Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Sunday, August 7, 2011

বনে বিরল তবে বাজারে বিকায়

ঢাকার কাপ্তানবাজারের পাখির দোকানে বিরল পাখি ধনেশ বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে ।


চট্টগ্রাম নগরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারের মূল ফটক দিয়ে কিছুদূর এগোলেই ডান দিকে ‘পাখির গলি’। গলির মুখেই রমজান চাচার দোকান। সেখানে সম্প্রতি একদিন গিয়ে দেখা গেল, চারটি খাঁচায় দুটি কাক, ছয়টি কবুতর ও তিনটি খরগোশ রাখা। নির্ভেজাল পোষা পশুপাখির কারবার। 
কিন্তু রমজান চাচার কাছে ‘নতুন পশুপাখি কী আছে?’ জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল ‘আসল জিনিসের’ খবর। ক্রেতা ঠাউরে চাচার জবাব, ‘কী লাগবো কন। ভালুকের পিত্ত (গলব্লাডার) দেওয়া যাইবো ১০টা। দাম ৩০ হাজার টাকা কইরা। তাজা অজগর এক লাখ। দুই মাস টাইম দিলে বেঙ্গল বাঘের চামড়াও আইনা দিমু।’
রমজান চাচা আরও জানান, অজগর ও মেছোবাঘের চামড়াও দিতে পারবেন তিনি। পাঁচ হাজার টাকায় মিলবে জ্যান্ত কেউটে বা শঙ্খিনী সাপ।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এভাবেই অবৈধভাবে বাজারে ঠাঁই পাচ্ছে অনেক বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণী। চোরা শিকারিদের হাত ঘুরে তাদের জায়গা হচ্ছে খোদ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন তথাকথিত ‘পাখির বাজারে’। দেশের গুরুতর ঝুঁকির মুখে থাকা জীববৈচিত্র্য ক্রমেই বিপন্নতর হচ্ছে। 

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা থেকে উদ্ধার করা বাঘের চামড়া, হাড় ও চারটি মাথা।
কবুতর-খরগোশ ও বাহারি পাখির আড়ালে বিক্রি হচ্ছে বিপন্ন বাঘ, ভালুুক, উল্লুক, হনুমান এবং ধনেশ ও মদনটাকের মতো বিরল পাখি। অভ্যন্তরীণ চোরাবাজার থাকার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ বন্য প্রাণী পাচারেরও অন্যতম নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। বন্য প্রাণী ব্যবসার ওপর নজরদারি করা আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ট্রাফিক’-এর ২০১০ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ বন্য প্রাণীর ব্যবসা হয়ে থাকে।
রাজধানীর কাঁটাবনে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণি কেন্দ্রটির পোষা পশুপাখির দোকানের অনেকগুলোতেই অবৈধভাবে বন্য প্রাণী বিক্রি হয়ে থাকে। সেখানে রংবেরঙের পোষা পাখি, খরগোশ ও কুকুরের পাশাপাশি প্রায়ই ঈগল ও কালিমসহ বিভিন্ন পাখি এবং ছোটখাটো বন্য প্রাণী এক রকম প্রকাশ্যেই বিক্রি হয়। সম্প্রতি এক দিন গিয়ে চুপিচুপি অজগর ও কুমির আছে কি না জানতে চাইলে বেশ কয়েকজন দোকানি টেলিফোন নম্বর দিয়ে জানালেন, কী লাগবে তা ওই ফোনে জানাতে। মাঝেমধ্যে কর্তৃপক্ষের অভিযানের পরও এ বাজারে বছরের পর বছর ধরে বন্য প্রাণীর ব্যবসা চলছে। 
রাজধানীর কাপ্তানবাজারের মুরগিপট্টির বিপরীতে নতুন গড়ে ওঠা পাখির দোকানগুলোতে তেমন রাখঢাক ছাড়াই বন্য প্রাণীর ব্যবসা চলে। ‘বিসমিল্লাহ বার্ডস’ নামের দোকানে গিয়ে বন্য প্রাণী কিনতে চাইলে দোকানি ক্যাটালগ বের করে বললেন, ‘কোনটা লাগবো, অরজিনাল জঙ্গল থিক্যা আনা।’ 
এখানকার আরেক দোকান ‘বার্ডস হাউস’-এ পাওয়া গেল হাওরের বিরল চারটি কালিম পাখি। এর পরের খাঁচায়ই দেশে বিলুপ্তপ্রায় পাখি বিশাল ঠোঁটের ধনেশ। দোকানি ইমরান জানালেন, প্রতিটি ধনেশ ৩০ হাজার টাকা। ১২টি দেওয়া যাবে। সুন্দরবন থেকে আনা ছয়টি মদনটাক পাখি গুদামে আছে। এ পাখিটিও অতিবিপন্ন। 
টঙ্গী ব্রিজের শেষ মাথায় রোববারে বসে বিশাল কবুতরের হাট। ২০০ থেকে ৩০০ দোকান বসে এই হাটে। সপ্তাহ দুয়েক আগের এক রোববারে সেখানে গিয়ে দেখা যায় নানা প্রজাতির কবুতরের সঙ্গে ঘুঘু, কালিম ও বেজি বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ বিক্রেতাই টিয়া, ময়না, বক, কোকিলসহ নানা জাতের বন্য পাখি নিয়ে বসেছেন। বিকেলে নৌপথে এখানে অজগরসহ নানা প্রজাতির সাপ আনা হয় বলে জানালেন কয়েকজন বিক্রেতা।
উত্তর-পূর্বের জেলা নেত্রকোনার ভারত-সীমান্তবর্তী উপজেলা কলমাকান্দায়ও বসে বনবিড়াল, গন্ধগোকুল, লামচিতা, সাপসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণীর হাট।
কোথা থেকে কোথায় যায়: অনুসন্ধানে জানা গেছে, চোরা শিকারিরা সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বন্যপ্রাণী ধরে বাজারে চালান দেয়। ভারতীয় সীমান্ত দিয়েও চোরাপথে আসে বেশ কিছু বন্য প্রাণী। চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মিয়ানমার সীমান্ত পথে অনেক বন্য প্রাণী বাইরেও পাচার হচ্ছে। থাইল্যান্ড, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ এগুলোর সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাধিক পোষা পশুপাখির ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, দেশের দুই প্রধান দলের দুজন সাবেক সাংসদ এ ব্যবসার অন্যতম ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী বর্তমান সাংসদ তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্য প্রাণী পাচার করে থাকেন বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

