখানা থেকে দলিলের তথ্য খুঁজে বের করেন তল্লাশিকারকেরা। নকলনবিশেরা সেটার নকল তৈরি করেন। জেলা অফিসের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৩০ হাজার ২৫৭টি দলিলের নকল সরবরাহ হয়েছে। এ হিসাবে ১০টি অফিস থেকে প্রতিদিন ২০০টির বেশি দলিলের নকল সরবরাহ হয়ে থাকে।
কিন্তু সরকারি ফির বাইরে সাধারণত দুই হাজার টাকার নিচে ঢাকার মহাফেজখানার তল্লাশিকারকেরা নিবন্ধন বইয়ে হাত দেন না। কলম খোলেন না নকলনবিশও। অথচ জমি নিবন্ধনের তথ্য তল্লাশির জন্য সরকারি ফি প্রতিবছরের জন্য ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ৮০ টাকা। তল্লাশিকারকের প্রতিদিনের ফি তিন টাকা। দলিলের নকলের জন্য সরকারি ফি প্রতি ৩০০ শব্দে নয় টাকা এবং নকল লেখার জন্য নকলনবিশের সরকার-নির্ধারিত ফি প্রতি পাতা ১৫ টাকা।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা আসিফুর রহমান তমাল (২২) জানান, তিনি ১৯৯৬ সালের একটি দলিলের নকল তুলেছেন পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে। তল্লাশিকারক রুবেল মিয়া ১৯৬৩ সালের একটি দলিলের (নম্বর ৪৮৮৩) নকল সরবরাহের জন্য এই প্রতিবেদকের কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন।
যবে হবে, তবে ঘুচবে: ভূমি নিবন্ধন অফিসের দুর্ভোগ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, যুগোপযোগী আইনের অভাবে ভূমি নিবন্ধন অফিসে অব্যাহতভাবে জনদুর্ভোগ, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতি ঘটনা ঘটে থাকে। সবচেয়ে বেশি ত্রুটিপূর্ণ হলো আমমোক্তারনামা আইন। যে কারণে সরকার আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, ভূমি নিবন্ধনের জটিলতা দূর করতে নিবন্ধন-পদ্ধতি ডিজিটাল করার বিকল্প নেই। এ জন্য ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সূচি, মূল নিবন্ধন বই ও টিপবইয়ের প্রতিচ্ছবি (স্ক্যান করা কপি) ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। দলিলের ফরম অনলাইনে পাওয়া যাবে। ক্রেতা নিজেই সেই দলিল লিখতে পারবেন। এ জন্য কোনো দলিল লেখকের প্রয়োজন হবে না।