ভালুকের পিত্ত হাতে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের দোকানি রমজান
বাঘ-হাঙরের চামড়া পাচার: ‘প্রজেক্ট অন টাইগার’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বছরে দুই থেকে তিনটি বাঘ চোরা শিকারিদের হাতে মারা পড়ে। এ ছাড়া কমপক্ষে দুটি বাঘ মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশের (ডব্লিউটিবি) হিসাবে শিকারিদের হাতে বছরে ১০ হাজার হরিণ মারা পড়ছে। দেশে মাঝেমধ্যেই বাঘের চামড়া বা দেহাবশেষ আটকের ঘটনা ঘটে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলায় বেঙ্গল টাইগারের তিনটি চামড়া, চারটি খুলি ও ৩০ কেজি হাড়সহ একজন ধরা পড়ে। ৬ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের থানচির জঙ্গল থেকে বেঙ্গল টাইগার মেরে এর চামড়া ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেয় স্থানীয় বম জাতিগোষ্ঠীর কিছু মানুষ।
নদী ও সাগর থেকেও হাঙর, কুমির, ঘড়িয়াল ও কচ্ছপ দেদার ফাঁদ ও বিভিন্ন কায়দায় ধরা হচ্ছে। দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠান ‘বৈধ’ অনুমোদন নিয়ে রপ্তানি করছে হাঙর, শাপলাপাতা মাছ (স্টিংরে) ও কচ্ছপের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। আর অবৈধ পথে যাচ্ছে সাপ, কুমির ও অতিবিরল ঘড়িয়াল। বিরল পাখিও আছে পাচারের তালিকায়। বাঘ ও ভাল্লুকের চামড়া ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ওষুধ, গহনা ও গৃহসজ্জাসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহূত হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেঙ্গল টাইগারের চামড়ার দাম ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা। মেছোবাঘ ও লামচিতার চামড়া মিলবে ২০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়। জ্যান্ত মেছোবাঘ বা লামচিতা এক থেকে দুই লাখ টাকায় পাওয়া যাবে বলে জানান একজন ব্যবসায়ী। তিনি জানান, জ্যান্ত ভালুক, উল্লুক ও হনুমানও মোটা দামে বিক্রি হচ্ছে। 
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বনে বাঘ, সমুদ্রে হাঙর ও নদীতে কুমির প্রাণচক্রের সর্বোচ্চ স্থানে থাকা প্রাণী। এরা অন্য প্রাণীদের খেয়ে বাস্তুসংস্থান ঠিক রাখে। এদের এ হারে মেরে ফেলতে থাকলে একসময় বন-জলাভূমির প্রাণচক্র ভেঙে পড়বে। বন্য প্রাণী একবার বিলুপ্ত হয়ে গেলে তাদের আর ফিরে পাওয়া যাবে না।’
দেশের একমাত্র বৈধ কুমিরের খামার রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেছেন, পরিচয় গোপন করে অনেকে তাঁদের কাছে আন্তর্জাতিক বাজারের তিনগুণ বেশি দামে কুমির কেনার প্রস্তাব দিচ্ছে। বিনিময়ে কুমিরের চালানের সঙ্গে অন্য বন্য প্রাণীও পাচারের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
বায়ো-কেমিক্যাল অ্যান্ড সি ফুড এক্সপোর্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম জানান, গত অর্থবছরে তাঁর প্রতিষ্ঠানসহ ১২ জন মিলে মোট প্রায় ৬০ কোটি টাকার হাঙরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কচ্ছপের খোল ও মাংস এবং শাপলাপাতা মাছ রপ্তানি করেছেন। 
চট্টগ্রাম বন্দরের শুল্ক বিভাগের কমিশনার জামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাঙর নিষিদ্ধ হলে তা রপ্তানি হওয়ার কথা না। তবে বিষয়টি আমার জানা নেই।’ 
বিপন্ন বিরল প্রাণী ভালুক: ভালুকের পিত্ত বিক্রির সবচেয়ে বড় বাজার চট্টগ্রাম। এ দিয়ে তৈরি হয় ওষুধ। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ভালুকের পিত্ত সরবরাহ হয়ে থাকে। ওই অঞ্চলের চোরা শিকারিরা ফাঁদ পেতে ভালুক ধরে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পাশাপাশি জ্যান্ত প্রাণীটিও বিক্রি হয়ে থাকে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নিয়মিতভাবে জীবিত ভালুক ও এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার হয়ে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও তাইওয়ানের মানুষ এর সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ১৯৯১ সালের ১৯ জুন চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে অপেক্ষমাণ কোরীয় জাহাজ ‘সিইয়াং’-এ অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ ছয়টি জীবিত ভালুক ও ২৪টি বানর উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দেওয়া হয়। ওই জাহাজের মালিকদের জরিমানা করা হয়েছিল। 
বিশেষজ্ঞের উদ্বেগ: পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তালিকায় অতিবিপন্ন প্রাণী হিসেবে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার (সুন্দরবনের বাঘ), মেছোবাঘ, লামচিতা ও কালো ভালুকের নাম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে গন্ডার, জলার কুমির, হায়েনা, নেকড়েসহ মোট ১৫ প্রজাতির বন্য প্রাণী। 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনিরুল আলম খান এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাঘ-ভালুকের সংখ্যাও দিন দিন কমে আসছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশ থেকে বন্য প্রাণী চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’
অধ্যাপক মনিরুল আলম খান বন্দরগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বন্য প্রাণী চিহ্নিত করা ও পাচার রোধে সচেতন করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন। তাঁর মতে, একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে সক্রিয় করতে হবে।
প্রধান বন্য প্রাণী সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বন্য প্রাণী রক্ষায় আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা না পেলে এই অনৈতিক ও অবৈধ ব্যবসা থামানো যাবে না।’ কাঁটাবন মার্কেটে অবৈধ বন্য প্রাণীর ব্যবসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাজারে কিছুদিন পরপর অভিযান চালিয়ে বন্য প্রাণী পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এটি বন্ধ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

Friday, July 29, 2011

সেই কাবো থেকে আবার উড়োজাহাজ ভাড়ার চেষ্টা

বাংলাদেশ বিমানের হজ-ফ্লাইটের জন্য নাইজেরিয়ার বিতর্কিত সেই কাবো এয়ারলাইনস থেকে আবারও উড়োজাহাজ ভাড়ার তৎপরতা চলছে।
বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অন্যান্য দরদাতার চেয়ে কাবোর উড়োজাহাজের ভাড়া অনেক বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে। তার পরও কাবো থেকেই উড়োজাহাজ ভাড়া করতে চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। এই অবস্থায় বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিমান সূত্র জানায়, আগামী হজ-ফ্লাইটের জন্য দুটি বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজ ভাড়া করার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তিন দফা দরপত্র আহ্বান (আরএফপি—রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) করে।
প্রথম দফায় চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তাতে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল অস্ট্রেলিয়ার অজবান অ্যারোনটিক্যাল সার্ভিসেস। তারা হজ উপলক্ষে তিন মাসের জন্য উড়োজাহাজটির প্রতি উড্ডয়ন ঘণ্টা নয় হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছিল। আর এক বছরের জন্য অপরটির অবশ্য অনেক কম দর প্রস্তাব করেছিল। এ সময় কাবো এয়ারের প্রস্তাব ছিল তৃতীয় সর্বনিম্ন দর।
জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহম্মদ জাকিউল ইসলামও বলেন, অজবানের চেয়ে কাবোর দরপ্রস্তাব ছিল অনেক বেশি। অজবান সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও তারা শর্ত দেয় যে তাদের দুটি উড়োজাহাজই ভাড়া নিতে হবে। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার আটলান্টা আইসল্যান্ডিকের কাছ থেকে একটি বোয়িং এক বছরের জন্য ভাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই বিমান অজবান থেকে হজের জন্য একটি বোয়িং ভাড়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তাই আরও দুবার আরএফপি করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ ৩ জুলাই তৃতীয় দফা দরপত্র বা আরএফপি করা হয়। তাতে কাবোসহ মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিদেশি একটি উড়োজাহাজ লিজিং কোম্পানির ঢাকার একজন প্রতিনিধি প্রথম আলোকে বলেন, বিমানের কার্যক্রমে মনে হয়েছে, তারা কাবো থেকেই উড়োজাহাজ ভাড়া করতে নানা কারসাজি করছে, তাই তাদের মতো অনেকে দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী হয়নি।
বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, তারাও একই রকম অভিযোগ পেয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভায়ও এ নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে কাবো থেকে উড়োজাহাজ ভাড়ার বিপক্ষে মত দেন পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য। তাঁদের মতে, কাবোর মতো বিতর্কিত এয়ারলাইনস থেকে আবার হজের জন্য উড়োজাহাজ ভাড়া করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।
বিমানের এমডি স্বীকার করেন, কাবোর প্রস্তাব নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে সমালোচনা হয়েছে। তাই আরেক দফা প্রস্তাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সেটা দরপত্র বা আরএফপি নয়, সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিমানের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে প্রস্তাব চাওয়া।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভায়ও কাবো থেকে উড়োজাহাজ ভাড়া করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বিমান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে কমিটির সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল প্রথম আলোকে বলেন, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বিমান এখন এক বছরের জন্য একটি বোয়িং-৭৪৭-৪০০ ভাড়া নিতে চায়। এখন দুটি এয়ারলাইনসের প্রস্তাব আছে। এর একটি এয়ার আটলান্টা আইসল্যান্ডিক, আরেকটি কাবো। এর মধ্যে ভালো প্রস্তাবটিই গ্রহণ করতে বলেছে কমিটি।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, গত বছর ব্যর্থ হয়ে এবার আরও আটঘাট বেঁধে কাবোর পক্ষে একটি মহল চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে। এর আগে গত বছর হজ-ফ্লাইটের জন্য কাবো থেকে ২৬ বছরের পুরোনো ত্রুটিপূর্ণ একটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিল। এ নিয়ে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত বিমানমন্ত্রী জি এম কাদের রাজি না হওয়ায় সেটি ভাড়া করা হয়নি। তখন এ নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী কমিটি ও বিমানের চেয়ারম্যানের বেশ টানাপোড়েন, এমনকি মন্ত্রীর পদত্যাগের মতো পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিল।
এ বছর উড়োজাহাজ ভাড়া প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত, এমন একজন পদস্থ কর্মকতা এ প্রতিনিধিকে বলেন, তাঁরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছেন, তাতে কাবো থেকে একটি ৫৮২ আসনের বোয়িং তিন মাসের জন্য ভাড়া করা হলে হজফ্লাইট নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যাবে।
বিমানের হজযাত্রী পরিবহন শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর। এবার বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা এক লাখ আট হাজার। এর মধ্যে ৪৪ হাজার বিমান পরিবহন করবে বলে জানিয়েছেন এমডি জাকিউল ইসলাম। বাকি ৬৬ হাজার সৌদিয়াসহ অন্যান্য দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা পরিবহন করবে।