দুই দফা বেড়েছে বিভিন্ন মনিহারি পণ্যের দাম


চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, আটার দাম বাড়লে মানুষের যেমন নাভিশ্বাস ওঠে; তেমনি সরকারি-বেরসকারি পর্যায়ে আলোচনাও কম হয় না। তবে এর বাইরেও কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য আছে, যেগুলোর দাম বাড়লেও থেকে যায় আলোচনার বাইরে। মনিহারি পণ্যগুলোই আছে এই তালিকায়। উপায় না দেখে বেশি দামেই মানুষ মনিহারি পণ্য কিনছে।
গত মাসে বাজেট ঘোষণার আগে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বাজার ঘুরে বিভিন্ন মনিহারি পণ্যের দাম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। তখন এসব পণ্যের দাম ৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। দাম বেড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল: গায়ে মাখার সাবান, কাপড় ধোয়ার সাবান ও গুঁড়ো, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, শেভিং ক্রিম, মুখে মাখার ক্রিম, ফেসওয়াশ। এমনকি বেড়েছে মোমের দামও।
বাজেট ঘোষণার পরও কয়েকটি মনিহারি পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে কিছু পণ্যের দামে এখনো বাজেটের ছোঁয়া লাগেনি। তাই আগের দামেই এসব বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মনিহারি পণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়ে না। কিন্তু যখন বাড়ে, তখন একটু বেশিই বেড়ে যায়। বাজেটের আগে পরিবেশকেরা বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। একই অবস্থা হয় বাজেটের পরও।
গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে গায়ে মাখার সাবানের দাম ছয় টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ১০০ ও ১৫০ গ্রাম লাক্স সাবানের দাম ছয় টাকা করে বেড়ে হয় ২৬ ও ৩৬ টাকা। ১৩০ গ্রাম ওজনের ডেটল সাবানের দাম পাঁচ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ টাকায়। তিব্বত, মেরিল ও কেয়া সাবানের দাম বাড়ে দুই টাকা করে। আর বাজেটের পর ডেটল, মেরিল ও তিব্বত সাবানের দাম এক টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
বাজেটের আগে কাপড় ধোয়ার সাবানের দাম বাড়ে চার থেকে ১২ টাকা। এক কেজির ‘পঁচা’ সাবানের প্যাকেটের দাম ১২ টাকা বেড়ে হয় ৪০ টাকা। হুইলের দাম পাঁচ, চাকা ও তিব্বত বল সাবানের দাম চার টাকা করে বাড়ে। তবে ৪০ টাকার ‘পঁচা’ সাবানের প্যাকেটের দাম এখন ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। বাকিগুলোর দাম তেমন বাড়েনি।
বাজেটের আগেই কাপড় ধোয়ার পাউডারের (ডিটারজেন্ট) দাম বেড়েছিল দুই থেকে ১০ টাকা। তিব্বত, হুইল ও হুইল পাওয়ার হোয়াইট, চাকা, কেয়া, সার্ফ এক্সেল সবগুলো পাউডারের দামই মোটামুটি একরকম। তখন হুইল পাউডারের ২০০, ৫০০ গ্রাম ও এক কেজির দাম ছিল ১৩, ২৭ ও ৫২ টাকা। জানুয়ারিতে এই পাউডারগুলোর দাম ছিল ১০, ২৪ ও ৪৪ টাকা। আর বাজেটের পর এগুলোর দাম হয়েছে ১৪, ২৮ ও ৫৪ টাকা।
বাজেটের আগে বিভিন্ন কোম্পানির শ্যাম্পুর দাম বাড়ে ১০ থেকে ৫০ টাকা। তখন সানসিল্কের ৪০০ মিলিলিটার বড় কৌটার দাম ২৩৫ থেকে বেড়ে হয় ২৬০ টাকা। আর মাঝারি ও ছোট কৌটার দাম ১০ টাকা বেড়ে হয় ১৪০ ও ৭০ টাকা। অল ক্লিয়ার ৪০০ এমএল কৌটার দাম ২০ টাকা বেড়ে হয় ২৯০ টাকা। মাঝারি ও ছোট কৌটার দাম ১০ টাকা করে বেড়ে ১৭০ ও ৯০ টাকা হয়। ডাভ বড় কৌটার দাম ৪০ টাকা বেড়ে ৩৭০, মাঝারি কৌটা ৩০ টাকা বেড়ে ২১০ ও ছোট কৌটা ২৫ টাকা বেড়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। ২০০ এমএল গার্নিয়ার শ্যাম্পুর দাম ৭০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা হয়। গত দুদিনে দোকানিরা বলেছেন, এখনো এই দামেই শ্যাম্পু বিক্রি হচ্ছে।