ছোলার বাজার এখনো চড়া

পবিত্র রমজানে অপরিহার্য পণ্য ছোলার দাম এখনো চড়া। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে চিনি ও ভোজ্যতেলের অস্থিরতা কাটলেও ছোলার বাজারে তার ছাপ নেই।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে ছোলার দাম কমেছে, কিন্তু তার কোনো লক্ষণ খুচরা বাজারে দেখা যাচ্ছে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ছোলার চড়া দাম দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা সাধারণ মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর মিয়ানমারের অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের ছোলার দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশই (টিসিবি) বলছে, গত এক মাসেই ছোলার দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে সাড়ে তিন মাস আগেও ছোলার দাম ছিল মাত্র ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এখন অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা সাধারণ মানের ছোলার আমদানি ব্যয় পড়ে কেজিতে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা। মিয়ানমার থেকে আনা ছোলা সাড়ে ৫৮ থেকে সাড়ে ৫৯ এবং ইথিওপিয়া থেকে আমদানি করা ছোলার খরচ পড়ছে ৪৯ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫৩ টাকা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ছোলা চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। মিয়ানমারের ছোলা ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। আর ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার ছোলা ৬৫ থেকে ৭০ এবং মিয়ানমারের ছোলা ৮৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কেন ছোলার বাজারের এই অবস্থা, সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে আমদানিকারকেরা বললেন সরবরাহের ঘাটতির কথা। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকেরা বলেন, শুধু রমজানেই দেশে ছোলার চাহিদা ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টন। কিন্তু গত পাঁচ মাসে ছোলা আমদানি হয়েছে মাত্র ৬৭ হাজার টন। এর বেশির ভাগই আবার বিক্রি হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, গত বছরের জুনে ছোলা আমদানি করা হয়েছিল ৪৫ হাজার টন। এ বছরের জুনে আমদানি হয়েছে মাত্র নয় হাজার টন। এর কারণ হিসেবে ওই সূত্র বলছে, বাংলাদেশে ছোলা আমদানির প্রধান উৎস (৯৫ শতাংশ) অস্ট্রেলিয়ায় বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো মানের ছোলার অভাব দেখা দিয়েছে। দামও বেড়েছে। এ কারণে দেশেও ছোলার দাম বেশ চড়া।
চলতি মাসে নয় হাজার ১৬৯ টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। তবে আগামী দুই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া, ইথিওপিয়া ও মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ ছোলা আমদানি হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকারিতে কমেছে: গতকাল রাজধানীর রহমতগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ডালপট্টিতে সাধারণ ছোলা পাইকারি ৫৮ থেকে ৬০ এবং উন্নতমানেরটি সর্বোচ্চ ৭১ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই ধরনের ছোলাতেই কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা দাম কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দাম আরও কম। সেখানে সাধারণ ছোলা ৫৩ ও উন্নতমানের ছোলা ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল বশর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাধারণ মানের ছোলা ৫৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী এর চেয়েও কম দামে বিক্রি করছেন।
‘নারায়ণগঞ্জ জেলা ডাল ভুষা মাল ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপ’-এর নির্বাহী পরিচালক ও বেঙ্গল ট্রেডার্সের মালিক বিকাশ চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামে ডাল আমদানিকারকদের ওপর সরকারি নজরদারি বাড়ানোর কারণে ছোলার দাম কমে এসেছে।
বন্দরনগরে দাম কম হলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন নেই কেন জানতে চাইলে একজন আমদানিকারক বলেন, তাঁরা খুব বেশি লাভে ছোলা বিক্রি করছেন না। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারাই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। পাইকারেরা বলছেন, ছোলার দাম কমেছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা দিচ্ছেন পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কেনার অজুহাত।
তবে সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই একটি বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন। তা হলো রোজার বাড়তি চাহিদা বুঝে অতিরিক্ত মুনাফা করার মানসিকতা থেকেই দাম বাড়ানো হচ্ছে পণ্যটির।

ব্যবসায়ীরা তো দেখি বেশ বোকা!

প্রতিবছর রমজান মাস আসার আগে যখন জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে, তখন সবাই বলাবলি করতে থাকেন, ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। এর মানে হলো, ব্যবসায়ীরা চাইলেই জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারেন এবং তাঁরা আর কোনো মাস নয়, শুধু রমজান মাসটাকেই বেছে নেন দাম বাড়ানোর জন্য। যদিও তাঁরা জানেন, এ মাসের অনেক আগে থেকেই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকার অনেক সতর্কতামূলক কথা বলতে থাকে, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এ সময় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে শোরগোল তোলে এবং এর পরও তাঁরা এই সংবেদনশীল সময়টাকেই বেছে নেন দাম বাড়ানোর জন্য।
ব্যবসায়ীরা যদি ইচ্ছা করেন কোনো দ্রব্যের দাম ভবিষ্যতে বাড়বে, তাহলে দেখা যায়, সেটি এখন থেকেই বাড়া শুরু করে। কারণ, ব্যবসায়ী ওই মুহূর্ত থেকে দ্রব্যটির সরবরাহ কমিয়ে দেবে ভবিষ্যতে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য। তাই রমজান মাসে যদি আশা করা হয় কোনো জিনিসের দাম বাড়বে, তাহলে এর দাম আগে থেকেই বাড়বে। তাহলে ব্যবসায়ীরা কেন প্রত্যাশা করেন, রমজান মাসে পণ্যের দাম বাড়বে? যদি আমরা ধরে নিই, ওই দ্রব্যের সরবরাহজনিত কোনো সমস্যা নেই, তাহলে দামটা বেড়েছে চাহিদা বাড়ায়। চাহিদা আর সরবরাহের বিশ্লেষণ একটু জটিল হওয়ায় অনেক বিশ্লেষক সেদিকে না গিয়ে সোজাসুজি ‘সিন্ডিকেট থিওরি’ প্রয়োগ করেন। তাঁরা বলতে চান, ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছেন।
সিন্ডিকেটকে অর্থনীতির পরিভাষায় বলা হয় কার্টেল। এ ধরনের কার্যকলাপ প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থার পরিপন্থী হওয়ায় অনেক দেশে এটা আইনের চোখে নিষিদ্ধ। কিন্তু এই সিন্ডিকেট-তত্ত্ব বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। কিছু হলেই টিভি, মিডিয়া ও টকশোগুলোতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সিন্ডিকেট-তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়। বাস্তবে এই সিন্ডিকেট প্রমাণ করাটা বেশ কঠিন কাজ। সাধারণত সরবরাহ ও চাহিদার অনেক নিয়ামকের যেকোনো একটির পরিবর্তন দ্বারাই দ্রব্যের মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। সেগুলোর যথাযথ বিশ্লেষণে না গিয়ে এ প্রসঙ্গ আসামাত্র সিন্ডিকেট-ব্যাখ্যায় চলে যাওয়া একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সিন্ডিকেট যদি এতই শক্তিশালী হবে, তাহলে তো জিনিসপত্রের দাম কখনোই কমার কথা নয়। যখন দাম কমে যাবে, তাহলে তখন কি আমরা ধরে নেব যে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘যাক বাবা, অনেক তো লাভ হলো; চলুন, আমরা এবার সবাই মিলে দাম কমিয়ে কিছু লোকসান করি। নয়তো ব্যাপারটা একটু খারাপ দেখা যায়।’
অনেকে বলেন, রমজান মাসে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেন ভোক্তাদের চাহিদা বৃদ্ধির। ব্যবসায়ীরা অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলতে পারেন, রমজান মাসে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগটা তাঁদের দেওয়া হয় বলেই তাঁরা এ সুবিধা নেন। আমরা সব সময় আশা করি, ব্যবসায়ীর কাজ হচ্ছে সর্বদা ন্যায্য দামে বিক্রি করা। ন্যায্য দাম বলতে আমরা অবশ্যম্ভাবীভাবেই আমাদের মনের মতো কম দামকেই মনে করি।