টেলকম পাউডারের দামও বাড়ে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। ২০০ গ্রাম ওজনের তিব্বত পাউডারের দাম গত ছয় মাসে ৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। একই পরিমাণের জনসন পাউডারের দাম ৯৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৫ টাকা। তবে বাজেটের পর এই পাউডারের দাম আরও ১০ টাকা বেড়েছে।
তবে গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে নারকেল তেলের। গত তিন মাসে নারকেল তেলের দাম বাড়ে ৩০ টাকা। ২০০ গ্রাম জুঁই নারকেল তেলের দাম ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯০ টাকা। ৪০০ গ্রাম গন্ধরাজ তেলের দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৬৫ টাকা। ৫০০ গ্রাম প্যারাসুটের কৌটার দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৯০ টাকা। এখনো এই দামেই তেল বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে টয়লেট পরিষ্কারকের দামও। হারপিকের ছোট, মাঝারি ও বড় কৌটার দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১৩ টাকা। শক্তি ও ভ্যানিশ ব্র্যান্ডের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা করে।
দাম বাড়ানোর হাত থেকে রেহাই পায়নি মোমও। ছয় মাস আগে যেখানে ৩০ টাকায় এক ডজন মোম কেনা যেত, বাজেটের আগে ক্রেতাদের তা ৪২ টাকায় কিনতে হয়েছে। আর এখন এক ডজন মোম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
শনির আখড়ার মিয়া গিফট কর্নারের মালিক মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘কোম্পানি যে দাম নির্ধারণ করে, সেই দামেই আমাদের বিক্রি করতে হয়। আমরা চাইলেই কম দামে জিনিস বিক্রি করতে পারি না।’
গত ছয় মাসে ফেসওয়াশের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। পন্ডস ফেসওয়াশের বড় বোতলের দাম ৮৫ থেকে বেড়ে বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। ছোট বোতলের দাম ৫০ থেকে হয় ৫৫ টাকা। তবে পন্ডস স্ক্রাবের বোতলের দাম ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। ডাভ ফেসওয়াশের বড় ও ছোট বোতলের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে। মুখে মাখার ক্রিম ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির দাম বাড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা। তিব্বত ও পন্ডস স্নোর দাম পাঁচ টাকা করে বাড়ে।
শেভিং ফোমের দাম ছয় মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। ২০০ এমএল ফোমের কৌটার দাম ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮৫ টাকা। কোনো কোনো দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়। ১০০ এমএল কৌটার দাম ১১৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি কাজী ফারুক গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, নজরদারি না থাকায় এসব পণ্যের দাম সব সময়ই বাড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চাতুর্যপূর্ণ ব্যবসার কৌশল। এই কৌশলের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন পণ্যে একটু ওজন বাড়িয়ে এখন তা বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু যে পরিমাণ ওজন বাড়ানো হচ্ছে, দাম নেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