অর্থনীতিতে ন্যায্যমূল্য ব্যাপারটা সংজ্ঞায়িত করা খুব কঠিন কাজ। চালের দাম কত হলে ন্যায্য হয়? বহুল আলোচিত আর বিতর্কিত ১০ টাকা কেজি? কেউ বলতে পারে, পাঁচ টাকা হলে ভালো হয়। কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে বলতে পারে, সবচেয়ে ন্যায্য দাম হবে বিনা পয়সায় চাল দেওয়া, বিশেষত গরিব মানুষকে। এদিকে, একজন চাষি বলতে পারেন, আমার তো এক কেজি চাল উৎপাদন করতে খরচই পড়ে যায় ২০ টাকার মতো। আমি তো কোনোমতেই এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে পারব না। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ন্যায্য দামের দাবি চটজলদি করা যায়, কিন্তু ন্যায্য দামটা কত হবে জিজ্ঞেস করলে অনেকেই বিপদে পড়ে যাবেন।
অর্থনীতির পরিভাষায়, একটি বাজার যদি যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিযোগিতামূলক হয়, তাহলে কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনে মিলে একটি জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করেন। কখনোই একজন বিক্রেতার হাতে অসীম ক্ষমতা থাকে না মূল্য নির্ধারণের। সত্যি কথা বলতে কি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতিতে বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীদের হাতে তেমন ক্ষমতাই নেই।
আপনি যদি গত পাঁচ বছরের পেঁয়াজের খুচরা মূল্য লেখচিত্রে দেখেন, তাহলে দেখা যাবে, বছরের মাঝামাঝি বা তার পর থেকে (যা রমজানের আগের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়) দাম বাড়ছে এবং বছরের শেষ ভাগ পর্যন্ত দাম কমছে না (যেটি ঈদুল আজহা পর্যন্ত বিস্তৃত)। শুধু পেঁয়াজ নয়, যেকোনো উৎসবে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যে এই একই ধারা দেখা যেতে পারে। এর কারণ আর কিছুই নয়, উৎসবের সময়গুলোতে এসব পণ্যের বর্ধিত চাহিদা।
আমি কিন্তু মনে করছি না যে ব্যবসায়ীরা ধোয়া তুলসীপাতার মতো পবিত্র—তাঁরা কখনো কোনো অন্যায় করেন না। ব্যবসায়ীরা অবশ্যই কারসাজি করে দাম বাড়াতে পারেন, তাঁরা অনেক সময় এটা করেনও। বিশেষ করে, যেসব পণ্যের বিক্রেতার সংখ্যা অনেক কম, সেখানে এই কারসাজি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কিন্তু যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁদের অভিযুক্ত করতে হবে। অনেক দেশেই এ-সংক্রান্ত আইনে পরিষ্কার বলা আছে, ব্যবসায়ীদের কী ধরনের কৌশল (অবশ্যই প্রমাণ সাপেক্ষে) প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিপন্থী এবং এ জন্য কী ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত।
সবচেয়ে বড় কথা, রমজান মাসের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, রমজান মাসে টিভি-রেডিওতে যতই বয়ান করে সংযমের কথা বলা হোক না কেন, এ মাসটিতেই আমরা চরম অসংযমের পরিচয় দিই। এটাকে অনেকের কাছে মনে হতে পারে, একটা খাদ্য-উৎসবের মাস। দিনের বেলায় অভুক্ত থেকে আমরা আমাদের যাবতীয় ক্ষুধা-পিপাসা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি ইফতারের টেবিলে। বাজারমূল্য আমাদের এই আচরণের জ্বলন্ত সাক্ষী। কিন্তু আমরা তা বুঝি না বা বুঝতেও চাই না। আমরা নির্দ্বিধায় ব্যবসায়ীদের ওপর আমাদের এই অসংযমের দায়ভার চাপিয়ে থাকি। রমজান মাসে জিনিসপত্র অন্যান্য সময়ের মতো দামেই যদি আমরা পেতে চাই এবং যদি সরবরাহের তেমন কোনো ঘাটতি না থাকে, তাহলে আমাদের নিজেদের একটু সংযত করতে হবে। তাহলে বাজারে চাহিদার বৃদ্ধি ঘটবে না, ব্যবসায়ীদের মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হবে না এবং জিনিসপত্রের দাম রমজান মাসে বাড়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যাবে। মুখে সংযমের কথা বলে ইফতারের সময় ভূরিভোজে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর যা-ই হোক, খাদ্যদ্রব্যের দাম কমিয়ে রাখা যাবে না।
ড. রুশাদ ফরিদী: সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
rushad@econdu.ac.bd প্রথম আলো