হয়রানি, ঘুষ আর দলিলজট

ঢাকা মহানগরের ১০টি ভূমি নিবন্ধন অফিসে মাসে গড়ে ১১ হাজারের কাছাকাছি দলিল নিবন্ধন করাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও জমির মালিকেরা। নিবন্ধনকারী অর্থাৎ সাব-রেজিস্ট্রার অবধি পৌঁছাতে তাঁরা দলিল লেখক ও নানা ধাপের দালালদের কাছে জিম্মি।
নিবন্ধনের পর পাকা দলিল হাতে পেতে ঘুরতে হচ্ছে বছরের পর বছর। আটটি অফিসে এখন জমে আছে অন্তত এক লাখ ৩৮ হাজার দলিল তৈরির কাজ। ছয় মাস ধরে নিবন্ধন বই বা বালামের (ভলিউম) সরবরাহ নেই। নেই নিবন্ধন ফি আদায়ের পাকা রসিদ।
ঢাকা মহানগর দেশের ভূমি অফিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করে। অথচ যাঁরা এই রাজস্বের জোগান দেন, প্রতিটি ধাপে তাঁদের পাওনা হয়রানির পাশাপাশি উপরি খরচ।
জেলা রেজিস্ট্রার সুভাষ চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে জানি, ঘুষ ছাড়া ভূমি নিবন্ধন অফিসে কোনো কাজ হয় না। কিন্তু আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই।’ তাঁর মতে, যত দিন পর্যন্ত দাতা ও গ্রহীতা স্বহস্তে দলিল না লিখতে পারবেন, তত দিন দলিল লেখক বা দালাল নামের মধ্যস্বত্বভোগীরা ফায়দা লুটবে। মানুষের হয়রানি চলতে থাকবে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে ভূমি নিবন্ধন অফিসের চিত্র এ রকমই।
তথ্যসংকট দিয়ে দুর্ভোগের শুরু: জেলা নিবন্ধন অফিসের তথ্য বলছে, ২০১০ সালে ঢাকার ১০টি সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে এক লাখ ৩০ হাজার ২৭০টি দলিল নিবন্ধন হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে ৩১ হাজার ৭১টি দলিল। এই হিসাবে প্রতি অফিসে মাসে গড়ে এক হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের দলিল নিবন্ধন হয়। একই হারে দলিলের নকলও সরবরাহ করা হয়।
জেলা অফিসের হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আয় হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। এটা সারা দেশের মোট ভূমি নিবন্ধন রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ। অথচ রাজস্বের জোগানদাতা ক্রেতা-বিক্রেতারা কোথায় গেলে কী সেবা পাবেন, আইন কী বলছে—এসব জানানোর ব্যবস্থা অফিসগুলোয় নেই।
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক, কিন্তু তেজগাঁওয়ের জেলা ভূমি নিবন্ধকের দপ্তরে কোনো তথ্য কর্মকর্তা পর্যন্ত নেই। নেই তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানোর কোনো জায়গা।
হয়রানি ও উপরি খরচ: দশ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুটি মিরপুর ও ডেমরায়। বাকি আটটি ঢাকা সদর, তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর ও উত্তরার সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিস তেজগাঁওয়ের জেলা নিবন্ধন দপ্তরের চত্বরে। সেখানে ১২ জুন দুপুরে কামরাঙ্গীরচরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম জানান, কোনো তথ্যকেন্দ্র না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি একজন দলিল লেখকের শরণাপন্ন হয়েছেন।
দলিল লেখকের ভূমিকা অনেকটা উকিলের মতো। ক্রেতা-বিক্রেতা চাইলে এঁদের কাছ থেকে আইনি ও দালিলিক সহায়তা নিতে পারেন। কিন্তু কার্যত অফিসের আঙিনায় পা দেওয়া মাত্র দলিল লেখক, তাঁদের সহকারী ও দালালেরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছেঁকে ধরেন। এঁদের এড়িয়ে কেনাবেচার কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এরপর নিবন্ধন অফিসের প্রধান কেরানি, অধস্তন কেরানি, পিয়ন, মোহরার, টিপসহি নেওয়া কর্মচারী এবং সাব-রেজিস্ট্রারের পাশে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে থাকা রাতের পাহারাদার তথা নাইটগার্ডদের খুশি না করে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ মেলে না।
তেজগাঁও থানার সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই মানুষের হয়রানি। অন্যদিকে দলিল লেখকেরা দোষ চাপান সাব-রেজিস্ট্রারদের ওপর।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ১৯০৮ সালের ভূমি নিবন্ধন আইনে ৬৩ ধরনের ভূমি নিবন্ধনের কথা বলা আছে। এর মধ্যে বেশি হয় চারটি—কবলা বা হস্তান্তর, হেবা, হেবার ঘোষণা ও দানপত্র। কবলার সরকারি ফি বিভিন্ন খাত মিলিয়ে জমির সরকারিভাবে নির্ধারিত মোট দামের নয় শতাংশ। এর জন্য জমির মালিকানার কাগজ, পরচা, নামজারি, দাখিলা বা খাজনা রসিদ ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ লাগে।
দলিল লেখকদের অভিযোগ, এসব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রতিটি নিবন্ধনের ক্ষেত্রেই সাব-রেজিস্ট্রারদের ঘুষ দিতে হয়। সরকারি হিসাবে জমির দাম কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা ঘুষের অন্যতম কারণ। জমির প্রকৃত দামভেদে ঘুষের পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। দলিল লেখক সমিতির মহাসচিব এম এ রশিদ বলেন, সাব-রেজিস্ট্রাররা তাঁদের নাইটগার্ড বা পিয়নদের মাধ্যমে ঘুষ দাবি করেন।