Tuesday, July 26, 2011

সূচক কমলেও ৮৬২ কোটি টাকার লেনদেন

দ্বিতীয় ঘণ্টার লেনদেন শেষে আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৮৬২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তবে সূচক কিছুটা কমলেও বেড়েছে শতাধিক শেয়ারের দাম।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। বেলা ১১টা পাঁচ মিনিটে সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। প্রথম ঘণ্টা শেষে ডিএসইতে সূচক কিছুটা বাড়লেও বেলা একটায় সূচক ১৪.৭৪ পয়েন্ট কমে ৬,৬৮১.৬৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এ সময় লেনদেন হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ১২১টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
এখন পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে তিতাস গ্যাস, আরএন স্পিনিং, এনবিএল, গ্রামীণফোন, কেয়া কসমেটিকস, সামিট পাওয়ার, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, এমআই সিমেন্ট, ওয়ান ব্যাংক ও এবি ব্যাংক।
অন্যদিকে বেলা একটায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক ৩৬.৪৯ পয়েন্ট বেড়ে ১২,৩২৬.৩৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ সময় লেনদেন হওয়া ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৭১টির, কমেছে ১১২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। মোট লেনদেন হয়েছে ৮৯ কোটি টাকার।প্রথম আলো

 চায়ের নিলাম বাজার প্রথমবার ক্রেতাশূন্য

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো ‘চায়ের নিলাম বাজার’ আজ মঙ্গলবার ছিল ক্রেতাশূন্য। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এ বাজারে প্রথমবারের মতো কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। সরকার নিলাম মূল্যের ওপর নতুন করে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আরোপ করার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা চা কেনা বন্ধ রাখেন। এতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নিলাম বাজার সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সারা দেশের চায়ের নিলাম হয় চট্টগ্রামে। প্রতি নিলামে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার চা বিক্রি হয়।
জানা গেছে, আগের নিয়মে ক্রেতাদের ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ২ শতাংশ পাইকারি মূল্য কর দিতে হতো। সে হিসেবে প্রতি নিলাম মূল্যে চা কেনার পর ক্রেতাদের ১৭ শতাংশ কর দিতে হয়। নতুন করে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আরোপের ফলে এ কর দাঁড়াবে ২২ শতাংশে। আগের নিয়মে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার চা বিক্রি হলে সরকার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার মতো রাজস্ব পেত। আজকে নিলাম বন্ধ থাকায় সরকার এ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলো।
বাংলাদেশে চা বাগান আছে ১৬৪টি। এসব বাগান থেকে প্রতি বছর প্রায় ছয় কোটি কেজি চা উত্পাদন হয়। বাগান মালিকেরা তাঁদের নির্ধারিত প্রতিনিধির (ব্রোকার হাউস) মাধ্যমে নিলাম বাজারে চা বিক্রি করে থাকেন।
নিলাম বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এভাবে নিলাম বাজারে ক্রেতা পাওয়া না গেলে প্রত্যক্ষভাবে চা বাগান মালিক এবং পরোক্ষভাবে দেশের চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশ চা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউছুফ নিলাম বাজারে কোনো চা বিক্রি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রামের নিলাম বাজারে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার চা বিক্রি হয়ে আসছে। সরকারের অতিরিক্ত কর আরোপের কারণে আজ নিলাম বাজারে চা কেনাবেচা হয়নি। প্রথম আলো