মগবাজারের (৩৪৬ নয়াটোলা) আবুল কাসেম (৬৫) ঢাকা সদর অফিসে গিয়েছিলেন আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) অর্থাৎ নিজের অনুপস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ককে ক্ষমতা দেওয়ার দলিল করতে। ১৭ মে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার রুহুল ইসলাম তাঁর নাইটগার্ড রানার মাধ্যমে তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। ঢাকা সদরের এই সাব-রেজিস্ট্রার নিবন্ধনের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) মুন্সী নজরুল ইসলামের ভাতিজা।
দলিল লেখক মাহবুব হোসেন অভিযোগ করেছেন, রুহুল ইসলামের দপ্তরে তাঁর একই রকম অভিজ্ঞতা হয়। এরপর দলিল লেখক সমিতি রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইজিআরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়। গত ২৯ মে আইজিআর রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ উত্তর আমি লিখিতভাবে জেলা রেজিস্ট্রারকে জানিয়েছি।’
দলিল লেখক আখতারুজ্জামান বলেন, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে তিনি বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। একই বিষয়ে তিনি দুদকেও অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জসিমউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি জমি রেজিস্ট্রেশনের আগ পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে দালাল বা দলিল লেখকদের কী অঙ্কের টাকা বিনিময় হয়, সেই তথ্য জানার সুযোগ আমার নেই। যদি লেনদেন হয়েও থাকে, সেই দায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে আমাকেই বহন করতে হবে।’
দলিল লেখকদের ফাঁদে: গত ১৫ জুন মহাখালী ডিওএইচএসের বাসিন্দা ফরিদ আক্তার একটি দলিল লেখার জন্য এক দলিল লেখককে তিন হাজার টাকা দেন। তিনি জানান, আশপাশের দালাল এবং নিবন্ধন অফিসের কর্মচারীরাও তাঁর কাছ থেকে টাকা খসিয়েছেন।
আইন অনুযায়ী একটি দলিল লিখে দেওয়ার জন্য লেখককে ৬৯ টাকা দিতে হয়। কিন্তু দলিল লেখকেরা একটি দলিল লিখে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাঁচ-ছয় হাজার এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুই-তিন হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন। তেজগাঁও দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ৬৯ টাকায় দলিল লিখে দিলে কারও সংসার চলবে না।
রসিদ ও নিবন্ধন বই নেই: সাব-রেজিস্ট্রারেরা জানান, বর্তমানে এই দশ দপ্তরে জমি নিবন্ধন ফি আদায়ের রসিদ বই নেই। তাঁরা সাদা কাগজে সিল-স্বাক্ষর দিয়ে তা জমির মালিকদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। সরকারের ছাপাখানা (বিজি প্রেস) থেকে সর্বশেষ রসিদ বই সরবরাহ করা হয়েছিল ২০১০ সালের আগস্টে।
নেই নিবন্ধন বই। ফলে নিবন্ধনের পর জমির দলিল হাতে পাওয়া আরেক সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া। জেলা নিবন্ধন অফিস সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি এক লাখ নিবন্ধন বই ছাপা হয়েছিল। এসব বই ফুরিয়ে গেছে প্রায় ছয় মাস আগে। যে কারণে নিবন্ধন বইয়ে তথ্য সংরক্ষণ এবং দলিল সরবরাহের কাজ পিছিয়ে পড়ছে। এক বছর ধরে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বিজি প্রেস নিবন্ধন বই সরবরাহ করছে না।
এক লাখ ৩৮ হাজার দলিলের জট: গত ১৩ জুন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে ১৪টি দলিল সরবরাহ করা হয়েছে। সূত্র বলছে, এসব দলিলের একটি ২০০৫ সালে, ১২টি ২০০৬ সালে এবং একটি ২০০৭ সালে নিবন্ধিত হয়েছিল।
জেলা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের আটটি সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসে বর্তমানে এক লাখ ৩৮ হাজার দলিল তৈরির কাজ ঝুলে আছে। এক গুলশান অফিসেই জমে আছে ৪৪ হাজার ৫০০ দলিল তৈরির কাজ। মোহাম্মদপুর অফিসে রয়েছে ২৭ হাজার, বাড্ডায় ২৩ হাজার ৩০০, উত্তরায় ২০ হাজার ৫৩৬, ঢাকা সদরে ১০ হাজার ৭২৮, সূত্রাপুরে নয় হাজার ৮৫৫ এবং খিলগাঁওয়ে দুই হাজার ৮৬১। সবচেয়ে কম ১৭৯টি দলিল লেখার কাজ অসমাপ্ত আছে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসে। মিরপুর ও ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসের এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও ডিজিটালকরণের লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান পদ্ধতির কারণে জমি নিবন্ধন শেষে কত দিন পর দলিল সরবরাহ করা হবে, সে সম্পর্কে সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে জমির ক্রেতাকে দলিল লেখকের ওপর নির্ভর করতে হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দলিল সরবরাহ করতে তিন মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় লেগে থাকে।
সাব-রেজিস্ট্রারেরা বলেন, নিবন্ধন শেষে তাৎক্ষণিক মূল দলিল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রতিটি অফিসে মাসে গড়ে এক হাজারের বেশি দলিলের নকল তৈরি করতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে মূল দলিল সংগ্রহ করতে এসে জমির মালিকদের আবারও হয়রানির শিকার হতে হবে এবং গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