বাজারে ফিরে এসেছে চিনি

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের পর বাজারে ফিরে এসেছে চিনি। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে কিছু দোকানে এখনো ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রমজানের নিত্যপণ্যের মধ্যে ছোলা, খেজুর, মুড়ি ও গুড়ের বাজার এখনো চড়া। তবে চাল, ডাল, মটরের (ডাবলি) দাম তেমন একটা বাড়েনি। কয়েক দিন ধরে এ পণ্যগুলোর দাম ব্যবসায়ীরা এতটাই বাড়িয়েছেন যে এখন নতুন করে আর বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। তার চেয়ে বর্তমান দামটিই ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছেন তাঁরা।
এ ছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে গুঁড়ো দুধের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। মুরগির দাম কিছু কমেছে। আর গরু ও খাসির মাংসের দর বেঁধে দিলেও এখনো তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
সরকার-নির্ধারিত দরে চিনি: গত বুধবার চিনির দর বেঁধে দেওয়ার পর বাজার থেকে উধাও ছিল চিনি। সেই চিনির দেখা মিলেছে গতকাল সোমবার। যেসব দোকানে চিনি ছিল, গতকাল সেগুলোয় বিক্রি হয়েছে সরকার-নির্ধারিত ৬৫ টাকা দরে।
সকালে পলাশী বাজারে গিয়ে বেশির ভাগ দোকানে চিনির দেখা মেলে। কয়েকজন দোকানি জানান, পাইকারি বাজার থেকে ঠিকমতো সরবরাহ করায় তাঁরা এখন চিনি আনতে পারছেন। এ কারণে ৬৫ টাকায় বিক্রিও করতে পারছেন।
তবে পলাশী বাজারেরই কয়েকটি দোকানে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। কারণ জানতে চাইলে দোকানিরা জানান, এ কয়দিন ৭০ টাকায় পাইকারি বাজার থেকে চিনি কিনেছেন। এ দামে বিক্রি করেই তাঁদের লোকসান হচ্ছে। ৬৫ টাকায় এ চিনি বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন বলে তাঁরা জানান।
হাতিরপুল বাজারের ভেতর ও বাইরে, পূর্ব তেজতুরী বাজার এবং পল্টনের বিভিন্ন দোকানেও ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গতকাল দুপুরে নয়াবাজারের অধিকাংশ দোকানে চিনি পাওয়া যায়নি। তিনটি দোকানে চিনি থাকলেও ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দাম চাওয়া হয়। এক দোকানি এইমাত্র চিনি এসেছে বলে জানান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, এখন থেকে ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন।
গত কয়েক দিনের চিনিশূন্য কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোতেও গতকাল দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রায় সব দোকানেই চিনি বিক্রি হচ্ছে। দোকানি মাসুদ রানা বলেন, ‘এত দিন বাজারে চিনি ছিল না। আমরা কিনতে গিয়েও পাইনি। গতকাল (রোববার) বাজারে দু-তিন হাজার বস্তা চিনি এসেছে। এ কারণে সব দোকানে এখন চিনি আছে।’
খোলা সয়াবিন এখনো কম: নয়াবাজারের বেশির ভাগ দোকান ঘুরে খোলা সয়াবিন তেলের দেখা মেলেনি। একই অবস্থা পলাশী ও হাতিরপুল বাজারেও। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১৩ টাকা পর্যন্ত। তবে কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং বিক্রিও হচ্ছে সরকার-নির্ধারিত দাম ১০৯ টাকায়।
খুচরা দোকানগুলোয় বেশি বিক্রি হচ্ছে বোতল ও প্যাকেটজাত তেল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়।
চালের দর খুচরায় বেশি: পাইকারি বাজারে গত কয়েক দিনে চালের দাম বাড়েনি। তবে খুচরা বিক্রেতারা চাল বিক্রি করছেন বেশি দামে। এক সপ্তাহে কোনো কোনো চালের দাম দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে মোটা চালের দাম গতকাল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা দেখানো হলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। নয়াবাজার কাঁচাবাজারে বিআর-২৮ চাল ৩৮ থেকে ৪০, নাজিরশাইল ৪৮ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজার ও পলাশী বাজারে দর ছিল নাজিরশাইল ৫২, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৬, পারিজা ৪০ ও পাইজাম ৩৮ থেকে ৪২ টাকা।
ছোলার দাম চড়ছেই: সাধারণ মানুষ যে ছোলাটা কেনে, রাজধানীর খুচরা দোকানগুলোয় তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর উন্নত মানের ছোলার দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, ছোলার দাম কমেছে। রাজধানীর রহমতগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জে সাধারণ ছোলা ৫৮ থেকে ৬০ এবং উন্নত মানের ছোলা সর্বোচ্চ ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই ধরনের ছোলাতেই দাম কমেছে দুই টাকা।
এ ছাড়া খুচরা দোকানে দেশি মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯৫, বিদেশি ডাল ৭৫ থেকে ৮০ এবং মুগ ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের বাজার গরম: রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানে চড়া দামে খেজুর বিক্রি হচ্ছে। বাংলা খেজুর ৬০, মরিচা ১০০ থেকে ১২০, নাগা ১১০ থেকে ১২০, বড়ই ১৭০ থেকে ১৮০ ও মরিয়ম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত খেজুরের দাম আরও চড়া।
বেড়েছে গুঁড়ো দুধের দাম: গত এক সপ্তাহে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। দোকানিরা জানান, এক কেজির প্যাকেটের মার্কস দুধের দাম ৪২০ থেকে বেড়ে ৪৪০, ফ্রেশ ৪১৫ থেকে ৪২৫, ডিপ্লোমা ৪৯০ থেকে ৫১০ টাকা হয়েছে।
মাংস ও মুরগি: ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংস ২৭০ এবং বিদেশি গরুর মাংস ২৫০, মহিষের মাংস ২৪০, খাসির মাংস ৪০০, বকরি ও ভেড়ার মাংস ৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।
কারওয়ান বাজারে গিয়ে গতকাল গরুর মাংস ২৭০ ও খাসির মাংস ৪২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার ধূপখোলা বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম ছিল ২৭০ ও ৪০০ টাকা।
তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। কারওয়ান বাজারে এর দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজিতে। আর দুই বাজারেই দেশি মুরগির দর ছিল যথাক্রমে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা।
ডিসিসিকে চিঠি: রাজধানীর সব দোকানে দৃশ্যমান স্থানে নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) গতকাল চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে খুচরা দোকানিরা ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করতে পারবেন না।
আমাদের চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে গতকাল চিনির সরবরাহ বেড়েছে। এস আলম গ্রুপ উৎ পাদন শুরুর পর ২৪০ জন পরিবেশকের মাধ্যমে চিনি সরবরাহ করছে। গতকাল থেকে ব্যবসায়ী গ্রুপটি পাঁচটি স্থানে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি শুরু করেছে। এ পাঁচ স্থানে ৬৫ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। তবে সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সরকারি দরের চেয়ে লিটারপ্রতি দুই টাকা কমে অর্থাৎ ১০৭ টাকায়।
এস আলম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মীর মইনুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ন্যায্যমূল্যের কেন্দ্রের সংখ্যা ২০-২৫টিতে উন্নীত করা হবে।
এ ছাড়া বিএসএম গ্রুপ ১৪ জন পরিবেশকের মাধ্যমে গতকাল থেকে ছয় টন করে চিনি সরবরাহ করছে। পরিবেশকদের কাছে এই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়। পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতাদের কেজিপ্রতি ৬৩ টাকায় চিনি সরবরাহ করবেন। পাশাপাশি আজ মঙ্গলবার থেকে ৫৫ টাকায় ছোলাও বিক্রি করবে প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাজারে এখন আগের চেয়ে চিনির সরবরাহ বেশি। এ কারণে চিনির দামে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।
খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজার থেকে ন্যায্যমূল্যে চিনি কিনতে পারায় চট্টগ্রামের কয়েকটি বাজারের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে চিনি বিক্রি হচ্ছে। কাজীর দেউড়ি বাজারের খান ডিপার্টমেন্ট স্টোর গতকাল ৬৪ টাকায় তিন বস্তা চিনি কিনে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে।
আবার বেশি দামে কেনা খুচরা ব্যবসায়ীরা এখনো ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন। কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারের রাকিন ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো সরকারি দামে চিনি কিনতে পারিনি। এ কারণে এই বাজারে ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি হচ্ছে।’

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More