আড়াই মাস পর হাজার কোটি টাকা লেনদেন

ঢাকা, জুলাই ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আড়াই মাস পর হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। সেই সঙ্গে বেড়েছে অধিকাংশ শেয়ারের দাম।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এ অর্থবছরে রাখার সরকারি ঘোষণা আসার পরদিনই চাঙা হয়ে ওঠে ঢাকার পুঁজিবাজার। বুধবার লেনদেনের পরিমাণ ছিলো ৯৩৭ কোটি টাকা, বৃহস্পতিবার ছিলো ৯৫৪ কোটি টাকা।

সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন আগের দুই দিনের অঙ্ক ছাড়িয়ে যায়। এ দিন লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ১৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সা¤প্রতিক সময়ে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিলো গত ১১ এপ্রিল ১ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

হরতাল হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্রোকারেস হাউস লেনদেনে অংশ নিলেই সচল হয় ডিএসই। এ কারণেই রোববার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টায়ই লেনদেন শুরু হয়।

সাধারণ সূচক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৬১৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৪৯টির। ৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিলো।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমআই/১৫১৫ ঘ.

'রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ হবে বাণিজ্যমন্ত্রীর বড় চ্যালেঞ্জ'

ঢাকা, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রমজানে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না থাকলে তার দায়ভার বাণিজ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "সামনে রোজার মাস, এটি বাণিজ্যমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এর দায়ভার তাকেই নিতে হবে।"

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে 'ভরাডুবি' আওয়ামী লীগের জন্য একটি সতর্ক সংকেত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু পুনরুজ্জীবীত করার আর সুযোগ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে গণতন্ত্রকে আর সমুন্নত করা যাবে না।"

তত্ত্বাবধায়ক রাখার দাবি বাদ দিয়ে আাগামীতে কীভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়- সে বিষয়ে আলোচনায় আসতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, সংবিধান এখন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালও ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট।
এ প্রসঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বলেন, "৪৮ ঘণ্টা, ৭২ ঘণ্টা হরতালে কোনো লাভ নেই, এতে জনগণ বিরক্ত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে সবাইকেই জনগণের মুখোমুখি হতে হবে।"

'হরতাল ও অযৌক্তিক কর্মসূচি দিয়ে তারেক, কোকো ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টার' প্রতিবাদে ঠিকানা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আওয়মী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া আলোচনায় অংশ নেন।

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআইএম/আরএম/আরএ/জেকে/১৭১৩ ঘ.

পুঁজিবাজার মন্দা

ঢাকা, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- হাজার কোটি টাকা লেনদেনের পরদিন সূচক পড়লো ঢাকার পুঁজিবাজারে। সেই সঙ্গে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন।

সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সকাল থেকে সূচকে ওঠানামা দেখা যায়। তবে দিন শেষে সাধারণ সূচক যেখানে অবস্থান করছিলো, তা আগের দিনের চেয়ে ৩৩ পয়েন্ট কম।

সপ্তাহের প্রথম দিন ৩৩ পয়েন্ট যোগ হয়ে সাধারণ সূচক দাঁড়িয়েছিলো ৬১৫৭ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৮৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার। আগের দিন লেনদেনের পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ১৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সা¤প্রতিক সময়ে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিলো গত ১১ এপ্রিল ১ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

লেনদেন হওয়া ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৮৫টির। ৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিলো।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমআই/এএল/১৫৫০ ঘ.

Saturday, July 2, 2011

২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য মেলা

আগামী ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলিতে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য মেলা ‘বাংলাদেশ এক্সপো-২০১১’। যুক্তরাজ্যভিক্তিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এক্সপোজিশন লিমিটেড প্রথমবারের মতো এ মেলার আয়োজন করছে।
বাংলাদেশ এক্সপো-২০১১-এর ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ইকবাল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুই দিনব্যাপী এ মেলায় বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রতিষ্ঠানের ৮১টি স্টল ও ছয়টি প্যাভেলিয়ন থাকবে। এসব পণ্য ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফ্যাশন হাউস, আবাসন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, পর্যটন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া মেলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরে ফ্যাশন শো, নাচ-গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মেলায় প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে বাংলাদেশের সুন্দরবনের পক্ষে ভোট চাওয়া হবে এবং প্রচার চালানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ এক্সপো-২০১১-তে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।
এক্সপোতে চ্যারিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেবা সংগঠন পেইন্টেড চিলড্রেন এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে এটিএন বাংলা।
এক্সপোতে বাংলাদেশের যেকোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More